logo
youtube logotwitter logofacebook logo

নেতানিয়াহু

এরদোয়ান কেন বাইডেনের মাথাব্যথার কারণ? - image

এরদোয়ান কেন বাইডেনের মাথাব্যথার কারণ?

15 মে 2023, বিকাল 6:00

তুরস্কে গত রবিবার অনুষ্ঠিত হয় শত বছরের সবচেয়ে গুরুত্ব নির্বাচন। এতে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী ছিলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান, কামাল কিলিচদারোগলু ও সিনান ওগান। তাদের মধ্যে কোনও প্রার্থীই এককভাবে ৫০ শতাংশ ভোট পাননি। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, এরদোয়ান পেয়েছেন ৪৯.৪ শতাংশ ভোট। তার প্রধান কামাল কিলিচদারোগলু পেয়েছেন ৪৩.১২ শতাংশ আর সিনান ওগান পেয়েছেন ৫.২ শতাংশ ভোট। ফলে আগামী ২৮ মে (রাউন্ড অফ) দ্বিতীয় দফা ভোট অনুষ্ঠিত হবে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে। সে হিসেবে পরবর্তী রাউডে ছিটকে পড়েছেন সিনান ওগান। প্রতিযোগিতা হবে এরদোয়ান আর কিলিচদারোগলুর মাঝে। এখন ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২৮ মে পর্যন্ত। এদিকে, তুরস্কের এই নির্বাচন শুধু তুর্কি জনগণের জন্য নয়, বরং বিশ্বের প্রধান পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর আগেই অভিযোগ উঠেছে, তুরস্কে কিলিচদারোগলু নেতৃত্বাধীন রিরোধী শিবিরকে সমর্থন দিচ্ছে আমেরিকা। সুতরাং তুরস্কের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের জয় বা পরাজয় যুক্তরাষ্ট্র ও এর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মাথাব্যথারও কারণ। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেন দায়িত্ব নেওয়ার সময় বিশ্বের যে কয়েকজন রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান নিজ দেশের রাজনীতিতে ‘একনায়ক’ হিসেবে চিত্রিত করতে পেরেছেন, এরদোয়ান তাদের একজন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতিতে বড় এক ধাঁধাঁর নাম এরদোয়ান। কেননা, দু্ই দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা এরদোয়ান একাধারে ইউরোপের সবচেয়ে বড় মিত্র ও শত্রু, যুক্তরাষ্ট্রের পর ন্যাটোর সামরিক শক্তির সবচেয়ে বড় স্তম্ভ তুরস্ক তাদের বর্তমান প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের নেতৃত্বে বলকান, ভূমধ্যসাগর, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক অনন্য নীতি নিয়ে এগিয়েছে, যা বাইডেন প্রশাসনের নীতিকে বারবারই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।অন্যদিকে, এরদোয়ান যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর অন্যতম নেতা হলেও তিনি এই জোটের মূল শত্রু রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সখ্য বজায় রাখছেন। আবার যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পররাষ্ট্র নীতিতে চিহ্নিত সবচেয়ে বড় ‘সংকট’ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও রয়েছে এরদোয়ানোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। শুধু তা-ই নয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় মিত্র ইসরায়েলের সঙ্গে চাপান-উতোর সম্পর্ক রাখার পাশাপাশি ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে চিহ্নিত ইরানের সঙ্গেও এরদোয়ানের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতি বদলানোর বিষয়েও চাপ দিয়ে যাচ্ছেন এরদোয়ান। সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র হিসেবে পরিচিত কুর্দিদের উপর সামরিক অভিযান চালাচ্ছেন, আবার প্রতিবেশী আর্মেনিয়া-আজারবাইজান সংকটেও মধ্যস্ততা করছেন, যেখানে মস্কোর প্রভাবও রয়েছে।এসব বিষয় বিবেচনা করলে প্রতীয়মান হয়, এরদোয়ান যেন যুক্তরাষ্ট্রের বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘সিএনএন’ এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, জো বাইডেনের যুগ শুরুই হয়েছে দেশ ও দেশের বাইরে একনায়কতন্ত্র, গণতন্ত্রের উপর হামলা এবং উদীয়মান স্বৈরশাসকদের ছায়ায়।তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভের পরপরই ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটলে হামলা করে পরাজিত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা, যা যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত।এই পটভূমিতে ক্ষমতা নেওয়ার পর এখন বাইডেন ইউক্রেইনের গণতন্ত্র রক্ষার যুদ্ধে নেমেছেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে। এই যুদ্ধে তার ঘরের শত্রু ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান সমর্থকেরা। যুদ্ধে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে  ইউক্রেনকে কোটি কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে বাইডেন প্রশাসন, যা নিয়ে এরইমধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন বেশ কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা, যারা ট্রাম্পের সমর্থক। দেশের ভেতরের এমন পটভূমিতে বিদেশে বাইডেনের পররাষ্ট্র নীতি বাস্তয়নে বাধা হয়ে উঠছেন এরদোয়ানের মতো কর্তৃত্বপরায়ণ রাষ্ট্রনেতারা। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র ইসরায়েলেও নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার সংবিধান বদলে সেদেশের গণতন্ত্রকে সঙ্কুচিত করার পথ ধরেছে। গণতন্ত্র রক্ষার যে নীতি-অজুহাত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতির মূল স্তম্ভ, তা টিকিয়ে রাখতে এরদোয়ানের মতো নেতার পরাজয় যথেষ্ট সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলেই মতামত তুলে ধরা হয়েছে সিএনএনের বিশ্লেষণে।এরদোয়ানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দুই দশকের শাসনামলে তিনি তুরস্কের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো, যেমন বিচারবিভাগ ও গণমাধ্যম এবং গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছেন।সিএনএন বলছে, আবারও নির্বাচিত হলে তিনি তুরস্কের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও সংকুচিত করার পাশাপাশি পশ্চিমের নেতৃত্বকে আরও সংকটের মুখেই ফেলবেন। যার অন্যতম উদাহরণ ন্যাটোতে সুইডেনের যোগদানে বাধা দেওয়া।এরআগে তুরস্কবিরোধী কুর্দি নেতাদের আশ্রয় দেওয়া নিয়ে ফিনল্যান্ডের বিষয়ে আপত্তি তুললেও পরে সমঝোতার মাধ্যমে এর সুরাহা হয়, কিন্তু সুইডেনকে ছাড় দেননি এরদোয়ান।তুরস্কের নির্বাচন নিয়ে রবিবার সাংবাদিকরা ডেলাওয়ারে প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “আমি আশা করি, যিনিই জয়ী হোন, জয়ী হন। বিশ্বের ওই অংশে যথেষ্ট সমস্যা রয়ে গেছে।” বিশ্বজুড়ে বাইডেনের গণতন্ত্র রক্ষার নীতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতির ধ্রুপদী সংকটের আরেকটি উদাহরণ হিসেবেই চিহ্নিত হচ্ছে, সংকটটি হল- ‘কী করা উচিৎ যখন কোনও দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে কৌশলগত স্বার্থের সংঘাত হয়।’ স্বার্থ ও নীতির এই দ্বন্দ্ব সবচেয়ে স্পষ্ট হয়েছিল ২০১৮ সালে তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে সৌদি আরব দূতাবাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার ঘটনায়। ওই ঘটনায় সরাসরি সৌদি আরবের জড়িত থাকার বিষয়ে প্রমাণ মিললেও যুক্তরাষ্ট্র ও তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নিতে রাজি হয়নি। এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে কড়া বক্তব্য দিলেও ক্ষমতা নেওয়ার পর জো বাইডেনও চুপ হয়ে যান; বরং রিয়াদ সফরে সালমানের সঙ্গে ‘ফিস্ট বাম্প’ করে নিজের সমর্থকের মুখে অনেকটাই কালি দেন তিনি। ওয়াশিংটনের একই ধরনের ‘নীতি সংকট’ দেখা যাচ্ছে থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও। গত কয়েক বছর ধরে সামরিক জান্তার শাসনাধীন থাইল্যান্ডেও রবিবার ভোট হয়েছে। ভোটে উদারপন্থি, গণতন্ত্রমনা দলগুলো জয়ী হতে যাচ্ছে বলে ধারণা পাওয়া গেছে, যারা সেদেশে আবারও পূর্ণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের অঙ্গীকার করেছে।বাইডেনের প্রশাসনের নীতি অনুযায়ী এই দলগুলোর প্রতি ওয়াশিংটনের জোর সমর্থন জানানোর কথা থাকলেও হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে খুব একটা উচ্ছ্বাস দেখানো হচ্ছে না।থাইল্যান্ডে সামরিক জান্তার সমর্থনপুষ্ট ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী এই নির্বাচনে গণতন্ত্রপন্থিদের এই বিজয়কে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলে যুক্তরাষ্ট্রের উপর চাপ বাড়বে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার। কিন্তু ওয়াশিংটন হয়তো তা করতে চাইবে না, কারণ এই মুহূর্তে থাইল্যান্ডের জেনারেলদের ক্ষেপিয়ে দিতে বাইডেনের প্রশাসনের আগ্রহ কম। থাইল্যান্ড বিগড়ে গিয়ে যদি চীনের শিবিরে হেলে পড়ে, তাহলে বিশ্বের ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনীতিক স্বার্থ হুমকিতে পড়বে।প্রতিবেদনে সিএনএন উপসংহার টেনেছে, এ ধরনের যোগ-বিয়োগের রাজনীতিতে গণতন্ত্রকে সমর্থন জানান হয়তো সবসময় বাস্তবসম্মত হয় না, যা আমেরিকার ‘ডিএনএ’তেই রয়েছে। আর ভূরাজনীতির এই সমীকরণই বলে দিচ্ছে যে কেন যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তির পক্ষে এরদোয়ানের মতো আঞ্চলিক নেতাদের প্রভাব অস্বীকার করা অসম্ভব।

