logo
youtube logotwitter logofacebook logo

লোহাগাড়া

আজ কক্সবাজারে ছুটবে ‘স্বপ্নের রেলগাড়ি’ - image

আজ কক্সবাজারে ছুটবে ‘স্বপ্নের রেলগাড়ি’

10 নভেম্বর 2023, বিকাল 6:00

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা, তারপরই উদ্বোধন করা হবে দোহাজারী- কক্সবাজার রেলপথে স্বপ্নের ট্রেন চলাচল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার (১১ নভেম্বর) কক্সবাজারে নবনির্মিত আইকনিক স্টেশনে এই রেলপথ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। কক্সবাজার শহরের ঝিলংজায় ঝিনুকের আদলে তৈরি এশিয়ার সর্ববৃহৎ আইকনিক রেল স্টেশনকে সাজানো হয়েছে মনোরমভাবে। এখানে যাত্রা শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে নতুন একটি ট্রেন। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রেলপথ চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রেলপথ ১৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এর মধ্যে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৮ কিলোমিটার পথ ব্রিটিশ আমলে তৈরি। দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০২ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি হাতে নেয় বর্তমান সরকার। এটি প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার বিবেচনায় গৃহীত একটি মেগাপ্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় সংস্কার করা হয়েছে শতবর্ষী কালুরঘাট সেতু। দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মো. সুবক্তগীন জানান, ২০১৮ সালের জুলাইয়ে দোহাজারী থেকে কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণে মেগাপ্রকল্পটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এই প্রকল্পে ১০২ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এর অর্থায়ন করেছে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকার। প্রকল্পে যা আছে   দোহাজারী থেকে রামু পর্যন্ত ৮৮ কিলোমিটার, রামু থেকে কক্সবাজার ১৪ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ হয়েছে। রেলপথে স্টেশনের সংখ্যা থাকছে নয়টি। এগুলো হলো—সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চকরিয়ার সাহারবিল, ডুলাহাজারা, ঈদগাঁও, রামু, কক্সবাজার সদর, উখিয়া ও ঘুমধুম। এতে কম্পিউটার বেইজড ইন্টারলক সিগন্যাল সিস্টেম থাকবে নয়টি, ডিজিটাল টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম থাকবে নয়টি। সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর ওপর নির্মাণ করা হয়েছে সেতু। এ ছাড়া ৪৩টি ছোট সেতু, ২০১টি কালভার্ট, সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া এলাকায় একটি ফ্লাইওভার, ১৪৪টি লেভেল ক্রসিং এবং রামু ও কক্সবাজার এলাকায় দুটি হাইওয়ে ক্রসিং রয়েছে। মনোমুগ্ধকর আইকনিক রেলস্টেশন কক্সবাজার শহর থেকে তিন কিলোমিটার পূর্বে ঝিলংজা ইউনিয়নের হাজিপাড়া এলাকায় ২৯ একর জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে আইকনিক রেলস্টেশন। ঝিনুকের আদলে তৈরি দৃষ্টিনন্দন এই স্টেশন ভবনটির আয়তন এক লাখ ৮২ হাজার বর্গফুট। ছয়তলা ভবনটির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আইকনিক রেল স্টেশন দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন বিপুল মানুষ। রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন গত বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) ও পরদিন শুক্রবার কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প এবং আইকনিক স্টেশন ভবন পরিদর্শন করেছেন। প্রকল্পের উদ্বোধন সম্পর্কে তিনি সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনাও প্রদান করেছেন। রেলমন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজারে ট্রেনে করে আসার জন্য সারা দেশের মানুষ ভীষণ আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছে। এই রেলপথ পর্যটন শিল্পে আমূল পরিবর্তন আসবে।’ মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সবার জন্য গর্বের একটা বিষয় কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশন ভবন। এ রকম অনন্য স্থাপনা অন্য কোথাও নেই। ঝিনুকের আদলে তৈরি স্টেশনটিতে আবাসিক হোটেলের পাশাপাশি ক্যান্টিন, লকার, গাড়ি পার্কিং ইত্যাদি ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পর্যটকরা স্টেশনের লকারে লাগেজ রেখে সারাদিন সমুদ্র সৈকতে বা দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে পারবেন। এই স্টেশন দিয়ে দিনে ৪৬ হাজার মানুষ আসা-যাওয়া করতে পারবেন।’ দোহাজারী-কক্সবাজার রেলওয়ে প্রকল্পের কনস্ট্রাকশন ম্যানেজার আবদুল জাবের মিলন বলেন, সমুদ্র সৈকত থেকে তিন কিলোমিটার দূরে ঝিলংজা এলাকায় ২৯ একর জমিতে ২১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন স্টেশন। আইকনিক এই স্টেশনটি নির্মাণে চীন, বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড, ইতালিসহ বিশ্বের বিভিন্ন আধুনিক স্টেশনের সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। পুরো প্রকল্পটিতে ১১০ জন বিদেশিসহ মোট ২৫০ জন প্রকৌশলী এবং ছয় শতাধিক লোক কাজ করছে। চার বছরের শ্রমে অনন্য সুন্দর রেলস্টেশন ভবনটি আজ দৃশ্যমান। রেলমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই স্টেশন হবে এশিয়ার প্রথম শতভাগ পর্যটনবান্ধব কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ছয়তলা স্টেশন। এতে রয়েছে পর্যটকদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা। পর্যটকরা যেন কক্সবাজারে দিনে এসে ঘুরে আবার ফিরে যেতে পারেন, সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। স্টেশনে রাখা হচ্ছে লাগেজ ও লকার সিস্টেম। এ ছাড়া থাকছে আধুনিক ট্রাফিক সুবিধা। স্টেশনের নিচতলায় থাকছে টিকেট কাউন্টার, অভ্যর্থনা কেন্দ্র, লকারসহ নানান সুবিধা। দ্বিতীয় তলায় শপিংমল ও রেস্তোরাঁ। তিন তলায় থাকবে তারকা মানের হোটেল। থাকছে মসজিদ, শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র ও চলন্ত সিঁড়ি। এখনে থাকছে এটিএম বুথ, পোস্ট অফিস, ট্যুরিস্ট ইনফরমেশন বুথসহ নানান সেবা কেন্দ্র।’ বদলে যাবে কক্সবাজার হাজারো লোক প্রতিদিন কক্সবাজার আইকনিক রেল স্টেশনে দেখতে আসছেন। রেলস্টেশনে কথা হয় শিক্ষক শফিউল আলমের সঙ্গে। তিনি স্থানীয় পোকখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। কক্সবাজারে ট্রেন আসায় উচ্ছ্বসিত শিক্ষক শফিউল আলম। তিনি বলেন, ‘স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। আমার বাপ-দাদারা ট্রেনে চড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম যায়নি। এখন আমি ও আমার সন্তানরা ট্রেনে চড়ে যাব। এটা অনেক আনন্দের।’ কক্সবাজার পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আয়াছুর রহমান বলেন, ‘স্বপ্নের রেল এখন পর্যটন শহর কক্সবাজারে। এই রেলপথ বাংলাদেশের উন্নয়নে যুগান্তকারী ঘটনা। ব্রিটিশ, পাকিস্তানের সুদীর্ঘ সময় এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অর্ধশত বছরে যা হয়নি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার তা করে দেখালেন। এই রেলপথ কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিপূর্ণতা দেবে। বিদেশি পর্যটক আনতে সহায়ক হবে। শুধু শীতকালে নয়, বর্ষাসহ সারা মৌসুম পর্যটকরা কক্সবাজার ভ্রমণে উৎসাহিত হবেন।’ আয়াছুর রহমান বলেন, সহজ রেল যোগাযোগের কারণে কক্সবাজার এলাকায় উৎপাদিত পণ্য—মাছ, শুঁটকি, লবণ, পান, সবজিসহ নানান পণ্য পরিবহণ ও বিদেশে রপ্তানির সুযোগ বাড়বে। কক্সবাজারসহ দেশের অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসবে।’ কক্সবাজার-রামু আসনে সংসদ সদস্য সাইমুম সরোয়ার কমল বলেন, ‘দোহাজারী- কক্সবাজার রেল চালু হলে পর্যটকদের যাতায়াত যেমন সহজ হবে। পাশাপাশি স্বল্প সময়ে ও কম খরচে কৃষিপণ্য, মাছ, লবণ পরিবহণ করা যাবে। এতে কক্সবাজারের পর্যটনসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।’ এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘এই রেলপথ মিয়ানমার, চায়নাসহ এই  অঞ্চলের সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের হাব হবে। আন্তর্জাতিক পরিসরে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। কক্সবাজার এলাকায় ব্যাপক হারে বিনিয়োগ হবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।’ দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মো. সুবক্তগীন বলেন, ‘প্রকল্পের অধীনে ১০২ কিলোমিটার রেল ট্র্যাক বসানো হয়েছে। দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথে ৩৯টি ব্রিজ এবং আন্ডারপাসসহ ২৫১টি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। কক্সবাজারে দৃষ্টিনন্দন আইকনিক স্টেশনসহ নয়টি স্টেশনের নির্মাণ কাজ শেষ। এছাড়াও চুনতি এলাকায় একটি আন্ডারপাসের ওপর দিয়ে হাতি চলাচলের জন্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’ সুবক্তগীন জানান, ২০১০ সালে ৬ জুলাই দোহাজারী-রামু-ঘুমধুম রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মেগাপ্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তীতে টেন্ডার হলে দোহাজারী-চকরিয়া এবং চকরিয়া-কক্সবাজার (লট-১ ও লট-২) এই দুই লটে চীনা প্রতিষ্ঠান সিআরসি (চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন) ও দেশীয় প্রতিষ্ঠান তমা কনসট্রাকশন প্রকল্পের নির্মাণ কাজ পায়। কার্যাদেশ দেওয়ার পরপর ২০১৮ সালে এই মেগাপ্রকল্পের কাজ শুরু হয়। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার : সর্বনিম্ন ভাড়া হবে ৫৫ টাকা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পথে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ট্রেন চলাচলের সময় এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এর আগেই নতুন রুটে ভাড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জিএম মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে পর্যটন শহর কক্সবাজারে ট্রেনে করে যেতে লাগবে সর্বনিম্ন ৫৫ টাকা আর সর্বোচ্চ ৬৯৬ টাকা। শোভন চেয়ারে (নন-এসি) বসে যেতে দিতে হবে ২০৫ টাকা। নতুন নির্মিত এই রেললাইনে ট্রেনের ভাড়া বাসের চেয়ে তুলনামূলক ভাবে অনেক কম হবে। অনেক ক্ষেত্রে বাসের তুলনায় অর্ধেকেরও কম হবে।’ নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেনের ভাড়া ঠিক করা হয়েছে। রেলওয়ের মার্কেটিং শাখা থেকে ৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনে ভাড়া চূড়ান্ত করা হয়। তবে এই রুটে কয়টি ট্রেন চলবে, কোন সময়ে চলবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। রেল ভবনের নির্দেশনা পেলে তা ঠিক করা হবে।’ নাজমুল ইসলাম আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে দোহাজারী পর্যন্ত আগে থেকেই রেললাইন আছে। ২০১৮ সালে দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নতুন রেললাইনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। নতুন নির্মিত রেললাইন ১০২ কিলোমিটার দীর্ঘ। এই রেললাইনে মিটারগেজের পাশাপাশি ব্রডগেজ ট্রেনও চলাচল করতে পারবে। এই ডুয়েল গেজ রেললাইন নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১৮ হাজার কোটি টাকা। নতুন রেললাইনে নয়টি স্টেশন রয়েছে।’

