
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মেঘনা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি মোকাবিলায় গবেষণাভিত্তিক পরিকল্পনা এবং জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসল নির্বাচনকে গুরুত্ব দিয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ আয়োজিত এবং বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের (বিসিসিটিএফ) অর্থায়নে পরিচালিত ‘মেঘনা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলের ফসলের বৃদ্ধি ও উৎপাদনের উপর জলবায়ুর প্রভাব নিরূপণ এবং ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসল নির্বাচন’ শীর্ষক গবেষণা প্রকল্পের আওতায় ‘মেঘনা অববাহিকায় ভবিষ্যৎ খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি: গবেষণা ও উদ্ভাবন’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ হারুন চৌধুরী। তাছাড়া উক্ত গবেষণা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য দেন নোবিপ্রবির কৃষি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গাজী মো. মহসিন এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, নোয়াখালীর উপপরিচালক মোসাম্মত শওকত আরা কলি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মাত্রা কমাতে পারি, সে লক্ষ্য অর্জনে চলমান গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিরূপ পরিবেশেও ফসল উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য উপযোগী ফসল নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে এই গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। প্রকল্পটি ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে এসেছে এবং তিনি গুরুত্বসহকারে এটি সম্পন্ন করে এর ফলাফল দেশের কৃষিখাতে কাজে লাগানোর নির্দেশনা দিয়েছেন।"
আলোচকরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন, মাটির বৈশিষ্ট্য, লবণাক্ততা এবং আবহাওয়ার ধরনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটছে। এ বাস্তবতায় ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসল নির্বাচন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণা, নির্ভুল জলবায়ু পূর্বাভাস এবং গবেষণালব্ধ ফলাফল মাঠপর্যায়ে প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি কৃষকদের অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও তাঁরা গুরুত্বারোপ করেন।
দুই বছর মেয়াদি এ গবেষণা প্রকল্পের আওতায় ১৯৫৭ থেকে ২০২১ সালের আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে ২১০০ সাল পর্যন্ত মেঘনা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলের সম্ভাব্য জলবায়ু পরিস্থিতির পূর্বাভাস তৈরি করা হবে। সেই পূর্বাভাসের ভিত্তিতে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে নির্মাণাধীন একটি অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় গ্রিনহাউজে ভবিষ্যতের জলবায়ু পরিবেশ সৃষ্টি করে প্রচলিত সয়াবিন এবং সম্ভাবনাময় মিলেটজাতীয় ফসলের বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা ও জলবায়ু-সহিষ্ণুতা পরীক্ষা করা হবে। একই সঙ্গে মাইক্রো-ক্লাইমেট পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় আবহাওয়ার প্রভাব বিশ্লেষণ করে কৃষকদের জন্য উপযোগী অভিযোজন কৌশল প্রণয়ন করা হবে।
প্রকল্প পরিচালক ও সেমিনারের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান বলেন, "এই গবেষণার মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য উপযোগী জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসল নির্বাচন, কৃষকদের অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তথ্যভিত্তিক সুপারিশ প্রণয়ন করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্থায়ী জলবায়ু গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে, যা ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।"
সেমিনারের শেষভাগে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর এবং বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন আলোচকবৃন্দ।
/টি