মে ১৫, ২০২৩
পশ্চিম সাহারায় মরক্কোর সার্বভৌমত্ব মেনে নিলো ইসরায়েল - image

পশ্চিম সাহারায় মরক্কোর সার্বভৌমত্ব মেনে নিলো ইসরায়েল

17 জুলাই 2023, বিকাল 6:00

দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম সাহারা অঞ্চলে সংঘর্ষ চলছে। ১৯৭৫ সালের পর ওই অঞ্চল দখল করেছিল মরক্কো। পশ্চিম সাহারা মরক্কোর সার্বভৌম এলাকা। চিঠি দিয়ে একথা জানিয়েছে নেতানিয়াহুর ইসরায়েল। জাতিসংঘের কাছেও ইসরায়েল তাদের অভিমত পাঠিয়ে দিয়েছে। ওই অঞ্চলে তারা একটি কনসুলেট খোলার কথাও জানিয়েছে। পশ্চিম সাহারা একটি সংঘর্ষপূর্ণ এলাকা। দীর্ঘদিন এই এলাকা স্পেনের উপনিবেশ ছিল। ১৯৭৫ সালে তা স্বাধীন হয়। কিন্তু মরক্কো ওই এলাকার অনেকটাই দখল করে নেয়। তখন থেকে পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতাকামী যোদ্ধাদের সঙ্গে লড়াই চলছে মরক্কোর। পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতাকামী যোদ্ধাদের নাম পোলিসারিও ফ্রন্ট। ১৯৯১ সাল পর্যন্ত লাগাতার যুদ্ধ চলার পর মরক্কো এবং পোলিসারিও-র মধ্যে যুদ্ধবিরতির চুক্তি সই হয়। কিন্তু ২০২০ সাল থেকে পোলিসারিও নতুন করে লড়াই শুরু করেছে। পোলিসারিও ফ্রন্টকে সমর্থন করে আলজেরিয়া। পশ্চিম সাহারার একটি অংশ আলজেরিয়া সীমান্ত। মরক্কোর অভিযোগ, টাকা এবং অস্ত্র দিয়ে আলজেরিয়া বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মদত দেয়। ২০২০ সালে আরবদেশগুলির সঙ্গে প্রথম ইসরায়েলের সম্পর্ক গড়ে উঠতে শুরু করে। সেই সময়েই আমেরিকার মধ্যস্থতায় মরক্কোর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয় ইসরায়েলের। সেই তখন থেকে তাদের সঙ্গে পশ্চিম সাহারা নিয়ে আলোচনা করছে মরক্কো। বস্তুত, ২০২০ সালেই পশ্চিম সাহারায় মরক্কোর সার্বভৌমত্ব মেনে নিয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এবার ইসরায়েলও তা স্বীকার করে নিল। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এর ফলে ওই অঞ্চলে লড়াই আরো তীব্র হবে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলি কোহেন জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করবে। মরক্কোর প্রতিবেশী দেশগুলি এই অবস্থানকে স্বাগত জানাবে বলেই তারা মনে করেন। বস্তুত, এদিন ইসরায়েল ঘোষণা করার আগেই মরক্কো সাংবাদিকদের জানিয়ে দিয়েছিল যে ইসরায়েল এই ঘোষণা দিতে চলেছে।

জুলাই ১৭, ২০২৩
হামাস-ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি হামলায় যুদ্ধক্ষেত্র গাজা - image

হামাস-ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি হামলায় যুদ্ধক্ষেত্র গাজা

07 অক্টোবর 2023, বিকাল 6:00

ইসরায়েলে স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাসের ব্যাপক অতর্কিত রকেট হামলায় দুই শতাধিক ইসরায়েলি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। অন্যদিকে শনিবারের এই হামলার জবাবে উপকূলীয় এলাকা গাজায় ইসরায়েলের প্রচণ্ড বিমান হামলায় ফিলিস্তিনিদের মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ২৩২ জনে আর আহত হয়েছে এক হাজার ৭০০’র মতো বেসামরিক নাগরিক। খবর এএফপির। হামাসের হামলার জবাবে স্থল, আকাশ ও নৌপথে আগ্রাসী হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজা উপত্যকায় হামাসের লক্ষ্যবস্তুগুলোকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রাতভর দেশটির অন্তত ২২টি এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী ও শতশত হামাস যোদ্ধার মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ চলেছে। দুটি স্থানে হামসের বন্দুকধারীরা বেশ কয়েকজন ইসরায়েলিকে জিম্মি করেছে। এ সময় প্রায় তিন হাজার রকেট হামলা চালায় হামাস। গতকাল শনিবার (৭ অক্টোবর) শুরু হওয়া এই রকেট হামলার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সকালে বিস্মিত ইসরায়েলিদের বলেন, ‘আমরা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছি।’ ১৯৭৩ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর এবারই সর্বাত্মক পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়ালো ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ আজ রোববার (৮ অক্টোবর) এক জরুরি বৈঠক ডেকেছে।

