
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিহাস গড়া রেকর্ড দামের পরই হঠাৎ বড় ধাক্কা খেল সোনার বাজার। সাড়ে পাঁচ হাজার ডলারের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলার মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। টানা দুই দিনে বাংলাদেশে ভরিপ্রতি সোনার দাম কমেছে মোট ৩০ হাজার ৪০০ টাকা, যা সাম্প্রতিক সময়ে নজিরবিহীন।
দেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি—বাজুস—সর্বশেষ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে নতুন দাম ঘোষণা করে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এক ভরি সোনার দাম কমানো হয়েছে ১৫ হাজার ৭৬২ টাকা। এর আগের দিন শুক্রবার সকালে আরও ১৪ হাজার ৬৩৮ টাকা কমানো হয়। বাজুস বলছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি
বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম উঠে যায় ৫ হাজার ৫৫০ ডলারের ওপরে, যা ছিল ইতিহাসের সর্বোচ্চ। তবে রেকর্ড ছোঁয়ার পর মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে প্রতি আউন্সে দাম কমেছে প্রায় ৬৬০ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৮০ হাজার ৫০০ টাকারও বেশি। এত অল্প সময়ে এত বড় দরপতন সোনার বাজারে অস্থিরতার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর মধ্যে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে উত্তেজনা, একই সঙ্গে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা এবং ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সোনার দামকে দ্রুত রেকর্ড উচ্চতায় নিয়ে যায়। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে চাহিদা বাড়ায় দামও লাফিয়ে বাড়তে থাকে। তবে রেকর্ড দামে পৌঁছানোর পর এখন অনেক বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নিতে শুরু করেছেন, ফলে দরপতন দেখা যাচ্ছে।
এদিকে বাজুসের সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৬৩ টাকা। ২১ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ২২ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৩ টাকা। একই সঙ্গে রুপার দামও নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাজারে স্বর্ণ ও রুপা—দুই ক্ষেত্রেই বড় ওঠানামার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
/টিএ