প্রায় দুই বছর ধরে আইনশঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে মাঠে থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ‘পর্যায়ক্রমে’ ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “সরকারি পর্যায়ে একটা নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, আমরা অনির্দিষ্টকালের জন্য মাঠে সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কাজে রাখতে পারব না।"
সিলেট বিভাগের পাথর কোয়ারির সর্বশেষ অবস্থা ও করণীয় বিষয়ে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এর আগে মঙ্গলবার আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ওই কমিটির সভাপতি।
সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, ৬ জুন থেকে সেনাসদস্যদের প্রত্যাহার শুরুর সিদ্ধান্ত হয় কোর কমিটির সভায়। প্রথমে দূরবর্তী জেলাগুলো থেকে তাদের প্রত্যাহার

হবে, পরে ধাপে ধাপে বিভাগীয় শহর এবং বড় জেলা থেকে তুলে নেওয়া হবে। জুন মাসের মধ্যেই সেনাবাহিনীর সব সদস্যকে মাঠ পর্যায় থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সরকারি চাকরির কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরুর পর এক পর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। ওই পরিস্থিতিতে ১৯ জুলাই কারফিউ জারি করে সেনাবাহিনী নামানো হয়।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ওই বছরের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। সে সময় থানাসহ পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক হামলা হয়, পুলিশ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ে।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে মাঠেই রেখে দেয়। ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাও দেয়।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। আইনশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় কর্মপদ্ধতি নির্ধারণের জন্য গত ২১ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।
গত মঙ্গলবার সেই কমিটির সভায় সেনা প্রত্যাহার শুরুর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, “নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, আমরা পুলিশ বাহিনীকে একটি সুশৃঙ্খল অবস্থায় নিয়ে আসতে পেরেছি বলে আমাদের এখন বিশ্বাস জন্মেছে।"
সেনাবাহিনীকে মাঠ থেকে পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি বলেন, "সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহার করে নিচ্ছি এটা সত্য। তবে আমরা কীভাবে করব, সেটা পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য সংস্থা বসে পর্যায়ক্রমে সে ব্যবস্থাটা নেব।"
দেশে চাঁদাবাজি বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “সময় তো শেষ হয়ে যায়নি। অপেক্ষা করেন, দেখতে পাবেন।”
তিনি বলেন, “প্রতিনিয়ত কিছু না কিছু দাগি আসামি, মাদক সংক্রান্ত আসামি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হচ্ছে। সংক্ষিপ্ত আদালতের মাধ্যমে সাজা নিশ্চিত করা হচ্ছে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।”
সূত্র: বিডি নিউজ ২৪
/টিএ