logo
youtube logotwitter logofacebook logo

বিশ্ববাজার

গ্যাসের চাহিদা মেটাতে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ - image

গ্যাসের চাহিদা মেটাতে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ

10 ডিসেম্বর 2015, বিকাল 6:00

এটিএন বাংলা ডেস্ক: বিশ্ববাজারে ধাপে ধাপে কয়লা, তেল ও গ্যাসের দর পতন হওয়ায়, দেশে গ্যাসের চাহিদা মেটাতে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। শুক্রবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহ’-এর সেমিনারে এ কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। তিনি বলেন, পাইপলাইনের গ্যাস পাচ্ছে মাত্র ৩৪ লাখ গ্রাহক। গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করছে ২ হাজার শিল্পকারখানা। প্রতিমন্ত্রী বলেন, গভীর সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানে খরচ, সময়ও লাগব প্রায় ১০ বছর। কুয়েত, কাতার, জাপান ও আমেরিকার উদাহরণ টেনে যতদ্রুত সম্ভব গ্যাসের চাহিদা মেটাতে এলএনজি আমদানিতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

ডিসেম্বর ১০, ২০১৫
ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং, কষ্টে আছে মানুষ - image

ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং, কষ্টে আছে মানুষ

17 এপ্রিল 2023, বিকাল 6:00

বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেকর্ডের মধ্যেও দেশজুড়ে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং হচ্ছে। অসহ্য গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। দিনে-রাতে সব সময়ই বিদ্যুৎ যাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে দিনে-রাতে ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টারও বেশি লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে। অনেক গ্রামে রাতে বিদ্যুৎ আসেই না। এ অবস্থায় ফুঁসে উঠেছে গ্রামের মানুষ। কোনো কোনো গ্রামে পল্লী বিদ্যুৎকেন্দ্রের অফিসেও হামলা হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। শিল্পমালিকরা বলেছেন, একবার কারখানা বন্ধ হলে পুরো কাঁচামাল নষ্ট হয়ে যায়। নতুন করে ফ্যাক্টরি চালু করতে আরও ২/৩ ঘণ্টা সময় লাগে। এ অবস্থায় ঈদের আগে ব্যবসা-বাণিজ্য চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কয়েকদিন ধরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে ঢাকা, গাজীপুর, সাভার, কোনাবাড়ী, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ময়মনসিংহ এলাকার পোশাকসহ অন্যান্য কারখানায় উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিল্পমালিকরা জানিয়েছেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে দিনের অধিকাংশ সময় কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সময়মতো বিদেশে পণ্য পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রপ্তানি অর্ডার বাতিলের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্টরা বলেছেন, তাপমাত্রা না কমা পর্যন্ত ভোগান্তি কমবে না। জানা যায়, গ্রামে অর্থাৎ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) আওতাভুক্ত এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে গড়ে দুই হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি। লোডশেডিংয়ে বেশি নাজুক ৬৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। তবে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর পরিস্থিতি কিছুটা ভালো। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ঢাকার শপিংমলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোয় স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। ইফতার, তারাবি ও সেহরির সময়ও লোডশেডিং করা হচ্ছে না বলে জানায় বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো। গ্রাহকরা বলেছেন, ঢাকায় দিনে বিদ্যুৎ থাকলেও বিদ্যুৎ যাচ্ছে গভীর রাতে। বিশেষ করে রাত ১টার পর বিভিন্ন এলাকায় এক ঘণ্টার মতো লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে। অনেকেই বলছেন, ঘুমের প্রস্তুতি নিয়ে বিছানায় যেতেই লোডশেডিং হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গরম বেড়ে যাওয়ায় এসি ও ফ্যান বেশি চলছে। পাশাপাশি রমজান ও সেচ মৌসুম চলার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা একলাফে অনেক বেড়েছে। উৎপাদনের চেয়ে চাহিদা বেশি হওয়ায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। ঢাকার বাইরে রাতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি খুবই খারাপ। গরমে অতিষ্ঠ মানুষ রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। অনেকে অসহ্য হয়ে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসছেন। ব্যাহত হচ্ছে সেচ কার্যক্রম। অনেক এলাকায় সেচ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে ধানের ফলনে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে রাজনীতি না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেছেন, ‘রাজনৈতিক বিরোধ যদি ক্রান্তিকালেও থাকে, তাহলে বুঝতে হবে উদ্দেশ্য ভালো না। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।’ সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুজিবনগর দিবসের আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘গরম বেশি পড়লে বিদ্যুতের তার গরম হয়, তখন ঝুঁকিও বাড়ে।’ সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের জন্য এটাও কারণ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। উপদেষ্টা বলেন, ‘বিদ্যুতের অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে। কিছুদিন আগেও পরিস্থিতি ভালো ছিল না। জ্বালানি সংকটের মধ্যে এখন আর বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব না।’ তিনি বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশে এখন যে সংকট হচ্ছে, তা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফল। বর্তমানে যে পরিমাণ এলএনজি আমদানি হচ্ছে তাতে বিদ্যুতের ঘাটতি হওয়ার কথা না। শত প্রতিবন্ধকতা শর্তেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।’ ১৩ এপ্রিল দেশের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৩০৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। এর মাধ্যমে ১৫ হাজার মেগাওয়াটের নতুন মাইলফলক অতিক্রম করে বাংলাদেশ। কিন্তু এরপরও গরমের কারণে বিদ্যুতের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। চলতি বছর যে পরিমাণ গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধির কথা পেট্রোবাংলাকে বলা হয়েছিল, ঠিক ওই পরিমাণ সরবরাহ পাচ্ছে না পেট্রোবাংলা। ফলে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ার এটাও একটা কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এখন সারা দেশে সরকারিভাবে ১০০০ মেগাওয়াটের মতো লোডশেডিংয়ের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা আরও বেশি। বিতরণ কোম্পানিগুলোর হিসাবে এই লোডশেডিং ১৫শ থেকে ২ হাজার মেগাওয়াট। সর্বোচ্চ চাহিদার সময় এখন গড়ে ১৪ হাজার ৫০০ থেকে সাড়ে ১৫ হাজারের ওপরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। এবার গরমের কারণে অন্য বছরের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে সর্বোচ্চ ১১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে ফার্নেস অয়েলচালিত কেন্দ্রগুলোর জন্য কিছুটা বিপাকে পড়েছে পিডিবি। না-হলে চলতি বছর আরও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হতো। ১৬ এপ্রিল উৎপাদন লক্ষ্য ধরা হয় ১৩ হাজার ৯৪৮ মেগাওয়াট। অবশ্য আগের দিন শনিবার নিট উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ৯৭৮ মেগাওয়াট। এরপরও পিডিবির হিসাবে সারা দেশে ৯৫০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। সব চেয়ে বেশি লোডশেডিং হচ্ছে ময়মনসিংহ জোনে। এখানে দৈনিক ১৯৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে। ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির (ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান জানান, তাদের কোনো লোডশেডিং করতে হচ্ছে না। কিছু উপকেন্দ্রে সমস্যার কারণে কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ থাকে না। এটাকে লোডশেডিং বলা যাবে না। সোমবার সর্বোচ্চ ১৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে ডিপিডিসি এলাকায়। তবে পিডিবি বলছে, ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোয় সব মিলিয়ে ৬০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হচ্ছে। ঢাকায় সব মিলিয়ে চাহিদা ৫ হাজার ২২০ মেগাওয়াট। সরবরাহ করা হচ্ছে ৫ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট। বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বমূল্যের কারণে গত বছর সরকার গ্যাস ও তেল আমদানি কমিয়ে দেয়। ফলে ঘোষণা দিয়ে লোডশেডিং করে সরকার। গত ফেব্রুয়ারি থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হয়। ফলে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। এখন দিনে গড়ে ১০০ কোটি ঘনফুটের ওপর গ্যাস দেওয়া হচ্ছে বিদ্যুতে। আগে এটা ছিল ৮০-৮৫ কোটি ঘনফুট। ফার্নেস অয়েলেরও দাম কমেছে। পাশাপাশি কয়লাভিত্তিক নতুন কয়েকটি কেন্দ্র উৎপাদনে এসেছে। এতে চলতি মৌসুমের শুরু থেকে চাহিদার কাছাকাছি ছিল বিদ্যুৎ উৎপাদন। ফলে তেমন লোডশেডিং ছিল না। এক সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে লোডশেডিং বাড়তে থাকে। ১৩ এপ্রিল রাত ৯টায় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ১৫ হাজার ৩০৪ মেগাওয়াট। সেসময়ও ঢাকায় ৩০৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। ১৪ এপ্রিল লোডশেডিং ছিল সর্বোচ্চ ১ হাজার ২৮০ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২২ হাজার ৫৬৬ মেগাওয়াট। সোমবার বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার মেগাওয়াট। সর্বোচ্চ উৎপাদন ১৪ হাজার ১০৪ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ৮৯৬ মেগাওয়াট। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রকৃত লোডশেডিং আরও বেশি। সূত্রের তথ্যমতে, সোমবার বিদ্যুতের ঘাটতি দুই হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। সক্ষমতা থাকলেও চাহিদা অনুসারে বিদ্যুৎ উৎপাদিত না হওয়ার জন্য জ্বালানি সংকট এবং কেন্দ্র মেরামত ও সংরক্ষণের জন্য বন্ধ থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা। জানা যায়, গ্যাস ও জ্বালানি তেল সংকটে সোমবার ৪ হাজার ১৫৬ মেগাওয়াট এবং কেন্দ্র মেরামত ও সংরক্ষণের জন্য ২ হাজার ৬৪৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে দিনে কমপক্ষে ১২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু পেট্রোবাংলা সরবরাহ করছে গড়ে ১০০ কোটি ঘনফুট। এছাড়া বিতরণ ও সঞ্চালন লাইনের ত্রুটির কারণে প্রায় বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎবিভ্রাট হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) প্রধান প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কেন্দ্রীয়ভাবে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় তারা লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন।রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধীন নগরীর বর্ধিত অংশে দুদিন ধরে বিদ্যুৎ শুধু যাচ্ছে আর আসছে। রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি রেজাউল ইসলাম মিলন স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আধা ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করায় ঈদের আগে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ক্রেতার সংখ্যা অনেক কমে গেছে। রংপুর বিভাগের আট জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ৯০০ মেগাওয়াট। বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট। কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ১৫-২০ মিনিট থেকে পুনরায় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। একবার গেলে আর আসার নাম নেই। রোববার ভোর ৪টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত ১৪ ঘণ্টায় আটবার বিদ্যুৎবিভ্রাট হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে দৈনিক ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি দুই ঘণ্টা পর এক ঘণ্টা লোডশেডিং করছে। ঝিনাইদহের অধিকাংশ এলাকায় ইফতার, তারাবি ও সেহরির সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চার-পাঁচ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকছে না। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে হামলা : প্রচণ্ড গরমে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ‘অতিষ্ঠ’ হয়ে ‘বিক্ষুব্ধ’ লোকজন ফেনীর ছাগলনাইয়ার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে ছাগলনাইয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. জানে আলম জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে বিক্ষুব্ধ দুই সহস্রাধিক জনতা বিদ্যুৎ অফিসে হামলা চালিয়ে অফিসের গেট, আসবাবপত্র, দরজা ও জানালার কাচ ভাঙচুর করেছে। এ সময় ভয়ে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।’ স্থানীয়রা বলেছেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ২০ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে মানুষ। বাসাবাড়ি ও মসজিদে পানির জন্য হাহাকার পড়ে যায়। ইফতার, তারাবি, সেহেরি ও নামাজের সময় বিদ্যুৎ না থাকায় রোজা রাখা এবং ইবাদত করতেও সমস্যা হচ্ছে মানুষের। এদিকে সিলেটে মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎবিভ্রাটের যন্ত্রণায় নগরীতে মধ্যরাতে সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয়রা। তবে সড়ক অবরোধের প্রায় ১৫ মিনিট পর বিদ্যুৎ চলে এলে তারা অবরোধ তুলে নেয়। গত রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর নয়াসড়ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকায় ইফতারের আগ থেকেই বিদ্যুৎ ছিল না। বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ইফতার ও তারাবির নামাজ পরে রাত ১১টার দিকে বাধ্য হয়ে তারা সড়ক অবরোধ করেন। তিন দিন ধরে সিলেটের সব এলাকায়ই চলছে চরম বিদ্যুৎবিভ্রাট। একদিকে রমজান, অন্যদিকে গরমের উত্তাপ। এমন পরিস্থিতিতে কয়েকদিন ধরেই সিলেটে বিদ্যুৎ থাকছে না ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ইফতারের সময় যেমন বিদ্যুৎ চলে যায়, তেমনই রাতে সেহেরির সময়ও বিদ্যুৎ চলে যায়। দিন-রাত মিলিয়ে ৮-১০ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না সিলেটবাসী। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

