
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা খাতে সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে পিয়ংইয়ংয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বুধবার এই বৈঠকের খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছে, মঙ্গলবার পিয়ংইয়ংয়ের অ্যাসেম্বলি হলে উত্তর কোরিয়ার জননিরাপত্তামন্ত্রী পাং তু-সোপ এবং রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভ্লাদিমির কোলোকলৎসেভ এই আলোচনায় মিলিত হন। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এই সফর দুই দেশের মধ্যকার গভীর সম্পর্কেরই বহিঃপ্রকাশ।
বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় উভয় দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং জননিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো। দুই দেশের মন্ত্রীরা নিরাপত্তা খাতে একে অপরের অর্জনগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে অপরাধ দমন ও কৌশলগত অংশীদারত্ব বৃদ্ধির উপায়গুলো চিহ্নিত
গত এক দশকে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া একটি ‘সমগ্র কৌশলগত অংশীদারত্ব’ গড়ে তুলেছে, যা ২০২৪ সালের একটি ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক রূপ পায়। ওই চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, যদি কোনো পক্ষ তৃতীয় কোনো দেশ বা পক্ষ দ্বারা আক্রান্ত হয়, তবে অপর পক্ষ তাকে তাৎক্ষণিক সামরিক সহায়তা প্রদান করবে। এই সমঝোতার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই নিরাপত্তা সহযোগিতা এখন সম্মুখ সমরেও দৃশ্যমান। ২০২৫ সালের আগস্টে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার কুর্স্ক অঞ্চলে প্রায় এক হাজার সামরিক প্রকৌশলী পাঠিয়েছে, যারা সেখানে ইউক্রেনীয় বাহিনীর পেতে রাখা স্থলমাইন অপসারণে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার দাবি অনুযায়ী, এর আগে রাশিয়াকে যুদ্ধে সরাসরি সহায়তার জন্য উত্তর কোরিয়া থেকে আনুমানিক ১৫ হাজার সেনাও পাঠানো হয়েছে।
সোমবার একটি বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভ্লাদিমির কোলোকলৎসেভ পিয়ংইয়ংয়ে পৌঁছান। তার এই সফর কেবল প্রশাসনিক সহযোগিতা নয়, বরং পশ্চিমাদের চাপের মুখে মস্কো ও পিয়ংইয়ং যে একে অপরের নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে অবিচল রয়েছে, সেই বার্তাই বিশ্ববাসীকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। নিরাপত্তা খাতের এই নতুন সমঝোতা আগামী দিনগুলোতে এই অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।