
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে বাংলা ভাষার মরমি দার্শনিক, মানবতাবাদী ও কিংবদন্তি বাউল সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে শনিবার (১৭ অক্টোবর) আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলা সংস্কৃতি ও সাহিত্যে লালন সাঁইয়ের অসামান্য অবদান এবং মানবতা, সাম্য ও সামাজিক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে তাঁর দর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে কাঠমান্ডুতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য, নেপালের সাহিত্যাঙ্গনের প্রতিনিধি, যুবনেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং ঢাকায় দায়িত্ব পালনকারী নেপালের সাবেক কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত লালন সাঁইয়ের চিরায়ত দর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরে একে বাঙালি সংস্কৃতি ও জাতিসত্তার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, লালনের গান ভৌগোলিক ও ধর্মীয় সীমানা অতিক্রম করে প্রচলিত সাংস্কৃতিক ও সামাজিক গোঁড়ামিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে এবং মানবতাবাদী চিন্তাধারাকে মহিমান্বিত করেছে।
লালনের কালজয়ী গানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অভিন্ন মানবসত্তাকে উপলব্ধি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, লালনের শিক্ষা আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় আজও অনুপ্রেরণা জোগায়।
বাউল সম্প্রদায়ের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক সংগীতচর্চার তাৎপর্য তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাউল সংস্কৃতি বাঙালি সমাজ ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। লালনের গানের সর্বজনীন আবেদন ও তাৎপর্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ইউনেসকো বাউল সংগীতের ঐতিহ্যকে মানবতার অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ ও নেপালের জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত রহমান বলেন, উভয় দেশই তাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের চর্চা থেকে শক্তি অর্জন করে। সাংস্কৃতিক বিনিময় পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি, বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জোরদার এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি শিল্পীরা লালনগীতি পরিবেশন করেন এবং লালনের কবিতা আবৃত্তি করেন। এসব পরিবেশনার মাধ্যমে অতিথিরা বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি স্বতন্ত্র ধারার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান। এ ছাড়া লালন সাঁইয়ের জীবন, দর্শন এবং বাঙালি সমাজ, সংস্কৃতি ও সাহিত্যে তাঁর অবদান নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে মধ্যাহ্নভোজে আপ্যায়ন করা হয়।