এপ্রিল ১৭, ২০২৩
কয়লা সঙ্কটে ধুঁকছে পায়রা-রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তীব্র লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা - image

কয়লা সঙ্কটে ধুঁকছে পায়রা-রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তীব্র লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা

01 মে 2023, বিকাল 6:00

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্র পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা সঙ্কটের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ডলার সঙ্কটের কারণে কয়লা আমদানির বিল পরিশোধ করছে পারছে না বাংলাদেশ।এছাড়া গত ২৩ এপ্রিল থেকে রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে কয়লা সঙ্কটের কারণে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়লা সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে সামনের দিনগুলোতে বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো অসম্ভব হয় পড়বে। সাধারণ মানুষ যেমন লোডশেডিংয়ের ভোগান্তিতে পড়বে এর পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কাজগুলোতেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কয়লা সঙ্কট কেন? পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা আমদানি করা হয় ইন্দোনেশিয়া থেকে। প্রতিদিন ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১১ থেকে ১২ হাজার টনের বেশি কয়লা প্রয়োজন হয় এই কেন্দ্রে।তবে বর্তমানে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লার মজুত রয়েছে ১৫ থেকে ১৬ দিনের মতো। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যহত হওয়ার একটা আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিপিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএম খোরেশেদুল আলম বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, আমদানির বিল বকেয়ার কারণে পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লা আমদানি করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘সবসময় ছয় মাসের বাকিতে কেনার চুক্তি আমার হয়েছে। কিন্তু আমি ছয় মাস পরেও পেমেন্ট করতে পারছি না। যেমন জানুয়ারিতে যে কয়লার পেমেন্ট তারা করেছে সেটা জুলাইয়ে আমার পেমেন্ট করার কথা। কিন্তু সেটা করতে পারছি না। ফলে ছয়মাস পর আমার পেমেন্ট ওভারডিউ হয়ে গেল।’ খোরেশেদুল আলম বলেন, বকেয়া বিল পরিশোধ করা না গেলে চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন বা সিএমসি আর টাকা দেবে না। আর সেটা না হলে কয়লা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানও কয়লা সরবরাহ করবে না। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে যৌথ মালিকানায় রয়েছে, বাংলাদেশের নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সিএমসি।উল্লেখ্য, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ইন্দোনেশিয়ার যে কোম্পানি কয়লা সরবরাহ করে সেই কোম্পানির কয়লার দাম পরিশোধ করে সিএমসি।অর্থাৎ, সিএমসি কয়লা ক্রয়ের ছয় মাস পরে বাংলাদেশ অর্থ পরিশোধ করতে পারবে। এমন বিষয় চুক্তিতে উল্লেখ আছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, ডলার সঙ্কটের কারণে ছয়মাস পরেও বাংলাদেশ সিএমসিকে অর্থ পরিশোধ করতে পারছে না। খোরেশেদুল আলম, ‘ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সবসময় প্রোভাইড করে আসছে সিএমসি। ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হলো আমরা ইন্দোনেশিয়া থেকে যে কয়লা কিনছি সেই কয়লার ইনভয়েসের এগেইনস্টে তারা এলসি করে পেমেন্ট করছে।’ ‘ওদের পেমেন্টটা হলো ডেফার্ড পেমেন্ট, ছয় মাসের দেরিতে পরিশোধের পেমেন্ট। অর্থাৎ জানুয়ারিতে যে পেমেন্ট তারা করবে ওইটা আমরা জুলাইয়ে পরিশোধ করব। চুক্তিটা এরকম। সেক্ষেত্রে আমরা ছয়মাসেও তাদের পেমেন্টটা করতে পারছি না। ছয় মাসের ওপরে আরো পাঁচ মাস চলে গেছে, এখনো সেটা শোধ করতে পারছি না।’ তিনি বলেন, ‘ফরেন কারেন্সির যে ক্রাইসিস চলছে সেজন্য বকেয়া পরিশোধ অনেক দেরি হয়ে গেছে। ওভারডিউ পেমেন্ট না করলে তো তারা আর কয়লা দিবে না।’ কয়লা সঙ্কটের কারণে গত ২৩ এপ্রিল থেকে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রামপালে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির দু’টি ইউনিটের মধ্যে একটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছিল। তবে ডলার সঙ্কটের মধ্যে কয়লা আমদানি বন্ধ হয়ে গেলে উৎপাদন শুরুর ২৭ দিনের মাথায় পর্যাপ্ত কয়লা না থাকায় গত ১৪ জানুয়ারি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় এক মাসের মাথায় আবার উৎপাদনে ফিরে কেন্দ্রটি তারপরও সংশয় ছিল কয়লা আমদানি অব্যাহত থাকবে কিনা। প্রতিদিন কেন্দ্রটির একটি ইউনিট চালু রাখতে প্রয়োজন পাঁচ হাজার টন কয়লা।