অক্টোবর ০৭, ২০২৩
হামাস শুরু করেছে, আমরা শেষ করব : ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী - image

হামাস শুরু করেছে, আমরা শেষ করব : ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী

09 অক্টোবর 2023, বিকাল 6:00

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘যদিও এই যুদ্ধ ইসরায়েল শুরু করেনি, তবে এটি শেষ করবে।’ সোমবার (৯ অক্টোবর) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন নেতানিয়াহু। হামাসের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার অংশ হিসেবে ইসরায়েল তিন লাখ সৈন্য মাঠে নামিয়েছে। ১৯৭৩ সালের ইয়োম কিপ্পুর যুদ্ধের পর ইসরায়েলের এটিই সবচেয়ে বড় সেনা সমাবেশ। তখন চার লাখ রিজার্ভ সৈন্য মোতায়েন করেছিল ইসরায়েল। টাইমস অব ইসরায়েল এ তথ্য জানিয়েছে। জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরায়েল একটি যুদ্ধে আছে। আমরা এই যুদ্ধ চাইনি। সবচেয়ে নৃশংস ও বর্বর উপায়ে আমাদেরকে বাধ্য করা হয়েছে। কিন্তু, যদিও ইসরায়েল এই যুদ্ধ শুরু করেনি, তবে ইসরায়েল এটি শেষ করবে।’ শনিবার (৭ অক্টোবর) সকালে হামাসের আকস্মিক হামলা শুরুর পর এ পর্যন্ত ইসরায়েলের দুই হাজার ৩০০ জন আহত এবং ৮০০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছেন। হামাসকে এ হামলার মূল্য দিতে হবে জানিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হামাস বুঝবে আমাদের আক্রমণ করে তারা ঐতিহাসিক ভুল করেছে। আমরা এর একটি মূল্য (প্রতিশোধ) নির্ধারণ করব, যা তাদের এবং ইসরায়েলের অন্যান্য শত্রুরা আগামী কয়েক দশক ধরে মনে রাখবে।’ ইসরায়েলি জিম্মিদের দুর্দশার কথাও তুলে ধরে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘নিরাপরাধ ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে হামাস যে বর্বর হামলা চালিয়েছে, তাতে হৃদয় ভেঙে গেছে—পরিবারগুলোকে তাদের বাড়িতেই হত্যা করা হয়েছে, একটি উৎসবে শত শত তরুণ-তরুণীকে গণহত্যা করা হয়েছে এবং অসংখ্য নারী, শিশু ও বৃদ্ধকে অপহরণ করা হয়েছে। হামাস সন্ত্রাসীরা অবরুদ্ধ, অগ্নিসংযোগ ও শিশুদের হত্যা করেছে। ওরা বর্বর।’ হামাসকে জঙ্গি সংগঠন আইএসআইএস হিসেবে চিহ্নিত করে নেতানিয়াহু বলেন, ‘হামাস আইএসআইএস। সভ্যতার শক্তিগুলো যেভাবে আইএসআইএসকে পরাজিত করতে একত্রিত হয়েছে, তেমনি হামাসকে পরাজিত করতে অবশ্যই ইসরায়েলকে সমর্থন দিতে হবে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং অন্যান্য বিশ্ব নেতাদেরকে সমর্থন দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ রাখছি। ইসরায়েলের নিরাপত্তায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা ও কাজের প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় আমি ইসরায়েলের সব নাগরিকের পক্ষ থেকে তাকে আবারও ধন্যবাদ জানাই। এছাড়াও ইসরায়েলের প্রতি অভূতপূর্ব সমর্থনের জন্য আমি অনেক বিশ্ব নেতাকে ধন্যবাদ জানাই।’ নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েল শুধু নিজের জনগণের জন্যই লড়াই করছে না। আমরা বর্বরতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো প্রতিটি দেশের জন্য লড়াই করছি। এই যুদ্ধে ইসরায়েল জিতবে, আর ইসরায়েল জিতলে সমগ্র সভ্য বিশ্ব জয়ী হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সোমবারের ভাষণে আরও বলেন, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হামাসের বিরুদ্ধে এত শক্তিশালী অভিযান চালাচ্ছে, যা আগে কখনো হয়নি। হামাস বলেছে, যদি ইসরায়েল গাজার মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করে, তাহলে তারা ইসরায়েলের বেসামরিক জিম্মিদের কোনো হুঁশিয়ারি ছাড়াই হত্যা করবে এবং হত্যাকাণ্ড সম্প্রচার করবে। সিএনএনের তথ্য অনুসারে, ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তাসহ ১০০ জনের বেশি জিম্মির দাবি করেছে হামাস।  

