টেকসই স্বপ্নের বীজ বুনে কিভাবে সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে হয়, সেই পথ দেখিয়েছিলেন তিনি। শুধু চার দেয়ালের ভেতরেই নয়, অবহেলিত নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তির এক বৈশ্বিক কাণ্ডারি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন এই মহিয়সী নারী। খাদের কিনারা থেকে হাজারো নারীকে উদ্যোক্তা বানানোর সেই কারিগর, এবার পাড়ি জমালেন না ফেরার দেশে।
মরণব্যাধি ক্যানসারের সাথে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে চিরদিনের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল একটি সংগ্রামী ও উদ্যোগী কণ্ঠস্বর। থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন দেশের শীর্ষ এই নারী উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী সেলিমা আহমাদ। নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মাতলুব আহমাদের সহধর্মিণী সেলিমা আহমাদ প্রয়াণে শোকের কালো ছায়া

নেমে এসেছে দেশের ব্যবসা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে। মরহুমা সেলিমা আহমাদ নিটল নিলয় গ্রুপের সম্মানিত এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আগামী মঙ্গলবার তার মরদেহ ঢাকা পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ শুধু কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবে রূপ দিতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন 'বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি'। নিটল ও নিলয়—দুই সন্তানের নাম মিলিয়ে গড়ে তোলা করপোরেট সাম্রাজ্য সামলানোর পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতাও করেছেন এই মহীয়সী নারী। তার দূরদর্শিতা ও কর্মযজ্ঞ শুধু দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ ছিল না; ইন্টারন্যাশনাল অ্যালায়েন্স ফর উইমেনের বৈশ্বিক দূত হিসেবে বিশ্বমঞ্চেও কুড়িয়েছেন ব্যাপক প্রশংসা।
কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক অসলো বিজনেস ফর পিস অ্যাওয়ার্ড এবং ২০২২ সালে লাভ করেন বিশেষ সম্মানজনক একটি পদক। তবে শুধু ব্যবসার আঙিনায় নিজেকে আটকে রাখেননি সেলিমা আহমাদ। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সম্মানিত সংসদ সদস্য হিসেবে সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। জনতা ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদেও রেখেছেন নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর।
একটি জীবনাবসান হয়তো নিয়তির নিয়ম, কিন্তু সেলিমা আহমাদ দেশের কোটি নারীর আত্মনির্ভরশীল হওয়ার যে চেতনা জাগিয়েছেন, তা বেঁচে থাকবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। এই মহীয়সী নারীর মৃত্যুতে এটিএন বাংলা পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।