এপ্রিল মাসে আবারো কয়লা সঙ্কটের কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেল রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে। এই কেন্দ্রের জন্যও কয়লা আমদানি করা হয় ইন্দোনেশিয়া থেকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহেও। ডলার সঙ্কটের কারণে ঋণপত্র খুলতে না পারার কারণেই যে কয়লার মজুদ একদম কমে গেছে সে কথাই বারবার বলছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রয়োজন ডলারের কয়লার সঙ্কটে বারবার বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া ‘সাঙ্ঘাতিক সিরিয়াস ইস্যু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পরিকল্পনাই ছিল এই বছরটায় কয়লার ওপর নির্ভরশীল হবো। অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন বেশি করবো কয়লা দিয়ে।’কয়লা আমদানি যদি না করা যায় তাহলে গত বছরের মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন ইজাজ হোসেন।এ বছর বিদ্যুতের চাহিদা গত বছরের তুলনায় বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন ‘কয়লা সঙ্কটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হলে এ বছর বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে’। ‘ঠিকমতো যেন কয়লার যোগান দেয়া যায় সেদিকে সরকারকে ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে। ডলার সঙ্কটের কারণে হলেও এদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। যেটাই আমরা কিনি আমরা যদি এলএনজি কিনি, তেল কিনি বা কয়লা কিনি সবই তো ডলার লাগবে। তাহলে কেন এখানে ডলার সঙ্কট ইস্যু হবে?’সবচেয়ে সাশ্রয়ী জ্বালানি ক্রয়ের দিকে জোর দেয়া উচিত বলে মনে করছেন ইজাজ হোসেন। বিদ্যুৎ উৎপাদন যদি ব্যাহতও হয় তাহলে তার প্রভাব যেন রফতানিমুখী শিল্পে না পড়ে সেদিকে নজর রাখা উচিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ডলারের ঘাটতি বাংলাদেশের জন্য একটি 'উভয় সঙ্কট' তৈরি করেছে। ডলার সাশ্রয় করতে গিয়ে কয়লা আমদানি কম হচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যহত হবে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে শিল্প খাতে। রফতানিমুখি শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলে ডলারের যোগানও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ‘আমাদের বেশিরভাগ ইন্ডাস্ট্রি এক্সপোর্টের জন্যই চলে। আমাদের এক্সপোর্টটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে ডলার বাঁচালাম ওদিকে ডলার কমে গেল তাহলে তো লাভ হলো না -এটা মনে রাখতে হবে,” বলছিলেন ইজাজ হোসেন। সরকার কী বলছে? বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব হাবিবুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, এই সমস্যার দ্রুত সমাধানে তারা তৎপর আছেন। বিদ্যুৎ উৎপাদন যেন ব্যাহত না হয় সেজন্য যে উদ্যোগ নেয়া দরকার তা নেয়া হচ্ছে। ‘কয়লার সরবরাহ নিশ্চিত হবে সেজন্য কাজ করছি। রামপালের কাজ শুরু হবে। একটা পাওয়ার প্ল্যান্টে শুরুর দিকে সমস্যা থাকে। কয়লার ব্যবস্থাও হয়েছে। দুই একদিনের মধ্যেই কাজ শুরু হবে, বলেন হাবিবুর রহমান।পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যে কয়লার মজুত আছে তা থাকতে থাকতেই যেন কেন্দ্রে কয়লা আমদানি শুরু হয় তা নিয়েও কাজ চলছে বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম এমন ১৫৪টি কেন্দ্র রয়েছে। যার মধ্যে বেশিরভাগই ভাড়ায় চালিত ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র।তবে গত বছর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও ডলারের বিনিময় মূল্য বেড়ে যাওয়ায় সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য ডিজেল চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল। ফলে গত বছর গরমের সময়েও ব্যাপক হারে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তির মধ্যে পড়েছিল বাংলাদেশের মানুষ। এমনকি শীতকালেও লোডশেডিং হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। বিশেষেজ্ঞরা মতে, এ বছর গরম আসতে না আসতেই যে কয়লা সঙ্কটের মুখে পড়েছে দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র তাতে সামনে বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাপক ঘাটতি তৈরি হতে পারে। ডলারের যে সঙ্কট তৈরি হয়েছে সেটি সহসা সমাধানের আশাও দেখা যাচ্ছে। এই সঙ্কটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ খাতের উপর। কারণ কয়লা হোক আর তেল হোক- বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাঁচামাল জোগাতে প্রয়োজন ডলার। বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএম খোরশেদুল আলম বলছেন, কয়লা সমস্যার সমাধানের চেষ্টা নিশ্চয়ই করছে সরকার।

