পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে প্রতিবছর বিদেশে পাড়ি জমান বহু মানুষ। কিন্তু দালালদের খপ্পরে পড়ে অনেকের সে স্বপ্ন থমকে যায়। জমি-বাড়ি বিক্রি করে বিদেশে যাওয়ার পথ তৈরি করলেও বাস্তবে অনেকেই হয়ে পড়েছেন প্রতারিত। এমনকি বৈধপথে প্রতি বছর লাখ লাখ শ্রমিককে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর সুযোগ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে ভিসা সিন্ডিকেট, দালাল ও দুর্নীতির কারণে খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে মাথাপিছু ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত। এমন করূণ অবস্থার অবসানে হঠাৎ এক সুখবর দিচ্ছে মালয়েশিয়া। দেশটি একেবারে বিনাখরচে বাংলাদেশি শ্রমিক নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
এবার থেকে আর দালাল ধরে নয় বরং নিয়োগকর্তার খরচেই মালয়েশিয়ায় আসতে পারবেন শ্রমিকরা। ভিসা, মেডিকেল এমনকি বিমান ভাড়াসহ সব খরচই এখন থেকে নিয়োগকর্তাই

বহন করবে। বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য এবার এমন অভিনব প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়া আসার সুযোগ করে দিয়েছে দেশটির সরকার।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে এমন অভাবনীয় সুবিধা এবার থেকে পেতে চলেছে অভিবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকরা। জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) নীতিমালা মেনে গড়ে তোলা হয়েছে ইউনিভার্সেল রিক্রুটমেন্ট প্রসেস (ইউআরপি) এবং ডাইরেক্ট লেবার রিক্রুটমেন্ট (ডিএলআর) প্ল্যাটফর্ম। আর পুরো সিস্টেমটাই চলবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে। ফলে শ্রমিক ও নিয়োগকর্তার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ হবে, কোনো দালাল বা সিন্ডিকেট ঢুকতে পারবে না।
শ্রমিকরা সরাসরি অনলাইনে নিবন্ধন করতে পারবেন, নিয়োগকর্তাও সরাসরি প্রার্থী বাছাই করবেন। ফলে অতীতে যেখানে একজন শ্রমিককে মালয়েশিয়া যেতে গুনতে হতো ৪-৫ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ৫-৬ লাখ টাকা), সেখানে এবার খরচ কার্যত শূন্য। শুধু প্রথম মাসের বেতন থেকে সার্ভিস চার্জ কেটে নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অভিবাসন ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে, দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে এবং শ্রমবাজারে বাংলাদেশ নতুন মর্যাদা পাবে।
তবে এর বড় চ্যালেঞ্জও আছে। দেশের ভেতরে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর দ্বন্দ্ব, দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা এবং অতীতের মানবপাচারের অভিযোগ এখনো ঝুলে আছে। এসব জটিলতা না মিটলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে প্রবেশ আবারও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
তবুও আশার আলো জ্বলছে। মালয়েশিয়া ইতিমধ্যেই সাড়ে ২৪ লাখ কর্মীর জন্য কলিং ভিসা কোটা উন্মুক্ত করেছে। কৃষি, বাগান, নির্মাণ, সার্ভিস সেক্টরসহ ১৩টি খাতে বাংলাদেশিরা যেতে পারবেন। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে,এবার সত্যিই যদি শূন্য খরচে শ্রমিক পাঠানো সম্ভব হয়, তাহলে বাংলাদেশের অভিবাসন খাতে শুরু হবে এক নতুন যুগান্তকারী অধ্যায়।
এমি/এটিএন বাংলা