এ সম্পর্কিত আরও খবর
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের ১০টি গ্রামে একটি পাগলা কুকুরের বেপরোয়া কামড়ে শিশু ও নারীসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে কুকুরের এমন আকস্মিক তাণ্ডবে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ শনিবার দুপুরের পর একটি উগ্র ও হিংস্র কুকুর শঠিবাড়ী শিশু নিকেতন এলাকা থেকে তাণ্ডব শুরু করে। এরপর কুকুরটি চিথলী মধ্যপাড়া, শীতলগাড়ী, রামপুরা ও চিথলী দক্ষিণ পাড়াসহ সংলগ্ন ১০টি গ্রামের বিভিন্ন সড়কে চলাচলরত পথচারী, গৃহস্থালির কাজে ব্যস্ত নারী এবং মাঠে খেলাধুলা করা শিশুদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। চোখের পলকে একের পর এক মানুষকে কামড়ে ও আঁচড়ে রক্তাক্ত করে তোলে সেটি। পরে স্থানীয় লোকজন একত্রিত হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া করলে কুকুরটি পালিয়ে যায়।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ও চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন— আল ফারুক, সেলিনা বেগম (৩৩), শিশু লাবিব (৫), লাবিব (২৫), শফিউল (৩২), হাসেম (২৮), ফাহিম (১৮), সানজিদা (১১) এবং মাসুদ রানা (২৭)।
ভুক্তভোগীরা জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ কুকুরটি পেছন থেকে লাফিয়ে এসে কামড় বসিয়ে দেয়। এ ঘটনার পর থেকে অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক কাজ করছে; ছোট বাচ্চাদের ঘরের বাইরে পাঠাতেও ভয় পাচ্ছেন তারা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. কামিয়াবী দৃষ্টি বলেন, শুক্রবার দুপুরের পর থেকেই কুকুরের কামড়ের শিকার হয়ে একের পর এক রোগী হাসপাতালে আসতে শুরু করেন। এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন, যার মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। অনেকের শরীরে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। তাদের তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা, ক্ষতের পরিচর্যা এবং জলাতঙ্ক (র্যাবিস) প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। আমাদের হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ ও ভ্যাকসিন রয়েছে।
হাসপাতালের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের চিকিৎসক ডা. এম. এ হালিম লাভলু জানান, আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে আশঙ্কাজনক ও গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদের স্থানীয়ভাবে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান বলেন,বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগের। খবর পাওয়ার পর থেকেই আমরা পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছি। সাধারণত জলাতঙ্ক বা অন্য কোনো কারণে কুকুর এ ধরনের উগ্র আচরণ করে থাকে। ইউনিয়ন পর্যায়ে বেওয়ারিশ ও ক্ষতিকারক কুকুর নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।