বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান, এমপির সামনে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) একটি জলবায়ুবিষয়ক গবেষণা প্রকল্প উপস্থাপন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান ও প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান।
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের (BCCTF) অর্থায়নে পরিচালিত ‘মেঘনা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলের ফসলের বৃদ্ধি ও উৎপাদনের উপর জলবায়ুর প্রভাব নিরূপণ এবং ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসল নির্বাচন’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে নোবিপ্রবির পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ।
দুই বছর মেয়াদি এ গবেষণা প্রকল্পের আওতায় ১৯৫৭ থেকে ২০২১ সালের আবহাওয়ার তথ্য

বিশ্লেষণ করে ২১০০ সাল পর্যন্ত মেঘনা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলের সম্ভাব্য জলবায়ু পরিস্থিতির পূর্বাভাস তৈরি করা হবে। সেই পূর্বাভাসের ভিত্তিতে একটি আধুনিক স্বয়ংক্রিয় গ্রিনহাউজে ভবিষ্যতের জলবায়ু পরিবেশ সৃষ্টি করে প্রচলিত সয়াবিন ও সম্ভাবনাময় মিলেটজাতীয় ফসলের বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা এবং জলবায়ু-সহিষ্ণুতা পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি মাইক্রো-ক্লাইমেট পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় আবহাওয়ার প্রভাব বিশ্লেষণ করে কৃষকদের জন্য উপযোগী অভিযোজন কৌশল প্রণয়ন করা হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ঢাকা ও নোয়াখালীতে ইনসেপশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রিনহাউজ পরিদর্শনের মাধ্যমে গবেষণা দল আধুনিক প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে অত্যাধুনিক গবেষণা গ্রিনহাউজ নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের জন্য আধুনিক গবেষণাগার ও কার্যালয় স্থাপন, গবেষণা সহকারী ও ল্যাব টেকনিশিয়ান নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক গবেষণার বিকল্প নেই। এই গবেষণার মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য উপযোগী জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসল নির্বাচন, কৃষকদের অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তথ্যভিত্তিক সুপারিশ প্রণয়ন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নোবিপ্রবিতে একটি স্থায়ী জলবায়ু গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬-এ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থা পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়নবিষয়ক বিভিন্ন গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম প্রদর্শন করছে। এরই অংশ হিসেবে নোবিপ্রবির গবেষণা প্রকল্পটিও প্রদর্শিত হচ্ছে।
/টি