মে ০১, ২০২৩
কৃষ্ণ সাগর শস্য চুক্তি নিয়ে বৈঠকে বসছেন জাতিসংঘ প্রধান - image

কৃষ্ণ সাগর শস্য চুক্তি নিয়ে বৈঠকে বসছেন জাতিসংঘ প্রধান

13 সেপ্টেম্বর 2023, বিকাল 6:00

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনকালে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকালে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হতে যাচ্ছে।’ গুতেরেস উল্লেখ করেন, তিনি রাশিয়া, ইউক্রেন ও তুরস্কের প্রতিনিধির সঙ্গে আলাদাভাবে যোগাযোগ করবেন। তবে, তাদেরকে একত্রিত করার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। অ্যান্তোনিও গুতেরেস আরও বলেন, ‘আমি কৃষ্ণ সাগর সংক্রান্ত উদ্যোগ, ইউক্রেনের খাদ্যপণ্য রপ্তানি এবং রাশিয়ার সার ও খাদ্য পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ থাকার মধ্যেই বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে আমাদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ রয়েছি।’ জাতিংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ১৯ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হবে। গত ১৭ জুলাই রাশিয়া শস্য চুক্তিতে তাদের অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখতে অস্বীকার করে। এক বছর আগে করা এ চুক্তি কৃষ্ণ সাগরজুড়ে ইউক্রেনে উৎপাদিত শস্যের নিরাপদ রপ্তানি নিশ্চিত করেছিল। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, এ চুক্তির আওতায় রাশিয়ার শস্য ও সার বিশ্ববাজারে রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সংক্রান্ত কোনো শর্তই পূরণ করা হয়নি। ফলে তারা এ চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৩
পশ্চিমা প্রচারণা সত্ত্বেও মস্কো ঢাকার পরীক্ষিত বন্ধু : রাশিয়ান দূতাবাস - image

