
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ইরান ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, মার্কিন চাপের মুখে নতি স্বীকারের পথেই হাঁটছে তেহরান এবং দ্রুতই একটি সমঝোতা হতে পারে। তবে ট্রাম্পের এই সুর নরম মনে হলেও মাঠের চিত্র ভিন্ন। মার্কিন কর্মকর্তাদের গোপন ব্রিফিং বলছে, প্রয়োজনে স্থল অভিযান চালানোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে মার্কিন বাহিনী। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইতিমধ্যেই হাজার হাজার মেরিন সদস্য, বিশেষ বাহিনী এবং প্যারাট্রুপার মোতায়েন করা হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের ইঙ্গিত অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বহুমুখী সামরিক অভিযানের কথা ভাবছেন। এর মধ্যে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপে হামলা থেকে শুরু করে দেশটির উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দখলের মতো জটিল অপারেশনও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই রণপ্রস্তুতির বিপরীতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরানও। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মুখে আলোচনার কথা বললেও আড়ালে স্থল হামলার নীল নকশা করছে। তার সাফ কথা, ইরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না এবং যেকোনো মার্কিন হামলা মোকাবিলায় ইরানি সেনারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এদিকে ট্রাম্প প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন, ইরানের তেল সম্পদ দখল করা তার অন্যতম পছন্দের কাজ—যাকে তিনি খারগ দ্বীপ দখলের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন।
উত্তেজনার এই চরম মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আরও সাড়ে তিন হাজার মার্কিন সৈন্য এসে পৌঁছেছে। ট্রাম্পের হাতে অনেকগুলো বিকল্প থাকলেও তিনি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানের সাথে পরোক্ষ আলোচনার বিষয়টিও সামনে এনেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আলোচনা কিছুটা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট মন্তব্য করতে রাজি হননি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। আল-জাজিরার তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ২ হাজার ৭৬ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২১৬ জনই শিশু। আহতের সংখ্যা সাড়ে ২৬ হাজার ছাড়িয়েছে। ভয়াবহ এই হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ইরানের ৩৩৬টি স্বাস্থ্য ও জরুরি সেবা কেন্দ্র। সব মিলিয়ে পুরো অঞ্চল এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে।
/টিএ