
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘ প্রতীক্ষিত অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে। আজ (শনিবার) ইরান ফুটবল ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, তাদের জাতীয় দল বিশ্বমঞ্চে লড়াই করতে নামছে। তবে এই সম্মতির পেছনে রয়েছে কঠোর কিছু শর্ত। চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে তিন আয়োজক দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডাকে নিজেদের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষায় বিশেষ শর্তাবলীতে রাজি হওয়ার দাবি জানিয়েছে তেহরান।
ফেডারেশনের এই কঠোর অবস্থানের মূলে রয়েছে সাম্প্রতিক কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা। গত মাসে ফিফা কংগ্রেসে অংশ নিতে যাওয়া ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রধানকে কানাডায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। এছাড়া গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের পর থেকেই বিশ্বকাপে
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট মাহদি তাজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ১০টি সুনির্দিষ্ট শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন। এই তালিকায় টুর্নামেন্ট চলাকালীন নির্বিঘ্নে ভিসা প্রদান, ইরানের জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং দলটির যাতায়াতের পথে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে। বিশেষ করে গত কয়েক মাসে বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশের কারণে ফুটবলারদের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটি।
এদিকে ইরানের এই শর্তের বিপরীতে পাল্টা অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানের সাধারণ ফুটবলারদের তারা স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সংগঠন আইআরজিসি (ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিনিধিকে ভিসা দেওয়া হবে না। এর প্রতিক্রিয়ায় মাহদি তাজ দাবি করেছেন, মেহদি তারেমি ও এহসান হাজসাফির মতো তারকা যারা অতীতে সামরিক দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের সবাইকে কোনো প্রকার হয়রানি ছাড়াই ভিসা প্রদান করতে হবে।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ইরান। গ্রুপ ‘জি’-তে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ শক্তিশালী বেলজিয়াম ও মিসর। মাঠের লড়াই শুরুর আগে এখন বিশ্ব ফুটবল ভক্তদের নজর থাকবে মাঠের বাইরের এই কূটনৈতিক দর কষাকষির দিকে, যা আগামী কয়েক সপ্তাহে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।
/টিএ