পশ্চিমা প্রচারণা সত্ত্বেও মস্কো ঢাকার পরীক্ষিত বন্ধু : রাশিয়ান দূতাবাস

17 সেপ্টেম্বর 2023, বিকাল 6:00

পশ্চিমাদের ‘বাংলাদেশিদের চোখে তাদের দেশকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা’সফল হবে না বলে জানিয়েছে রাশিয়া। রোববার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় রুশ দূতাবাস বলেছে, ‘রাশিয়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের একটি নির্ভরযোগ্য, সময়ের পরীক্ষিত বন্ধু ছিল ও থাকবে।’ দূতাবাস বলেছে, বাংলাদেশি ইংরেজি ভাষার সংবাদপত্রে প্রকাশিত ১৪ জন কূটনৈতিক মিশনের প্রধানের সই করা একটি প্রতিবেদন তাদের চোখে পড়েছে। প্রতিবেদনটিতে কোনো শক্ত প্রমাণ ছাড়াই রাশিয়াকে ‘আগ্রাসন’, ‘আক্রমণ’ ও ‘ইউক্রেনে অবৈধ যুদ্ধ’ চালানোর দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। যা বিশ্ববাজারে ইউক্রেনীয় শস্যের সরবরাহের চেইনের ব্যাঘাত ঘটায় এবং ফলে বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে। রাশিয়ান দূতাবাস বলেছে, পশ্চিমা কূটনীতিকদের কাছ থেকে এটি শোনা আরও উদ্ভট যে ‘রাশিয়ার ক্রমাগত আক্রমণে ইউক্রেনীয় কৃষি খাতের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হবে’। এটি বিষয়গুলোকে উল্টোভাবে উপস্থাপনের আরেকটি প্রচেষ্টা। দূতাবাস জানায়, বলকান ও পরে পারস্য উপসাগরে ক্ষয়প্রাপ্ত ইউরেনিয়াম যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহারের ফলে শুধু বোমা হামলার স্থানেই নয়, হাজার হাজার কিলোমিটার দূরেও বিশ্বব্যাপী পরিবেশ দূষিত হয়েছে। তারা জানায়, নিজেদের স্বার্থে অন্য দেশগুলোকে ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্ব আধিপত্যের দাবিগুলো সুরক্ষিত করা এবং নিজেদের কল্যাণ, সামরিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্যের উচ্চ পর্যায় বজায় রাখার স্বার্থে নেওয়া পশ্চিমা নীতির আরেকটি উদাহরণ এটি। দূতাবাস জানিয়েছে, ‘আমরা লক্ষ্য করি রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের ঢাকা সফরের দিনে ১৪ জন পশ্চিমা কূটনীতিকের ‘সম্মিলিত কাজ’ প্রকাশিত হয়েছিল। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনায় তিনি বিস্তৃত মন্তব্য করেছেন। স্পেশাল মিলিটারি অপারেশন (এসএমও) শুরু করার কারণ, ইউক্রেনের আশেপাশের এবং বর্তমান পরিস্থিতি এবং বিশেষ অভিযান শেষ করার শর্ত প্রভৃতি বিষয় বিস্তৃতভাবে জানিয়েছেন।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৩
‘২০৪১ সালের মধ্যে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩০০ বিলিয়ন ডলার’ - image

‘২০৪১ সালের মধ্যে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩০০ বিলিয়ন ডলার’

10 অক্টোবর 2023, বিকাল 6:00

বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে রপ্তানি আয়ে ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে চায় বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে দেশের রপ্তানি খাতকে বহুমুখীকরণ করতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে তা বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করছে। বুধবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে লেদার গুডস এন্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলএফএমইএবি) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। টিপু মুনশি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবতি করার অন্যতম হাতিয়ার রপ্তানি বহুমুখীকরণ। বাংলাদেশ বর্তমানে এশিয়ার অন্যতম রপ্তানিমুখী দেশ হিসেবে বিশ্ববাজারে আর্বিভূত হয়েছে। রপ্তানিমুখী প্রবৃদ্ধি সুসংহতকরণ এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিদেশি ক্রেতা-ব্র্যান্ডস ও বিনিয়োগকারীদরে আকৃষ্ট করতে উদ্ভাবনী নীতি প্রণয়ন ও ব্যবসাবান্ধব নীতি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি আয়কারী চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ২০৪১ সালের মধ্যে ৩০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, রপ্তানি আয়কে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চামড়াজাত পণ্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বিশ্ববাজারে চামড়াজাত পণ্য সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ একটি নির্ভরযোগ্য গন্তব্য হিসেবে দ্রুত স্থান করে নিচ্ছে। বিশ্ববাজারে প্রবেশ করতে হবে। আমাদের পণ্যের কোয়ালিটি অনেক এগিয়ে গেছে, যা আন্তর্জাতিক মান ধরে রেখেছে। এসব পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরতে ব্র্যান্ডিংয়ের বিকল্প নেই। ব্লিস-২০২৩ এই লক্ষ্য অর্জনে অসামান্য অবদান রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে আমাদের মোট রপ্তানির ৮৩ ভাগ দখল করে আছে তৈরি পোশাক খাত। কিন্তু এই খাত একদিনে এই জায়গায় আসেনি। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের একটি বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। এটি অনেক সম্ভাবনাময় একটি খাত। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চামড়া-শিল্প খাতসহ সকল রপ্তানি শিল্পসমূহের সমান নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।

অক্টোবর ১০, ২০২৩
পাকিস্তানের সিনেমা হলে মুক্তি পেলো ‘মোনা : জ্বীন-২’ - image

পাকিস্তানের সিনেমা হলে মুক্তি পেলো ‘মোনা : জ্বীন-২’

