
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক বৈঠকটি সফল না হলেও, পুনরায় আলোচনায় বসার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা নিরসনে আবারও কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এবারের আলোচনার টেবিল প্রস্তুত করার আগে তেহরানের সামনে দুটি কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। ইসরায়েলি এক গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে এবং বেশ কিছু পক্ষ একটি কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছাতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ওয়াশিংটন এই আলোচনাকে মধ্যপ্রাচ্যের
মার্কিন প্রশাসনের দেওয়া প্রথম শর্তটি মূলত কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আলোচনা শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র চায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেন সব ধরনের জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণভাবে ও বাধাহীনভাবে নিশ্চিত করা হয়। ওয়াশিংটন ‘পারস্পরিকতা’ নীতির কথা উল্লেখ করে সতর্ক করেছে যে, ইরান যদি এই জলপথে জাহাজ চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটায়, তবে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।
দ্বিতীয় শর্তটি আলোচনার স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটন স্পষ্ট করেছে যে, আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধি দলের অবশ্যই ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর পূর্ণ অনুমোদন থাকতে হবে। মূলত যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তি যেন দ্রুত এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চূড়ান্ত করা যায়, তা নিশ্চিত করতেই এই শর্তারোপ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শর্তের বিষয়টি প্রকাশ্যে এলেও এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তেহরান এই শর্ত মেনে আলোচনায় বসবে নাকি নিজস্ব কোনো পাল্টা দাবি উত্থাপন করবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা চলছে। সামনের কয়েক দিন মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির মোড় পরিবর্তনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।