
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ধেয়ে আসছে শক্তিশালী এল নিনো, তীব্র তাপদাহের জন্য কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?
সম্প্রতি কয়েক দিন ধরে রাজধানী ঢাকা সহ সারা দেশে তীব্র গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। ঘরে বাইরে কোথাও যেন শীতল বাতাসের দেখা নেই। ছোট থেকে বড় সব বয়সের মানুষেরই এখন হাসফাঁস অবস্থা। হঠ্যৎ করেই প্রকৃতির এমন রুদ্ররূপ মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে আদও এই গরম কমবে কবে। কিন্তু এরই মধ্যে এবারে আবহাওয়া অধিদপ্তর নয় বরং সতর্কতা এসেছে সরাসরি জাতিসংঘ থেকে।
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নতুন করে এল নিনো আবহাওয়া প্যাটার্ন শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। এতে শুধু বাংলাদেশেই নয় বরং বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়াও চলমান উষ্ণ আবহাওয়া পরিস্থিতি
প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে যখন বাতাস দিক পরিবর্তন করে, তখন সমুদ্রের উপরিভাগের পানি অস্বাভাবিক গরম হয়ে ওঠে। এই ফুটন্ত সমুদ্রই হলো এল নিনো। জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থা ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন জানিয়েছে, ২০২৬ সালের বাকি সময় জুড়ে এল নিনো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে, যা বৈশ্বিক জলবায়ুর ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
এর আগে বিভিন্ন আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করে বলেছিল, চলতি বছরের এল নিনো ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যাকে তারা সুপার এল নিনো হিসেবে উল্লেখ করছে। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের একজন আবহাওয়াবিদ জানিয়েছেন, এবারের এল নিনো আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এল নিনো কখন শুরু হবে তা নির্দিষ্ট ভাবে পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন। তবে প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা ও বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এল নিনো পুরোপুরি সক্রিয় হলে বাংলাদেশ সহ দক্ষিণ এশিয়ায় বৃষ্টিপাত কমে যাবে আশংকাজনক ভাবে। ফলে কৃষিক্ষেত্রে ও পরিবেশে তীব্র পানি সংকট দেখা দিতে পারে। এছাড়াও অতিরিক্ত গরমে হিট স্ট্রোক, ডায়রিয়া এবং পানি শূণ্যতার মতো রোগবালাই ব্যাপক হারে বাড়তে পারে।
বিজ্ঞানীরা বলছে, প্রকৃতির এই পরিবর্তন ঠেকানো অসম্ভব। তবে সঠিক প্রস্তুতি এখন থেকেই না নিলে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের সাধারন মানুষকে চরম মূল্য চুকাতে হতে পারে।
এফ/এইচ