
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
চারণভূমি সুরক্ষা ও টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, এমপি। বুধবার মঙ্গোলিয়ার উলানবাটরে জাতিসংঘ মরুকরণ প্রতিরোধ কনভেনশনের (UNCCD) ১৭তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (COP17)-এর “Restoration of Rangelands and the Well-being of Pastoralist Communities” শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপে তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, খাস ও কমিউনিটি জমির সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত করতে না পারলে দীর্ঘমেয়াদে কোনো উদ্যোগই কার্যকর ও টেকসই হবে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রচলিত অর্থে বিস্তীর্ণ চারণভূমির দেশ না হলেও দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, জনসংখ্যার চাপ এবং বিভিন্ন ধরনের ভূমি ব্যবহারের কারণে দেশে পশুচারণের জায়গা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে চারণভূমির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে কমিউনিটি ও খাস চারণভূমি চিহ্নিত করে মানচিত্রভুক্ত করা, স্থানীয় প্রশাসন ও জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং ভূমি ব্যবহারসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে সহজ ও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বাংলাদেশের জলাভূমি ও বন্যা-বিধৌত অঞ্চলের পরিবেশগত গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এসব এলাকা মাটির উর্বরতা রক্ষা, পানি নিয়ন্ত্রণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং কার্বন ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও পরিবেশ সংরক্ষণকে পরস্পরবিরোধী হিসেবে না দেখে জাতীয় ভূমি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনায় সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
টাঙ্গুয়ার হাওরের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, কমিউনিটিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে ইতিবাচক ফল দিয়েছে। তবে এ ধরনের উদ্যোগকে দীর্ঘমেয়াদে সফল করতে ধারাবাহিক অর্থায়ন ও স্থায়ী অঙ্গীকার প্রয়োজন।
মন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে টেকসই চারণভূমি ও কমন ল্যান্ড ব্যবস্থাপনাকে জাতীয় জীববৈচিত্র্য কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা এবং ভূমি অবক্ষয়, খরা ও মরুকরণ মোকাবিলার জাতীয় রোডম্যাপের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সমন্বয় করা হবে।
চারণভূমি পুনরুদ্ধার ও টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত অর্থায়ন, জবাবদিহি এবং বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিজের অভিজ্ঞতা অন্যান্য দেশের সঙ্গে ভাগ করে নিতে এবং বিশ্বের কার্যকর উদ্যোগগুলো থেকে শিক্ষা নিতে প্রস্তুত। মন্ত্রী পর্যায়ের এ সংলাপে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও প্রতিনিধি দলের প্রধানরা অংশ নেন।
এমআর//