
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
অবশেষে স্বপ্নের দোরগোড়ায় বাংলাদেশ। আজ মঙ্গলবার পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিংয়ের মাধ্যমে দেশ প্রবেশ করছে এক নতুন যুগে। এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে পারমাণবিক শক্তির অভিজাত ক্লাবে নিজের অবস্থান সুসংহত করল। দেশের প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি শুধু প্রযুক্তির উৎকর্ষই নয়, বরং দেশের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, আজ জ্বালানি লোডিং শুরু হলেও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রক্রিয়াটি হবে ধাপে ধাপে। আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রথম ইউনিট থেকে
কারিগরি দিক থেকে এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল। রাশিয়ার অত্যাধুনিক 'ভিভিআর-১২০০' রিঅ্যাক্টর ডিজাইনের এই কেন্দ্রে মোট ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি স্থাপন করতে সময় লাগবে প্রায় ৩০ দিন। জ্বালানি লোডিংয়ের পর শুরু হবে 'ফিজিক্যাল স্টার্টআপ', যেখানে নিয়ন্ত্রিত চেইন রিঅ্যাকশনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন হবে। রিঅ্যাক্টরের সক্ষমতা পর্যায়ক্রমে ৩০ শতাংশে উন্নীত হওয়ার পরই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। প্রতিটি পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করে পরিচালনা করা হচ্ছে।
প্রকল্পটির বিশালত্ব এর অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থানের চিত্রে স্পষ্ট। প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই মেগা প্রকল্পে রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে। সঞ্চালন লাইনের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে—প্রথম ইউনিটের কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে এবং দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় আড়াই হাজার মানুষের স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি নির্মাণ পর্যায়ে প্রতিদিন হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ভবিষ্যৎ জ্বালানি চাহিদা মেটাতে রূপপুর কেন্দ্রটি হবে এক আস্থার প্রতীক। এর স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ৬০ বছর ধরা হলেও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে তা ৯০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। একবার জ্বালানি লোড করার পর টানা দেড় বছর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, যা আমদানিনির্ভর কয়লা বা গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর তুলনায় অনেক বেশি সুবিধাজনক। যদিও শুরুতে প্রতি ইউনিটের উৎপাদন ব্যয় ৬ টাকা ধরা হয়েছিল, তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের বিদ্যুৎ খাতে স্থিতিশীলতা আনবে।
/টিএ