অক্টোবর ০৯, ২০২৩
গাজা দখল হবে মারাত্মক ভুল : জো বাইডেন - image

গাজা দখল হবে মারাত্মক ভুল : জো বাইডেন

16 অক্টোবর 2023, বিকাল 6:00

ইসরায়েলের অবিরাম হামলায় অবরুদ্ধ গাজা। উপত্যাকা পরিণত হয়েছে মৃত্যুকূপে। ইসরায়েলের হামলায় এই পর্যন্ত গাজার দুই হাজার ৬৭০ বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে নারী ও শিশু। আহত হয়েছে নয় হাজার ৬০০ জন। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সম্ভাব্য স্থল অভিযান চালানোর অপেক্ষায় নেতানিয়াহুর সরকারের সামরিক বাহিনী। গাজা ছেড়ে যেতে ফিলিস্তিনিদেরকে দেওয়া আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার পরপরই স্থল, আকাশ ও সমুদ্র—তিন পথেই ব্যাপক আক্রমণের প্রস্তুতি নিয়েছে ইসরায়েল। তবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, গাজা দখল হবে মারাত্মক ভুল। মার্কিন টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু সরকারকে এভাবে সতর্ক করেছেন তিনি। খবর এএফপির। ফরাসি সংবাদ সংস্থাটিতে আজ সোমবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সিবিএস নিউজ’কে এক ঘণ্টার সাক্ষাৎকারে জো বাইডেন বলেছেন, গাজায় যা ঘটেছে, আমার দৃষ্টিতে তা হলো হামাস এবং হামাসের বন্ধুরা ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। আমি মনে করি—ইসরায়েলের জন্য আবার গাজা দখল করা একটি ভুল। কিন্তু, ভেতরে প্রবেশ করে হিজবুল্লাহ ও হামাসের মতো বিদ্রোহীদের ধ্বংস করে দেওয়া প্রয়োজন। গাজার মানুষদের ছেড়ে যাওয়ার জন্য একটি মানবিক করিডোর তৈরি করতে এবং ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য সমর্থন করেছেন বাইডেন। তবে, ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে আকস্মিক হামলা চালানো হামাসকে নির্মূল করা দরকার। হামাসের বিষয়ে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় যুক্তরাষ্ট্র। সাক্ষাৎকারে সেই ইঙ্গিত দিয়ে মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘হামাস ফিলিস্তিনি জনগণের সবার প্রতিনিধিত্ব করে না। আমরা হামাসকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে চাই। আমি নিশ্চিত যে, ইসরায়েল জেনেভা কনভেনশন মেনেই কাজ করবে।’ তবে, বাইডেন ইসরায়েলের জন্য প্রথমে একটি রণতরী পাঠিয়েছেন। পরে আরও একটি রণতরী পাঠিয়ে দ্বৈত ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। এদিকে, ইসরায়েলে মার্কিন সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেছেন বাইডেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেছেন, এখনও কিছুই চূড়ান্ত হয়নি এবং তারা প্রেসিডেন্টের ভ্রমণ সম্পর্কে অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলছে না। যদিও বাইডেনের সফর ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন সমর্থনের বড় বার্তা হিসেবেই দেখা হবে। তবে, বাইডেন হামাসের সঙ্গে সংঘাত ইস্যুতে সংযমের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। গত শনিবার রাতে ইসরায়েলি বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, ‘বিস্তৃত পরিসরের’ গাজায় অভিযান চালানো হবে। তবে কবে, কখন এটি শুরু হবে সেটি নিশ্চিত করেনি দখলদারদের সেনা। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হেরজি হালেভি গতকাল রোববার জানান, খুব শিগগিরই গাজায় প্রবেশ করবে তাদের সেনারা এবং গাজায় গিয়ে হামাসকে ধ্বংস করবে তারা।