26 এপ্রিল 2024, বিকাল 6:00

দেশের সীমানা পেরিয়ে এবার পাকিস্তানের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলো ঈদের সিনেমা ‘মোনা : জ্বীন-২’। পাকিস্তানের লাহোর, করাচি, ইসলামাবাদসহ বিভিন্ন প্রদেশের ২৪টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, মাল্টিপ্লেক্সসহ দেশটির ২৪টি প্রেক্ষাগৃহে প্রতিদিন ৮২টি শো চলবে ছবিটির। পাকিস্তানে ছবিটির মুক্তির ব্যাপারে ছবিটির প্রযোজক আবদুল আজিজ বলেন, এম আর নাইন সিনেমাটির আমার প্রযোজক পার্টনার যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। উনিই পাকিস্তানে ছবিটির প্রদর্শনীর ব্যাপারে সহযোগিতা করেছেন। শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) থেকে ইংরেজি সাবটাইটেলে ছবিটির প্রদর্শিত হচ্ছে সেখানে। তিনি বলেন, গত ঈদের আগে আগে সেন্সরের জন্য ওখানে ছবিটি পাঠিয়েছিলাম। যাদের মাধ্যমে আমি ছবিটি ওখানে পাঠিয়েছি, তাদের কাছ থেকে শুনেছি যে পাকিস্তানের সেন্সর বোর্ডের সদস্যরাও ছবিটি পছন্দ করেছেন। এ কারণেই মনে হচ্ছে ছবিটি পাকিস্তানের দর্শকের পছন্দ হয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, এখন তো ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের ছবি মুক্তি পাচ্ছে। পাকিস্তানেও আমাদের ছবির একটা বাজার হতে পারে। কারণ, বিশ্ববাজারকে না ধরতে পারলে এগোতে পারবে না বাংলা সিনেমা। প্রসঙ্গত, ‘মোনা : জ্বীন-২’ ছবিটি পরিচালনা করেছেন কামরুজ্জামান রোমান। এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সুপ্রভাত। অন্যান্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান, আহমেদ রুবেল, দীপা খন্দকার, আরিয়ানা জামান, সেহজাদ ওমর, সাজ্জাদ হোসেন, সামিনা বাশারসহ অনেকে।

এপ্রিল ২৬, ২০২৪
ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম - image

ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

01 অক্টোবর 2024, বিকাল 6:00

মঙ্গলবার ইসরায়েলি ভূখণ্ডে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বিশ্ববাজারে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। মঙ্গলবার ইরানের হামলার পর বিশ্ববাজারে তেলের ডাম ১ ডলারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত, মধ্যপ্রাচ্যে আরও বৃহৎ সংঘাত এবং চলমান উত্তেজনার কারণে তেল সরবরাহে বিঘ্নিত হওয়ার শংকায় এ মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বর্তমান তালিকা অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের ডাম ১ দশমিক ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৭৪ দশমিক ৬০ ডলারে পৌঁছেছে। মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অপরিশোধিত তেল ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৭১ ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া মঙ্গলবারের লেনদেনে উভয় অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্কের দাম ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়। ফিলিপ নোভার সিনিয়র মার্কেট বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সচদেভা বলেন, ‘তেল বাজারগুলো মূলত জ্বালানির চাহিদা হ্রাসের কারণে বিশ্ব অর্থনীতির দুর্বলতার গল্পের ওপর নির্ভর করছিল। তবুও ইরান ইসরায়েলের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর, মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।’ মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, ইরান বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ। শিয়া প্রধান দেশটি তেল উৎপাদনকারী দেশের সংস্থা ওপেকের তৃতীয় বৃহত্তম সদস্য। ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের একটি নোটে বলা হয়েছে, ‘ইরানের বড় ধরনের হামলা যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে টেনে নিতে পারে। ইরান বিশ্ব তেল উৎপাদনের প্রায় ৪ ‍শতাংশ জোগান দেয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যদি ইরানের সরবরাহ বিঘ্নিত হয়, তবে সৌদি আরব উৎপাদন বাড়াবে কিনা।’ এ বিষয়ে ওপেক প্লাসের একটি প্যানেল বুধবার বৈঠক করবে এবং তেল বাজারের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে। তবে এই বৈঠক থেকে কোনো নীতিগত পরিবর্তন আশা করা হচ্ছে না। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে হরমুজ প্রণালির শিপিং কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে। ওমান ও ইরানের মধ্যে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ এই শিপিং রুট দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়ে থাকে। সূত্র: রয়টার্স

