
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
খুলে দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। আজ শনিবার দুপুরে ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর যৌথ সামরিক কমান্ড এক জরুরি বিবৃতিতে এই অবরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো প্রণালির ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রণ এখন থেকে আবারও সরাসরি সামরিক বাহিনীর হাতে ন্যস্ত থাকবে।
গতকাল শুক্রবার ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে ইরান ঘোষণা করেছিল যে, বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য এই পথটি খুলে দেওয়া হবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি জানিয়েছিলেন, যুদ্ধবিরতি চলাকালে নির্দিষ্ট কিছু রুট অনুসরণ করে জাহাজগুলো যাতায়াত করতে পারবে। এই ঘোষণাটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে
আরাগচির ঘোষণার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ এক কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ইরান প্রণালি খুলে দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো চূড়ান্ত ও সফল চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে। ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান তেহরানকে নতুন করে ভাবিয়ে তোলে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বার্তার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ পাল্টাহুঁশিয়ারি দেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রাখে, তবে ইরানও হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় উন্মুক্ত রাখবে না। ঘালিবাফের এই বক্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই ইরানি সামরিক কমান্ড প্রণালিটি পুনরায় বন্ধ করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তজনা সৃষ্টি করেছে।
বিশ্বের মোট খনিজ তেলের বড় একটি অংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে ইরানের এই আকস্মিক পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কূটনীতিকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই 'ইঁদুর-বেড়াল' লড়াই এবং পাল্টাপাল্টি অবরোধের কারণে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আবারও খাদের কিনারায় গিয়ে পৌঁছেছে।
/টিএ