অক্টোবর ১৬, ২০২৩
বুধবার ইসরায়েল যাচ্ছেন বাইডেন - image

বুধবার ইসরায়েল যাচ্ছেন বাইডেন

16 অক্টোবর 2023, বিকাল 6:00

আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনের এবার ইসরায়েলে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। হামাসের বিরুদ্ধে সংঘাতে সমর্থন জানাতেই বুধবার তেল আবিবে যাবেন তিনি। সফরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী আরব দেশেও সফর করবেন বাইডেন। মঙ্গলবার ভোরে বাইডেনের ইসরায়েল সফরের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন। নেতানিয়াহুর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর তিনি জানান, ইসরায়েলের সঙ্গে সংহতি পুনর্নিশ্চিত করবেন বাইডেন। গাজায় ইসরায়েলি বাহিনির ব্যাপক হামলা ও স্থল হামলার পরিকল্পনার মাঝে এ ঘোষণা দিল আমেরিকা। তেল আবিবে সাংবাদিকদের ব্লিংকেন বলেন, বাইডেন স্পষ্ট করবেন যে ইসরায়েলের অধিকার এবং প্রকৃতপক্ষে তার জনগণকে হামাস ও অন্যান্য সন্ত্রাসীদের থেকে রক্ষা ও ভবিষ্যতের হামলা প্রতিরোধ করার দায়িত্ব রয়েছে। এর আগে ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা আলোচনা করেন ব্লিংকেন। আলোচনা চলাকালে সাইরেন বেজে উঠলে পাঁচ মিনিটের জন্য একটি ব্যাংকারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন তিনি। এদিকে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন কিরবি বলেছেন, ইসরায়েল সফরের পর জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহর পাশাপাশি মিসরীয় রাষ্ট্রপতি ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে দেখা করতে জর্ডানে যাবেন বাইডেন। সপ্তাহখানেক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে কূটনীতিক তৎপরতা নিয়ে ব্যস্ত আছেন অ্যান্টনি ব্লিংকেন। ইসরায়েলের বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক দিয়ে শুরু হয় সফর। এরপর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ, জর্ডান, কাতার, বাহারাইন, মিসর, সৌদি আরব ঘুরে আবারো নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এরপরই আসে বাইডেনের ইসরায়েল সফরের ঘোষণা। সূত্র: আল জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান, সিএনএন, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, এপি

অক্টোবর ১৬, ২০২৩
জিম্মি মার্কিন মা-মেয়েকে মুক্তি, ত্রাণ যাবে গাজায় - image

জিম্মি মার্কিন মা-মেয়েকে মুক্তি, ত্রাণ যাবে গাজায়

20 অক্টোবর 2023, বিকাল 6:00

গাজায় জিম্মি অবস্থায় থাকা দুই মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস। এরা হলেন জুডিথ রানান (৫৯) এবং তার মেয়ে নাতালি রানান (১৮)।মা-মেয়ের এ মুক্তির মধ্য দিয়ে গাজায় মানবিক ত্রাণ সহায়তা যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে আশা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শুক্রবার (২০ অক্টোবর) বলেছেন, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম ২০টি ট্রাক গাজায় পৌঁছাবে। এছাড়া দুই জিম্মির মুক্তি নিশ্চিতে কাতার এবং ইসরায়েলের যৌথ প্রচেষ্টাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। হামাস শুক্রবার (২০ অক্টোবর) মা–মেয়েকে মুক্তি দেওয়ার পর তারা ইসরায়েল সীমান্তে পৌঁছে গেছেন বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।হামাসের হাতে জিম্মি থাকাদের মধ্যে এই দুই নারীই প্রথম যারা মুক্তি পেলেন। খবর আল-জাজিরার। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২০ অক্টোবর) মুক্তি পাওয়ার পর জুডিথ রানান ও তার মেয়ে নাতালি রানান ইসরায়েলে পৌঁছেছেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন-নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। হামাসের মুখপাত্র আবু ওবাইদা বলেছেন, কাতারের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার পর মানবিক কারণে দুই মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, সব পক্ষের সঙ্গে অনেক দিনের লাগাতার যোগাযোগের পর এই দুই জিম্মির মুক্তি মিলেছে। সব দেশের সব বেসামরিক জিম্মির মুক্তিতে আলোচনা মুখ্য ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দুই মার্কিন নাগরিককে মুক্তিতে রেডক্রসও তাদের ভূমিকার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে। এক বিবৃতিতে রেডক্রস জানায়, জিম্মিদের গাজা থেকে ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে তাদের মুক্তি সহজতর করতে সাহায্য করেছে তারা। গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় হামাস। এ পর্যন্ত ইসরায়েলের এক হাজার ৪০০ জনকে হত্যা করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এছাড়া প্রায় ২০০ জনকে জিম্মি করা হয়েছে বলে দাবি করছে দেশটি। এদিকে হামাসের হামলার প্রতিশোধ নিতে ফিলিস্তিনে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করে ইসরায়েল। ইসরায়েলের হামলায় ফিলিস্তিনের হাজার হাজার নিরীহ মানুষের প্রাণ গেছে। ইসরায়েলের নিষ্ঠুর হামলা থেকে বাদ যায়নি নিষ্পাপ শিশুরাও। এর মধ্যে হাসপাতালে হামলা চালিয়ে শিশু-নারীসহ ৫০০ জনকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