অক্টোবর ০১, ২০২৪
ছয় পণ্যে শুল্কছাড়, দাম কমেছে একটির - image

ছয় পণ্যে শুল্কছাড়, দাম কমেছে একটির

23 অক্টোবর 2024, বিকাল 6:00

বাজারে ভোক্তাদের স্বস্তি ফেরাতে গত আড়াই মাসে ছয়টি নিত্যপণ্যে শুল্কছাড় দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। চাল, তেল, চিনি, পেঁয়াজ, আলু ও ডিমে শুল্ক–কর ছাড় দেওয়া হলেও শুধু দাম কমেছে ডিমের। বেড়েছে চাল, তেল ও চিনির দাম। স্থিতিশীল রয়েছে আলু ও পেঁয়াজের দাম। ছয় পণ্যে শুল্ক–করে ছাড় থাকলেও বেশির ভাগ পণ্যের দাম বাড়তি। সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ ভোক্তারা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুল্কছাড়ে কেনা অধিকাংশ পণ্য দেশে এসে পৌঁছায়নি, যে কারণে দাম কমছে না। বিগত কয়েকদিনে আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। অন্য পণ্যের চড়া দামের কারণ দেশের সার্বিক খাদ্য মূল্যস্ফীতি। এছাড়া কিছু পণ্যের জন্য অসময়ে বৃষ্টি ও বন্যাকে দায়ী করছেন তারা। তবে ভোক্তারা বলছেন, এসব পণ্যের দাম কমাতে বাজারে সরকারের কড়া নজরদারি নেই। নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একটি চক্র ‘কারসাজি’ করে দাম বাড়াচ্ছে সরকারের সুবিধা নেওয়ার পরেও। গুদামে গুদামে অভিযান চালিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। উত্তরাঞ্চলে বন্যার পর থেকে মোকামে চালের দাম বাড়তি। যার প্রভাবে চলতি সপ্তাহে ঢাকার বাজারে চালের দাম বাড়তে শুরু করে। এর মধ্যেই রোববার (১৬ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর শুল্ক কমিয়েছে। এনবিআর জানায়, বাজারে চালের সরবরাহ বাড়ানো ও চালের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চাল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান তিন ধরনের শুল্ক কমানো হয়েছে। এর মধ্যে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ কমিয়ে ২৫ থেকে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। আর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ২০ শতাংশ কমিয়ে ২৫ থেকে করা হয়েছে ৫ শতাংশ। এছাড়া আমদানি পর্যায়ে বিদ্যমান ৫ শতাংশ আগাম কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। চাল আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক-কর কমানোর ফলে আমদানি পর্যায়ে প্রতি কেজি চালের দাম ১৪ টাকা ৪০ পয়সা কমবে। এখনো শুল্কছাড়ে কেনা পণ্য বাজারে আসেনি। সময় লাগবে। ওইসব পণ্য এলে দাম কমবে। এর মধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম টনপ্রতি ১০০ ডলার বেড়ে এখন সাড়ে ১১শ ডলার ছাড়িয়েছে। আমরা আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার চাপে রয়েছি।- সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা এ বিষয়ে চাল ব্যবসায়ী সমিতির নেতা কাওসার আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেশে এখন বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির প্রয়োজন হয় না। এমন অবস্থায় চাল আমদানিতে শুল্ক কমানো হলো। এখন হয়তো ভারত-মিয়ানমার থেকে চাল আসবে। কিন্তু সেটা সময়সাপেক্ষ। ফলে বাজারে এর প্রভাব পড়তে সময় লাগবে।’

অক্টোবর ২৩, ২০২৪
মিলাফ কোলা: সৌদি আরবে বিশ্বের প্রথম খেজুরের তৈরি কোমল পানীয় - image

মিলাফ কোলা: সৌদি আরবে বিশ্বের প্রথম খেজুরের তৈরি কোমল পানীয়

01 ডিসেম্বর 2024, বিকাল 6:00

কোমল পানীয়ের চাহিদা ও জনপ্রিয়তা বিশ্বজুড়ে। তবে স্বাস্থ্যের কথা ভেবে অনেকেই এড়িয়ে যান। স্বাস্থ্যসচেতন কোমল পানীয় প্রেমীদের জন্য সৌদি আরবে বাজারে এল খেজুরের তৈরি কোমল পানীয় মিলাফ কোলা। প্রাকৃতিক সুপার ফুড হিসেবে পরিচিত খেজুর দিয়ে তৈরি মিলাফ কোলাতে স্বাদ ও পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি। গত নভেম্বরে রিয়াদ ডেট ফেস্টিভ্যালে এই পানীয়টির উদ্বোধন করেন সৌদি কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রহমান আল–ফাদলি ও থুরাথ আল–মদিনা কোম্পানির সিইও বান্দার আল–কাহতানি। সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ) সহযোগী প্রতিষ্ঠান থুরাথ আল–মদিনা মিলাফ কোলার উৎপাদক। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, দীর্ঘদিনের গবেষণার ফলাফল এই মিলাফ কোলা। আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তা এবং গুণগত মান বজায় রেখে তৈরি করা হয়েছে এটি। স্বাদ ও পুষ্টির দিকে সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ও বিশ্ববাজারে এটি বেশ জনপ্রিয়তা পাবে বলে আশা করছেন তাঁরা। মিলাফ কোলার উৎপাদক প্রতিষ্ঠান আরও জানায়, সৌদি আরবে স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা উচ্চমানের খেজুর দিয়ে এই কোমল পানীয়টি তৈরি করা হয়েছে। প্রচলিত কোমল পানীয়ের চেয়ে এটি অনেক স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। সৌদি আরবের পরিবেশবান্ধব এবং স্থানীয় পণ্য প্রচারের ভিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মিলাফ কোলার মতো খেজুরের তৈরি বিভিন্ন ধরনের খাদ্য পণ্য উদ্ভাবনে কাজ করে থুরাথ আল–মদিনা। কোম্পানির একজন মুখপাত্র বলেন, আমরা ভবিষ্যতে খেজুরের তৈরি আরও পণ্য বাজারে আনার পরিকল্পনা করছি। মিলাফ কোলা তো কেবল শুরু। আমরা এমন একাধিক পণ্য নিয়ে কাজ করছি, যা বিশ্বব্যাপী খেজুর ব্যবহারের পদ্ধতিকে বদলে দেবে। রিয়াদ ডেট ফেস্টিভ্যালে পানীয়টি বেশ ইতিবাচক সাড়া পায়। মিলাফ কোলা খাদ্য ও পানীয় শিল্পে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলা যায়।

ডিসেম্বর ০১, ২০২৪
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo