
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
বিদ্রোহের আগুন, প্রেমের আবেগ আর সাম্যের স্বপ্ন—সবকিছুকে নিজের সৃষ্টিতে ধারণ করা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে হারানোর ৫০ বছর পূর্ণ হলো আজ। ১৯৭৬ সালের ২৭ আগস্ট ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্যের এই কালজয়ী স্রষ্টা। মৃত্যুর অর্ধশতাব্দী পেরিয়েও তাঁর কবিতা-গান অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, মানবমুক্তি ও জাগরণের শক্তি হয়ে মানুষের হৃদয়ে অনুরণিত হচ্ছে।
কাজী নজরুল ইসলাম ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। কবিতা, গান, উপন্যাস, গল্প, নাটক, প্রবন্ধ ও সাংবাদিকতার পাশাপাশি সংগীতের বিভিন্ন ধারায়ও তাঁর ছিল অসামান্য অবদান। হামদ, নাত, গজল ও শ্যামাসংগীতসহ বাংলা সংগীতকে বৈচিত্র্যময় রাগ-রাগিণী ও বিপুলসংখ্যক সৃষ্টিতে সমৃদ্ধ করেছেন তিনি।
১৮৯৯ সালের ২৪ মে পশ্চিমবঙ্গের
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন নজরুল। পরাধীনতার বিরুদ্ধে তাঁর লেখনী ছিল অত্যন্ত সোচ্চার। স্বাধীন বাংলাদেশের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক গভীর। ১৯৭২ সালের ২৪ মে তাঁকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। পরে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে জাতীয় কবির মর্যাদা দেয়। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি এবং ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ও একুশে পদক দেওয়া হয়।
জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন কবির সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি নজরুল ইনস্টিটিউটে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী নজরুল’ শীর্ষক আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও হামদ-নাত এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে দিনব্যাপী আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে নজরুলের যে বার্তা, অর্ধশতাব্দী পরও তা বাঙালির জাতীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
/টি