
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
২০১৫ সালের প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর নেপালে সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটেছে। তিব্বত অঞ্চলে ভূমিকম্প আঘাত হানার মাত্র তিন মিনিট পর নেপালের মধ্যাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস শুরু হয়। ভয়াবহ এ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৪০৩ জন। নিখোঁজদের বড় একটি অংশ বিদেশি পর্যটক বলে জানিয়েছে নেপাল পর্যটন বোর্ড।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল পার্লামেন্টে জানান, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ভূমিকম্প হয় এবং মাত্র তিন মিনিট পর, ৮টা ৪০ মিনিটে আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। তবে ভূমিকম্পের সঙ্গে বন্যা
নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ৪০৩ জনের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি এবং ৬১ জন নেপালি নাগরিক। বিদেশিদের মধ্যে ভারতের ১৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ২৬টি দেশের নাগরিক রয়েছেন। ট্যুর অপারেটরদের বরাতে বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজদের বেশির ভাগই ভারত-নেপাল সীমান্তবর্তী মানস সরোবরের উদ্দেশে যাত্রা করছিলেন।
দুর্যোগে নদীর তীব্র স্রোতে ঘরবাড়ি ভেসে গেছে এবং বহু এলাকা কাদামাটির নিচে চাপা পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা স্বজনদের নিখোঁজ হওয়ার কথা জানিয়েছেন। এদিকে নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ মিলিয়ে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে।
ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নেপাল সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলাকর্মী মোতায়েন করে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। একই সময়ে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের গিরংয়ে বন্যায় তিনজন নিহত এবং অন্তত ২৬৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন। নেপালের সীমান্তবর্তী তিব্বতের বাণিজ্যকেন্দ্রে ভূমিধসে ব্যাপক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
/টি