
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ভারত সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে গোপন কূটনৈতিক আলোচনা এবং সিন্ধু নদের পানি বণ্টন চুক্তিতে নমনীয় অবস্থান নেওয়ার খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দেশটির উচ্চপর্যায়ের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে সরকারি বা অনানুষ্ঠানিক কোনো অনুমোদিত আলোচনা চলছে না এবং সিন্ধু নদ চুক্তি শিথিল করারও কোনো পরিকল্পনা নেই। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইসলামাবাদের প্রতি নয়াদিল্লির কঠোর অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে না।
সরকারি সূত্রের ভাষ্য, সম্প্রতি দুই দেশের সাবেক কর্মকর্তা, গবেষক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলোকে সরকারি কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়। এসব বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা ব্যক্তিগত পরিচয়ে উপস্থিত থাকেন এবং সেখানে কোনো সরকারের
ভারতের কঠোর অবস্থানের পেছনে কাশ্মীরের পেহেলগামে গত বছরের প্রাণঘাতী হামলাকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই হামলার পর ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল থেকে ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ চুক্তি কার্যকরভাবে স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয় নয়াদিল্লি। সে সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, পাকিস্তান তার ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে বন্ধ না করা পর্যন্ত চুক্তি পুনর্বহালের কোনো সুযোগ নেই। সরকারি সূত্রের দাবি, নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী নীতির সঙ্গে এখন পানি বণ্টনের বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে গেছে।
এদিকে চুক্তি স্থগিতের পর পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনা জোরদারে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নদীর তলদেশে জমে থাকা পলি অপসারণের কাজও ত্বরান্বিত করা হয়েছে, যাতে দেশের অভ্যন্তরে পানির ব্যবহার বাড়ানো যায়। অন্যদিকে পাকিস্তান ভারতের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে একে আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার পরিপন্থী বলে দাবি করেছে। তবে ভারতের সরকারি সূত্র স্পষ্ট করেছে, সন্ত্রাসবাদ দমনে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা কিংবা সিন্ধু নদ চুক্তিতে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা নেই।
/টি