
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো নয়াদিল্লি সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন সি. জোসেফ থালাপতি বিজয়। বুধবার (২৭ মে) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত প্রায় ২০ মিনিটের এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে তিনি তামিলনাড়ুর স্বার্থসংশ্লিষ্ট তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল দাবি তুলে ধরেন। কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি এই বৈঠকে পানি বণ্টন এবং রাজ্যের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মতো বিষয়গুলোই মূল প্রাধান্য পেয়েছে।
বৈঠকের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী বিজয় হল্যান্ড (নেদারল্যান্ডস) থেকে প্রাচীন ঐতিহাসিক তাম্রফলক ভারতে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। বিজয়ের মতে, এই তাম্রফলক ফিরিয়ে আনা তামিল সংস্কৃতির গৌরব পুনরুদ্ধারের একটি বড়
এরপরই দুই নেতার আলোচনায় উঠে আসে কর্ণাটকের প্রস্তাবিত মেকেদাতু বাঁধ প্রকল্প নিয়ে তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের গভীর উদ্বেগ। প্রধানমন্ত্রীকে বিজয় সাফ জানিয়ে দেন, দুই রাজ্যের সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় কর্ণাটক যদি একতরফাভাবে বাঁধ নির্মাণ করে, তবে তামিলনাড়ুর নিম্নপ্রবাহ অঞ্চলে পানির প্রাপ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কর্ণাটক সরকারের এমন যেকোনো পদক্ষেপ কাবেরী পানি বিরোধ ট্রাইব্যুনাল এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সুস্পষ্ট অবমাননা ও চেতনার পরিপন্থী হবে।
পানির পাশাপাশি তামিল সংস্কৃতির মর্যাদার প্রশ্নে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তোলেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। তিনি ভারতের সমস্ত কেন্দ্রীয় সরকারি অনুষ্ঠানের শুরুতে তামিলনাড়ুর রাজ্য সংগীত বাজানোর অনুমতি দেওয়ার জন্য মোদির কাছে আহ্বান জানান। মূলত, চলতি বছরের জানুয়ারিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নির্দেশনায় বলা হয়েছিল—জাতীয় সংগীত ও জাতীয় গান একসঙ্গে পরিবেশিত হলে প্রথমে 'বন্দে মাতরম'-এর ছয়টি স্তবক গাইতে হবে। বিজয় চান, জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি তামিলনাড়ুর রাজ্য সংগীতকেও যেন সরকারি অনুষ্ঠানে যথাযথ মর্যাদা ও সুযোগ দেওয়া হয়।
চলতি মাসে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণের পর এটিই ছিল থালাপতি বিজয়ের প্রথম আনুষ্ঠানিক দিল্লি সফর। মোদি-বিজয় এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠকটি ভারতের রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে কাবেরী নদীর পানি বণ্টনকে ঘিরে তামিলনাড়ু ও কর্ণাটকের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধের প্রেক্ষাপটে মেকেদাতু বাঁধের বিষয়টি এবং তামিল সংস্কৃতির অধিকার নিয়ে বিজয়ের এই অনড় অবস্থান ভারতের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।
সূত্র: এনডিটিভি
/টিএ