
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
আওয়ামী সরকারের কারনে ফারাক্কা বাঁধ এখন ‘মরণফাঁদে‘ পরিণত হয়েছে: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পরিবেশগত ঝুঁকি উপেক্ষা করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ভারতকে ফারাক্কা বাঁধের যে পরীক্ষামূলক চালুর অনুমতি দিয়েছিল। সেই বাঁধ এখনো চালু থাকায় তা বর্তমানে দেশের জন্য ‘মরণফাঁদে’ রূপ নিয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী এই বাঁধের কারণে বাংলাদেশ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস’ উপলক্ষে শুক্রবার (১৫ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ভারতে গঙ্গা নদীর ফারাক্কা পয়েন্টে বাঁধ নির্মাণ করে অভিন্ন নদীর পানি একতরফা প্রত্যাহার শুরু করা হয়।যার ফলে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল প্রায় মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। ওই এলাকায় পানিসহ নানাবিধ প্রাকৃতিক
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ১৬ মে বাংলাদেশের জাতীয় আন্দোলনের এক ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যময় দিন। আজ থেকে ৪৯ বছর আগে অবিসংবাদিত মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ডাকে সারা দেশ থেকে লাখো জনতা ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত গঙ্গা নদীর পানি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ন্যায্য হিস্যা আদায়ের সংগ্রামে ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক লংমার্চে অংশ নেয়।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং সম্ভাব্য প্রাকৃতিকও মানবিক বিপর্যয়ের বিষয়গুলো বিবেচনায় না এনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের মতামত উপেক্ষা করে। তারা ভারতকে পরীক্ষামূলক ভাবে কয়েক দিনের জন্য ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমতি দেয়। তবে সেই বাঁধ এখনো চালু থাকায় এটি দেশের জন্য এক ধরনের ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। তার অভিযোগ, তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশের মানুষ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই বঞ্চনা এবংসম্ভাব্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা থেকেই দূরদর্শী রাজনৈতিক নেতা মওলানা ভাসানী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক মিছিল করেন। ওই কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি ভারত সরকারের কাছে প্রতিবাদ জানান এবং বিষয়টি বিশ্বসম্প্রদায়ের নজরে আনেন। এরপর থেকেই ব্যাপক মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কার সঙ্গে যুক্ত ফারাক্কা বাঁধ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়।
ফারাক্কা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, আন্তর্জাতিক আইন-কানুন ও কনভেনশনের তোয়াক্কা না করে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণে নদীর ধারাকে বাধাগ্রস্ত করে একতরফা নিজেদের অনুকূলে পানি প্রত্যাহার বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ নিষ্ফলা ঊষর ভূমি হয়ে ওঠার আলামত ইতোমধ্যেই ফুটে উঠেছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ন্যায্য পাওনা আদায়ের সংগ্রামে ১৬ মে ১৯৭৬ সালে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে জনগণের ঐতিহাসিক মিছিল রাজশাহী থেকে ফারাক্কা অভিমুখে অকুতোভয় সাহসী পদক্ষেপে এগিয়ে গিয়েছিল। তাই প্রতি বছর১৬ মে ‘ঐতিহাসিক ফারাক্কাদিবস’ যেকোনো অধিকার আদায়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে।
পানির সঠিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ১৯৭৬ সালের ১৬মে মওলানা ভাসানীর সাহসী নেতৃত্বে রাজশাহী থেকে ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক মিছিলটি এগিয়ে যায়। জনগণের সেই অকুতোভয় পদক্ষেপের স্মরণে প্রতি বছর ১৬ মে ‘ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস’ উদযাপিত হয়, যা যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ে জনগণকে উজ্জীবিত করে। দেশের অস্তিত্বও পরিবেশ রক্ষায় ফারাক্কা দিবসের এই ঐতিহাসিক শিক্ষা আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
এফ/এইচ