
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ইতিহাসে লিওনেল মেসি কেবল একজন খেলোয়াড় নন, বরং এক বিশাল অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছেন। ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে তার পারফরম্যান্স যেমন উজ্জ্বল হয়েছে, তেমনি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে তার বেতন ও মর্যাদা। সম্প্রতি এমএলএস প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন প্রকাশিত ২০২৬ মৌসুমের বেতন তালিকায় দেখা গেছে, লিগের মোট ৩০টি দলের মধ্যে ২৮টি দলের পুরো স্কোয়াডের সম্মিলিত বেতনের চেয়েও মেসির একার আয় বেশি। বর্তমানে তার মূল বেতন ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকারও বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে মেসির প্রভাব মাঠের খেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে বাণিজ্যিক দিগন্তেও ছড়িয়ে পড়েছে। ২০২৩ সালে পিএসজি ছেড়ে ইন্টার মায়ামিতে
আর্থিক তুলনার ক্ষেত্রে মেসি এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছেন। বার্তা সংস্থা এপি-র তথ্যমতে, মেসি আগে থেকেই এমএলএসের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া খেলোয়াড় ছিলেন। বর্তমানে তিনি লিগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া তারকা দক্ষিণ কোরিয়ার সন হিউং-মিনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি আয় করছেন। তার মোট গ্যারান্টিযুক্ত পারিশ্রমিক দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৮৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৩ ডলারে। উল্লেখ্য যে, এই বিশাল অংকের মধ্যে মার্কেটিং বোনাস ও এজেন্ট ফি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও অন্যান্য বাণিজ্যিক বা পারফরম্যান্স বোনাস যুক্ত করা হয়নি।
মেসির আগমনে তার ক্লাব ইন্টার মায়ামির সামগ্রিক ব্যয় কাঠামোতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। গত বছর ক্লাবটি খেলোয়াড়দের বেতনে ব্যয় করত ৪ কোটি ৬৮ লাখ ডলার, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৪৬ লাখ ডলারে। এর ফলে মায়ামি এখন লিগের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ক্লাবে পরিণত হয়েছে। তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা লস অ্যাঞ্জেলস এফসি ব্যয় করছে ৩ কোটি ২৭ লাখ ডলার। অন্যদিকে, লিগের সর্বনিম্ন ব্যয় করা দল ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের খরচ মাত্র ১ কোটি ১৭ লাখ ডলার, যা মেসির একার আয়ের অর্ধেকও নয়।
গত অক্টোবরে ইন্টার মায়ামির সঙ্গে ২০২৮ মৌসুম পর্যন্ত নতুন তিন বছরের চুক্তিতে সই করেছেন মেসি। এই চুক্তির মাধ্যমে তার ভবিষ্যৎ যেমন নিশ্চিত হয়েছে, তেমনি এমএলএস ফুটবলে তার রাজত্ব আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে। শুরুতে তার মূল বেতন ১ কোটি ২০ লাখ ডলার থাকলেও বর্তমান চুক্তিতে তা দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। মেসির এই বিশাল আর্থিক প্রভাব এটিই প্রমাণ করে যে, বিশ্ব ফুটবলে তার ব্র্যান্ড ভ্যালু আজও অতুলনীয় এবং তিনি একাই একটি লিগের অর্থনৈতিক চেহারা বদলে দিতে সক্ষম।
/টিএ