নভেম্বর ১০, ২০২৩
ভূমি অফিস নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগের জবাব লোহাগাড়া প্রশাসনের - image

ভূমি অফিস নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগের জবাব লোহাগাড়া প্রশাসনের

21 জুন 2026, বিকাল 7:54

লোহাগাড়া উপজেলা ভূমি অফিসকে ঘিরে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের বিভিন্ন তথ্য ও উপস্থাপনাকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে দাবি করেছে উপজেলা ভূমি প্রশাসন। দপ্তরটির অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি এবং কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি।উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন স্বাক্ষরিত এক লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ‘লোহাগাড়ায় তদবির ছাড়া এগোয় না ফাইল’ শিরোনামের প্রতিবেদনে ভূমি অফিসে সেবা গ্রহণে তদবির ও অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হয় বলে যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দপ্তরের দাবি, এমন অভিযোগের সমর্থনে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা, ভুক্তভোগীর পরিচয়, লিখিত অভিযোগ কিংবা গ্রহণযোগ্য দালিলিক উপাত্ত প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি।লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গ্রহণ ও তথ্য যাচাইয়ের যে সাংবাদিকতাগত প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। ফলে প্রতিবেদনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।প্রতিবেদনে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নামে যে বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে, সে বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে মং এছেন বলেন, প্রতিবেদক তার সঙ্গে কোনো সাক্ষাৎকার বা আনুষ্ঠানিক আলাপ করেননি। তাই তার নামে উদ্ধৃত বক্তব্যের উৎস ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।একইভাবে প্রতিবেদনে উদ্ধৃত ভূমি অফিসের কয়েকজন কর্মচারীর বক্তব্যের বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছে দপ্তরটি। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কর্মচারী রবিউলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের কোনো কথোপকথনই হয়নি। ফলে তার নামে প্রকাশিত বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে।অন্যদিকে সার্ভেয়ার-কাম-কানুনগো নূরে আলমের বিষয়ে ভূমি অফিস জানায়, একজন সাংবাদিক ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে বিভিন্ন অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ব্যক্তিগত মন্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকেন এবং বিষয়টি নিয়ে অফিস প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। এর বাইরে কোনো মন্তব্য তিনি করেননি বলে দাবি করা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপটে সংবাদ সংগ্রহের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে উপজেলা ভূমি প্রশাসন। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের নিজের বা অন্য কোনো ব্যক্তির ভূমি-সংক্রান্ত কাজ না থাকা সত্ত্বেও তিনি দীর্ঘ সময় ধরে অফিসে অবস্থান করে থাকেন।ভূমি অফিসের মতে, বর্তমান সময়ে ভূমি সেবা আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক করতে সরকার বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। এ অবস্থায় যাচাইহীন বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদ সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং সরকারি সেবা কার্যক্রম সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে।তবে প্রকৃত অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অভিযোগের অনুসন্ধান ও প্রকাশকে তারা ইতিবাচকভাবেই দেখে বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করা এবং সাংবাদিকতার পেশাগত মানদণ্ড অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে উপজেলা ভূমি অফিস।

জুন ২১, ২০২৬
বন্যা মোকাবিলায় চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী মোতায়েন - image

বন্যা মোকাবিলায় চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী মোতায়েন

11 জুলাই 2026, বিকাল 4:23

চট্টগ্রাম জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের জরুরি অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন ও ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা বন্যাদুর্গত বিভিন্ন উপজেলায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী উপজেলায় ব্যাপক প্লাবন দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় প্রায় ৪ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।এদিকে বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলাতেও ভারী মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকায় জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে বন্যাকবলিত এলাকায় তিনটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।সেনাসদস্যরা নৌযানসহ বিভিন্ন উপায়ে দুর্গম এলাকায় পৌঁছে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার এবং ত্রাণ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। শনিবার ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর, হারুয়ালছড়ি ও আশপাশের এলাকায় ১০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ বিতরণ করা হয়। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।/টি

জুলাই ১১, ২০২৬
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo