
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা শেষ হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। এখন কমিশনের মূল লক্ষ্য—‘জুলাই জাতীয় সনদ’কে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া। তবে সনদটি আইনি কাঠামোর ভেতরে আনবে কি না, আর তা বাস্তবায়নের রূপরেখা কেমন হবে—এই প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।
কমিশন সূত্র জানায়, প্রথম ধাপের আলোচনার ভিত্তিতে যেসব বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, সেগুলো লিখিত আকারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে আলোচনায় আসা বিষয়গুলোর সারসংক্ষেপও শিগগিরই দলগুলোর কাছে পাঠানো হবে। এরপর দলগুলোর পরামর্শ ও সংশোধনী একত্র করে চূড়ান্ত সনদ তৈরি করা হবে এবং তাতে দলগুলোর স্বাক্ষর নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
কমিশনের ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, জাতীয় সনদ
কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, “কয়েক দিনের মধ্যেই জুলাই সনদের একটি পূর্ণাঙ্গ খসড়া উপস্থাপন করা হবে। এরপর দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও আমরা অনুঘটকের ভূমিকা রাখব। দলগুলোর নিজেদের মধ্যেও আলোচনা চালিয়ে যেতে বলেছি।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, জাতীয় সনদ তাদের হাতে এলেই তারা স্বাক্ষর করবেন। তিনি বলেন, “এই সনদ বাস্তবায়নে আমরা জাতিকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুই বছরের মধ্যে সনদের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য আমরা প্রয়োজনীয় সংবিধান ও আইন সংশোধনে প্রস্তুত।”
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, আইনি ভিত্তির বিষয়ে এখনও বড় ধরনের অস্পষ্টতা রয়েছে। তিনি মনে করেন, সনদকে কার্যকর করতে আইনি কাঠামো—অধ্যাদেশ, গণভোট কিংবা রাষ্ট্রীয় ফরমান—নির্ধারণ জরুরি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, “জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ছাড়া এটি অর্থহীন হয়ে পড়বে। বিএনপি শুধু রাজনৈতিক স্বীকৃতি দিতে চায়, আইনগত নয়—এটি আমাদের জন্য উদ্বেগের।” তিনি বলেন, আইনি ভিত্তি নিয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত না এলে এনসিপি সনদে স্বাক্ষর করবে কি না, তা পুনর্বিবেচনা করা হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও এ বিষয়ে পর্যালোচনা করেছে। শুক্রবার দলের বৈঠকে পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) ব্যবস্থা আলোচনার এজেন্ডায় না থাকায় উদ্বেগ জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, সংস্কারমূলক প্রস্তাব নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা শেষে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় গত ২৩ দিনে ১৯টি মৌলিক বিষয়ের ওপর আলোচনা হয়, যার মধ্যে ৮টিতে পূর্ণ ঐকমত্য এবং ১১টিতে ভিন্নমতসহ সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রথম দফায় যেসব বিষয়ে মতৈক্য হয়নি, সেগুলোকে কেন্দ্র করেই দ্বিতীয় ধাপে দলগুলোর সম্মিলিত আলোচনা চলে।
এম এইচ, এটিএন বাংলা