অক্টোবর ২০, ২০২৩
গাজায় ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত, পৌঁছেছে ত্রাণের দ্বিতীয় বহর - image

গাজায় ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত, পৌঁছেছে ত্রাণের দ্বিতীয় বহর

22 অক্টোবর 2023, বিকাল 6:00

যুদ্ধবিধ্বস্ত ছিটমহল গাজার মধ্যাঞ্চলে ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান হামলায় রোববার (২২ অক্টোবর) বহু ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। অন্যদিকে, হামাস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যে ১৭টি ট্রাকের আরও একটি বহর ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে পৌঁছেছে। এদিকে, ক্রমশ ছড়িয়ে পড়তে থাকা এই সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননের হিজবুল্লার প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সংঘাতে জড়ালে সেটা হবে তাদের ‘জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল’। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতকে যারা উসকে দিতে চাইছে ওয়াশিংটন তাদের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র এক্ষেত্রে তার ভূমিকা পালনে কোনো ইতস্তত করবে না। গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের অতর্কিত হামলায় এক হাজার ৪০০ লোককে হত্যা করা হয় এবং আরও ২০০ জনেরও বেশি লোক অপহৃত হয়। এই হামলার পাল্টা জবাবে ইসরায়েল গাজায় অবিরাম বিমান হামলা চালাতে থাকে যাতে এ পর্যন্ত চার হাজার ৬০০ লোক নিহত হয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই নিরীহ সাধারণ ফিলিস্তিনি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২১ অক্টোবর) ও রোববারের বিমান হামলায় গাজার মধ্যাঞ্চলের দেইর আল বালাহ এলাকাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মন্ত্রণালয়টি জানায়, রাতব্যাপী হামলায় কমপক্ষে ৮০ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় ৩০টিরও বেশি ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। গাজার মর্গগুলোতে দেখা গেছে অশ্রুসিক্ত চোখে মানুষের ভিড়, যারা সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মরদেহগুলো থেকে নিজেদের স্বজনকে খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, চলমান সংঘাতে তাদের ২৯ জন কর্মী নিহত হয়েছে, যাদের অর্ধেকেরও বেশি ছিলেন শিক্ষক। গাজার মর্গগুলোতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কাজ না করায় এবং সেগুলো পরিপূর্ণ থাকায় বেশ কয়েকটি অজ্ঞাত মরদেহ গণকবরে দাফন করা হয়েছে। এ ছাড়া ক্রমাগত বোমাবর্ষণে শহরটির পরিষেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। হাসপাতালগুলোতে বিঘ্নিত হচ্ছে জরুরি পরিষেবা। ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গাজা সীমান্তের কাছে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের ছোড়া ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী গোলার আঘাতে তাদের একজন সৈন্য নিহত হয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষমন্ত্রী ইয়োআভ গালান্ট জানান, হামাসের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। গালান্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘এই যুদ্ধ এক, দুই বা তিন মাস পর্যন্ত চলতে পারে। তবে, তা শেষ হওয়ার পর হামাস বলতে আর কিছু থাকবে না।’ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোতে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যেই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রোববার তাদের অনিচ্ছাকৃত হামলায় মিসরের একটি সীমান্ত চৌকি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় কায়রোর কাছে ক্ষমাও চেয়েছে তারা। এদিকে হামাস সরকার বলেছে, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলায় এক লাখ ৬৫ হাজার বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। ক্রমশ ছড়িয়ে পড়তে থাকা রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিয়ন্ত্রণে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েল কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে ইরান। দেশটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এই সংঘাত গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আমির আব্দুল্লাহিয়ান বলেন, ‘গাজায় মানবতাবিরোধী তৎপরতা ও গণহত্যা বন্ধে উদ্যোগ না নিলে সংঘাত এই অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে।’

অক্টোবর ২২, ২০২৩
গাজায় ইসরায়েলের হামলায় নিহতের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়াল - image

গাজায় ইসরায়েলের হামলায় নিহতের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়াল

