
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্রায় শেষ, ভয়ে ইরানের ওপর হামলা বন্ধ করলেন ট্রাম্প !
ইরানকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার এক সর্বগ্রাসী মিশন নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে নেমেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করতে গিয়ে ওয়াশিংটন আজ নিজেই নিজের সামরিক ও মনস্তাত্ত্বিক ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। একের পর এক হুঙ্কার ছেড়েও হঠাৎ পিছু হটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, বাতিল করেছেন তেহরানের ওপর পরিকল্পিত সেই "দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ" স্তরের বিধ্বংসী হামলা। দৃশ্যত একে একটি ‘কৌশলগত যুদ্ধবিরতি’ বা ‘দ্রুত চুক্তির পূর্বশর্ত’ বলে হোয়াইট হাউস প্রচার করলেও বিশ্বমঞ্চের আসল চিত্রটা ভিন্ন।
তবে পরাশক্তি আমেরিকার এই নাটকীয় পিছু হটা কি কেবলই পরমাণু চুক্তির কূটনীতি, নাকি নিজেদের নিঃশেষিত অস্ত্রাগার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়ার
যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক নরম অবস্থানের মূল কারণ তাদের সামরিক মজুতের ভয়াবহ সংকট। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে মার্কিন বাহিনীর ‘প্যাট্রিয়ট অ্যান্টি-মিসাইল ইন্টারসেপ্টর’ আশঙ্কাজনকভাবে ফুরিয়ে এসেছে। যুদ্ধের আগে যেখানে তাদের মজুতে প্রায় ২,৩০০টি ইন্টারসেপ্টর ছিল, তা এখন মাত্র ৮২৭টির নিচে নেমে এসেছে। পেন্টাগন স্বীকার করেছে, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে প্রতিদিন এগুলো ব্যবহার করা মার্কিন সেনাদের নিজেদের সুরক্ষাকেই চরম হুমকির মুখে ফেলেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর বরাতে জানা গেছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পকে সরাসরি ফোন করে এই হামলার পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক ও আমিরাতের মতো আঞ্চলিক মিত্ররা ট্রাম্পকে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। কারণ, সংঘাত ছড়ালে ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি খাত পুরোপুরি ধ্বংস হবে এবং বিশ্ব অর্থনীতি অচল হয়ে পড়বে।
এদিকে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণরূপে উন্মুক্ত করা এবং পরমাণু হুমকি বন্ধের শর্তে ইসরাইলকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এই হামলা স্থগিত করেছেন। তবে তেহরান ট্রাম্পের এই দাবিকে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মজিদ ইবনে আল-রেজা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত এবং নতুন কোনো আগ্রাসন হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্রদের জ্বালানি স্থাপনায় এর চেয়েও বিধ্বংসী জবাব দেওয়া হবে।