23 অক্টোবর 2023, বিকাল 6:00

অবরুদ্ধ গাজায় সোমবার রাতভর হামলা চালিয়ে অন্তত ১৪০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। এ নিয়ে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৭ জনে।মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে।ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, রাতভর দখলদার ইসরায়েলের অভিযানে ১৪০ জন শহীদ হয়েছে। খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। এতে বলা হয়, গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বর্তমানে ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। ইসরায়েলি হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৩৬ জন নিহত হয়েছে। এরমধ্যে ১৮২ শিশু। এ নিয়ে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫ হাজার ৮৭ জন হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৫৫ শিশু। নারী ১ হাজার ১১৯ জন, প্রবীণ ২১৭ জন। আহত হয়েছে ১৫ হাজার ২৭৩ জন। এর আগে বেসরকারি দাতব্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন জানায়, ইসরায়েলের বিমান হামলায় গাজা উপত্যকায় প্রতি ১৫ মিনিটে একটি শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। মানবিক সংকটের কথা বিবেচনা করে অবিলম্বে গাজায় হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে আকস্মিক হামলা চালায় হামাস। এ সময় ইসরায়েলে ১৪০০ জন নিহতের দাবি করা হয় এবং দুই শতাধিক লোককে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে আসা হয়। এরপরই গাজায় হামলা শুরু করে ইসরায়েল। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে নিরবিচ্ছিন্নভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে নেতানিয়াহু প্রশাসন। ইসরায়েলি হামলায় অবরোধের মধ্যে থাকা অঞ্চলে হাজার হাজার ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে এবং দশ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। পানি, খাদ্য এবং অন্যান্য মৌলিক সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বাসিন্দারা। গাজার চারদিকে শুধু হাহাকার আর আহাজারি। জ্বালানি না থাকায় ও হামলার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল। মরদেহ রাখার জন্য নেই পর্যাপ্ত বডিব্যাগ। মিলছে না সামান্য কাফনের কাপড়ও। পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ যে তা বর্ণনাতীত। গাজায় এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের বোমা হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। উপত্যকাজুড়ে আহতদের চিকিৎসার জন্য জরুরি রক্ত সহায়তা দরকার বলে জানানো হয়েছে। সোমবার ত্রাণবাহী গাড়ির তৃতীয় বহর রাফাহ সীমান্ত দিয়ে গাজায় প্রবেশ করেছে। মিশর ও ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ১২টির বেশি লরি গতকাল রাফাহ অতিক্রম করে। এর আগের দুই দিনে ত্রাণবাহী ৩৪টি ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে।

অক্টোবর ২৩, ২০২৩
গাজায় স্থলযুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল - image

গাজায় স্থলযুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল

25 অক্টোবর 2023, বিকাল 6:00

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন তার দেশ গাজায় সর্বাত্মক স্থলযুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মিত্রদের অসুবিধায় ফেলতে ও গাজায় বাড়তে থাকা মানবিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মধ্যেই তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানালেন। গতকাল বুধবার (২৫ অক্টোবর) জাতির উদ্দেশে এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার প্রান্তে চলে এসেছি।’ গত ১৯ দিন ধরে ফিলিস্তিনের হামাস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ইসরায়েলের অবিরাম বোমাবর্ষণের মুখে হামলা বন্ধে জোড়ালো আন্তর্জাতিক আহ্বানের পরও তিনি টেলিভিশনে তার ভাষণটি দেন। খবর এএফপির। হামাসের রক্তাক্ত হামলার পর নেতানিয়াহু জানান তার অনুসারীরা এখনও দুঃখভারাক্রান্ত ও রাগান্বিত। গত ৭ অক্টোবর হামাসের যোদ্ধারা গাজা থেকে ইসরায়েলে প্রবেশ করে অতর্কিত হামলায় এক হাজার ৪০০ লোককে হত্যা করে। এ ছাড়া আরও প্রায় ২২২ জনকে জিম্মি করে নিয়ে আসে তারা। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েল একের পর এক বিমান হামলা চালাতে থাকে গাজা উপত্যকা লক্ষ্য করে। ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইতোমধ্যে গাজায় কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। নারী ‍ও শিশুসহ সাড়ে ছয় হাজার লোক মারা গেছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি বিভিন্ন সূত্র। আর অব্যাহত বোমাবর্ষণ ও চারদিক থেকে শহরটি অবরুদ্ধ করে রাখায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। নেতানিয়াহু তার ভাষণে হামাসের ওপর ‘নরকের অগ্নিবৃষ্টি’র মাধ্যমে হাজার হাজার সন্ত্রাসীকে হত্যার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, তার মন্ত্রিসভা ও সামরিক বাহিনী স্থল অভিযান কখন শুরু হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের বন্দি লোকজনকে ফিরিয়ে আনতে ও হামাসকে নির্মূল করতেই এই স্থল আক্রমণ চালানো হবে।’ এদিকে, গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ইসরায়েলের উচিত গাজায় স্থল অভিযান শুরুর আগে হামাসের হাতে আটক জিম্মিদের বের করে নিয়ে আসা। তিনি বলেন, ‘এটা তাদের সিদ্ধান্ত এবং এটা আমার দাবি নয়।’ ইসরায়েলের প্রতিরক্ষায় আরও অর্থ সহায়তা করতে কংগ্রেসের প্রতি তিনি আহ্বানও জানান।

অক্টোবর ২৫, ২০২৩
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo