logo

ইফতারের সময়

ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং, কষ্টে আছে মানুষ - image

ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং, কষ্টে আছে মানুষ

17 এপ্রিল 2023, বিকাল 6:00

বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেকর্ডের মধ্যেও দেশজুড়ে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং হচ্ছে। অসহ্য গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। দিনে-রাতে সব সময়ই বিদ্যুৎ যাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে দিনে-রাতে ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টারও বেশি লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে। অনেক গ্রামে রাতে বিদ্যুৎ আসেই না। এ অবস্থায় ফুঁসে উঠেছে গ্রামের মানুষ। কোনো কোনো গ্রামে পল্লী বিদ্যুৎকেন্দ্রের অফিসেও হামলা হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। শিল্পমালিকরা বলেছেন, একবার কারখানা বন্ধ হলে পুরো কাঁচামাল নষ্ট হয়ে যায়। নতুন করে ফ্যাক্টরি চালু করতে আরও ২/৩ ঘণ্টা সময় লাগে। এ অবস্থায় ঈদের আগে ব্যবসা-বাণিজ্য চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কয়েকদিন ধরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে ঢাকা, গাজীপুর, সাভার, কোনাবাড়ী, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ময়মনসিংহ এলাকার পোশাকসহ অন্যান্য কারখানায় উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিল্পমালিকরা জানিয়েছেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে দিনের অধিকাংশ সময় কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সময়মতো বিদেশে পণ্য পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রপ্তানি অর্ডার বাতিলের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্টরা বলেছেন, তাপমাত্রা না কমা পর্যন্ত ভোগান্তি কমবে না। জানা যায়, গ্রামে অর্থাৎ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) আওতাভুক্ত এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে গড়ে দুই হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি। লোডশেডিংয়ে বেশি নাজুক ৬৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। তবে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর পরিস্থিতি কিছুটা ভালো। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ঢাকার শপিংমলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোয় স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। ইফতার, তারাবি ও সেহরির সময়ও লোডশেডিং করা হচ্ছে না বলে জানায় বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো। গ্রাহকরা বলেছেন, ঢাকায় দিনে বিদ্যুৎ থাকলেও বিদ্যুৎ যাচ্ছে গভীর রাতে। বিশেষ করে রাত ১টার পর বিভিন্ন এলাকায় এক ঘণ্টার মতো লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে। অনেকেই বলছেন, ঘুমের প্রস্তুতি নিয়ে বিছানায় যেতেই লোডশেডিং হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গরম বেড়ে যাওয়ায় এসি ও ফ্যান বেশি চলছে। পাশাপাশি রমজান ও সেচ মৌসুম চলার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা একলাফে অনেক বেড়েছে। উৎপাদনের চেয়ে চাহিদা বেশি হওয়ায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। ঢাকার বাইরে রাতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি খুবই খারাপ। গরমে অতিষ্ঠ মানুষ রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। অনেকে অসহ্য হয়ে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসছেন। ব্যাহত হচ্ছে সেচ কার্যক্রম। অনেক এলাকায় সেচ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে ধানের ফলনে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে রাজনীতি না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেছেন, ‘রাজনৈতিক বিরোধ যদি ক্রান্তিকালেও থাকে, তাহলে বুঝতে হবে উদ্দেশ্য ভালো না। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।’ সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুজিবনগর দিবসের আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘গরম বেশি পড়লে বিদ্যুতের তার গরম হয়, তখন ঝুঁকিও বাড়ে।’ সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের জন্য এটাও কারণ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। উপদেষ্টা বলেন, ‘বিদ্যুতের অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে। কিছুদিন আগেও পরিস্থিতি ভালো ছিল না। জ্বালানি সংকটের মধ্যে এখন আর বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব না।’ তিনি বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশে এখন যে সংকট হচ্ছে, তা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফল। বর্তমানে যে পরিমাণ এলএনজি আমদানি হচ্ছে তাতে বিদ্যুতের ঘাটতি হওয়ার কথা না। শত প্রতিবন্ধকতা শর্তেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।’ ১৩ এপ্রিল দেশের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৩০৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। এর মাধ্যমে ১৫ হাজার মেগাওয়াটের নতুন মাইলফলক অতিক্রম করে বাংলাদেশ। কিন্তু এরপরও গরমের কারণে বিদ্যুতের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। চলতি বছর যে পরিমাণ গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধির কথা পেট্রোবাংলাকে বলা হয়েছিল, ঠিক ওই পরিমাণ সরবরাহ পাচ্ছে না পেট্রোবাংলা। ফলে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ার এটাও একটা কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এখন সারা দেশে সরকারিভাবে ১০০০ মেগাওয়াটের মতো লোডশেডিংয়ের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা আরও বেশি। বিতরণ কোম্পানিগুলোর হিসাবে এই লোডশেডিং ১৫শ থেকে ২ হাজার মেগাওয়াট। সর্বোচ্চ চাহিদার সময় এখন গড়ে ১৪ হাজার ৫০০ থেকে সাড়ে ১৫ হাজারের ওপরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। এবার গরমের কারণে অন্য বছরের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে সর্বোচ্চ ১১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে ফার্নেস অয়েলচালিত কেন্দ্রগুলোর জন্য কিছুটা বিপাকে পড়েছে পিডিবি। না-হলে চলতি বছর আরও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হতো। ১৬ এপ্রিল উৎপাদন লক্ষ্য ধরা হয় ১৩ হাজার ৯৪৮ মেগাওয়াট। অবশ্য আগের দিন শনিবার নিট উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ৯৭৮ মেগাওয়াট। এরপরও পিডিবির হিসাবে সারা দেশে ৯৫০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। সব চেয়ে বেশি লোডশেডিং হচ্ছে ময়মনসিংহ জোনে। এখানে দৈনিক ১৯৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে। ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির (ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান জানান, তাদের কোনো লোডশেডিং করতে হচ্ছে না। কিছু উপকেন্দ্রে সমস্যার কারণে কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ থাকে না। এটাকে লোডশেডিং বলা যাবে না। সোমবার সর্বোচ্চ ১৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে ডিপিডিসি এলাকায়। তবে পিডিবি বলছে, ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোয় সব মিলিয়ে ৬০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হচ্ছে। ঢাকায় সব মিলিয়ে চাহিদা ৫ হাজার ২২০ মেগাওয়াট। সরবরাহ করা হচ্ছে ৫ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট। বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বমূল্যের কারণে গত বছর সরকার গ্যাস ও তেল আমদানি কমিয়ে দেয়। ফলে ঘোষণা দিয়ে লোডশেডিং করে সরকার। গত ফেব্রুয়ারি থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হয়। ফলে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। এখন দিনে গড়ে ১০০ কোটি ঘনফুটের ওপর গ্যাস দেওয়া হচ্ছে বিদ্যুতে। আগে এটা ছিল ৮০-৮৫ কোটি ঘনফুট। ফার্নেস অয়েলেরও দাম কমেছে। পাশাপাশি কয়লাভিত্তিক নতুন কয়েকটি কেন্দ্র উৎপাদনে এসেছে। এতে চলতি মৌসুমের শুরু থেকে চাহিদার কাছাকাছি ছিল বিদ্যুৎ উৎপাদন। ফলে তেমন লোডশেডিং ছিল না। এক সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে লোডশেডিং বাড়তে থাকে। ১৩ এপ্রিল রাত ৯টায় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ১৫ হাজার ৩০৪ মেগাওয়াট। সেসময়ও ঢাকায় ৩০৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। ১৪ এপ্রিল লোডশেডিং ছিল সর্বোচ্চ ১ হাজার ২৮০ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২২ হাজার ৫৬৬ মেগাওয়াট। সোমবার বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার মেগাওয়াট। সর্বোচ্চ উৎপাদন ১৪ হাজার ১০৪ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ৮৯৬ মেগাওয়াট। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রকৃত লোডশেডিং আরও বেশি। সূত্রের তথ্যমতে, সোমবার বিদ্যুতের ঘাটতি দুই হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। সক্ষমতা থাকলেও চাহিদা অনুসারে বিদ্যুৎ উৎপাদিত না হওয়ার জন্য জ্বালানি সংকট এবং কেন্দ্র মেরামত ও সংরক্ষণের জন্য বন্ধ থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা। জানা যায়, গ্যাস ও জ্বালানি তেল সংকটে সোমবার ৪ হাজার ১৫৬ মেগাওয়াট এবং কেন্দ্র মেরামত ও সংরক্ষণের জন্য ২ হাজার ৬৪৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে দিনে কমপক্ষে ১২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু পেট্রোবাংলা সরবরাহ করছে গড়ে ১০০ কোটি ঘনফুট। এছাড়া বিতরণ ও সঞ্চালন লাইনের ত্রুটির কারণে প্রায় বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎবিভ্রাট হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) প্রধান প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কেন্দ্রীয়ভাবে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় তারা লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন।রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধীন নগরীর বর্ধিত অংশে দুদিন ধরে বিদ্যুৎ শুধু যাচ্ছে আর আসছে। রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি রেজাউল ইসলাম মিলন স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আধা ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করায় ঈদের আগে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ক্রেতার সংখ্যা অনেক কমে গেছে। রংপুর বিভাগের আট জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ৯০০ মেগাওয়াট। বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট। কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ১৫-২০ মিনিট থেকে পুনরায় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। একবার গেলে আর আসার নাম নেই। রোববার ভোর ৪টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত ১৪ ঘণ্টায় আটবার বিদ্যুৎবিভ্রাট হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে দৈনিক ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি দুই ঘণ্টা পর এক ঘণ্টা লোডশেডিং করছে। ঝিনাইদহের অধিকাংশ এলাকায় ইফতার, তারাবি ও সেহরির সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চার-পাঁচ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকছে না। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে হামলা : প্রচণ্ড গরমে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ‘অতিষ্ঠ’ হয়ে ‘বিক্ষুব্ধ’ লোকজন ফেনীর ছাগলনাইয়ার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে ছাগলনাইয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. জানে আলম জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে বিক্ষুব্ধ দুই সহস্রাধিক জনতা বিদ্যুৎ অফিসে হামলা চালিয়ে অফিসের গেট, আসবাবপত্র, দরজা ও জানালার কাচ ভাঙচুর করেছে। এ সময় ভয়ে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।’ স্থানীয়রা বলেছেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ২০ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে মানুষ। বাসাবাড়ি ও মসজিদে পানির জন্য হাহাকার পড়ে যায়। ইফতার, তারাবি, সেহেরি ও নামাজের সময় বিদ্যুৎ না থাকায় রোজা রাখা এবং ইবাদত করতেও সমস্যা হচ্ছে মানুষের। এদিকে সিলেটে মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎবিভ্রাটের যন্ত্রণায় নগরীতে মধ্যরাতে সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয়রা। তবে সড়ক অবরোধের প্রায় ১৫ মিনিট পর বিদ্যুৎ চলে এলে তারা অবরোধ তুলে নেয়। গত রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর নয়াসড়ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকায় ইফতারের আগ থেকেই বিদ্যুৎ ছিল না। বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ইফতার ও তারাবির নামাজ পরে রাত ১১টার দিকে বাধ্য হয়ে তারা সড়ক অবরোধ করেন। তিন দিন ধরে সিলেটের সব এলাকায়ই চলছে চরম বিদ্যুৎবিভ্রাট। একদিকে রমজান, অন্যদিকে গরমের উত্তাপ। এমন পরিস্থিতিতে কয়েকদিন ধরেই সিলেটে বিদ্যুৎ থাকছে না ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ইফতারের সময় যেমন বিদ্যুৎ চলে যায়, তেমনই রাতে সেহেরির সময়ও বিদ্যুৎ চলে যায়। দিন-রাত মিলিয়ে ৮-১০ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না সিলেটবাসী। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

এপ্রিল ১৭, ২০২৩
মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ল - image

মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ল

26 মার্চ 2024, বিকাল 6:00

মেট্রোরেল রাত ৯টার পরেও চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ সিদ্ধান্ত বুধবার (২৭ মার্চ) থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক। আজ এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও পোস্ট দিয়েছে ডিএমটিসিএল। ‘২৭ মার্চ থেকে মেট্রোরেল চলাচলের নতুন সময়সূচি’ শিরোনামে ওই পোস্টে জানানো হয়েছে, ১৬ রমজান (বুধবার) থেকে উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে সর্বশেষ ট্রেন ছাড়বে রাত ৯টায় এবং মতিঝিল স্টেশন থেকে সর্বশেষ ট্রেন ছাড়বে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে। বর্তমানে মেট্রোরেল চলাচল করছে সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত। পিক আওয়ারে (সকাল ৭টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা এবং বেলা ২টা থেকে রাত ৮টা) প্রতি ৮ মিনিট পরপর মেট্রোরেল চলাচল করে। আর বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অফ পিক আওয়ারে ১২ মিনিট পরপর ট্রেন চলাচল করে। ডিএমটিসিএল প্রজেক্ট ৬-এর উপপ্রকল্প পরিচালক (গণসংযোগ) উপসচিব  তরফদার মাহমুদুর রহমান স্বাক্ষরিত ‘বিশেষ নোটে’ বলা হয়, ২৭ মার্চ ২০২৪ তারিখ থেকে মেট্রো ট্রেন চলাচলের সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়ানো হচ্ছে। মতিঝিল থেকে সর্বশেষ ট্রেন এখন রাত ৮ টা ৪০ মিনিটের পরিবর্তে রাত ৯ টা ৪০ মিনিটে ছাড়বে এবং ট্রেনটি প্রত্যেকটি স্টেশনে থেমে উত্তরা উত্তর স্টেশনে পৌঁছাবে রাত ১০ টা ১৪ মিনিটে। এই বর্ধিত সময়ে ১২ মিনিট অফ পিক হেডওয়েতে আরও ১০ বার মেট্রো ট্রেন চলাচল করবে। এতে দৈনিক মেট্রো ট্রেন ১৯৪ বার চলাচল করবে এবং চার লাখ ৪৭ হাজার ৭৫২ জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন।সকাল ৭টা ১০ মিনিটে এবং সকাল ৭টা ২০ মিনিটে উত্তরা উত্তর মেট্রোরেল স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া মেট্রো ট্রেন দুটিতে শুধুমাত্র এমআরটি বা র‌্যাপিড পাস ব্যবহার করে ভ্রমণ করা যায়। রাত ৯ টার পর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া মেট্রো ট্রেনসমূহে শুধুমাত্র এমআরটি বা র‌্যাপিড পাস ব্যবহার করে ভ্রমণ করা যাবে। রাত ৮টা ৫০ মিনিটের পর মেট্রোরেল স্টেশনসমূহের সব টিকিট বিক্রয় অফিস এবং টিকিট বিক্রয় মেশিন বন্ধ হয়ে যাবে। এ ছাড়া সব মেট্রোরেল স্টেশন থেকে সকাল ৭টা ১৫ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত সিঙ্গেল জার্নি টিকিট কেনা যাবে। একইসঙ্গে এমআরটি পাস কেনা এবং এমআরটি বা র‌্যাপিড পাস টপ আপ করা যাবে। www.dmtcl.gov.bd অথবা মেট্রোরেল স্টেশন হতে আমআরটি পাসের নিবন্ধন ফরম সংগ্রহপূর্বক যথাযথভাবে পূরণ করে এ সময়ে যেকোনো মেট্রোরেল স্টেশন থেকে এমআরটি পাস কেরা যাবে। এমআরটি পাস অথবা সিঙ্গেল জার্নি টিকিট সম্পর্কিত তথ্যাদি, সিঙ্গেল জার্নি টিকিট বা এমআরটি পাস বা র‌্যাপিড পাস প্রবেশ গেইটে স্পর্শ করার পর বহির্গমন এলাকায় (পেইড এরিয়া) অবস্থানের সর্বোচ্চ সময়সীমা শুধুমাত্র পবিত্র রমজান মাসের জন্য ৭৫ (পঁচাত্তর) মিনিট। নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় অফিসে একশত টাকা জরিমানা পরিশোধ করতে হবে। পূর্বের ন্যায় পবিত্র রমজানের ইফতারে পানি পান করার জন্য প্রত্যেক যাত্রী মেট্রো ট্রেন ও স্টেশনের পেইড এরিয়োতে শুধুমাত্র ২৫০ মিলি লিটার পানির বোতল বহন করতে পারবেন। তবে, পানি যেন পড়ে না যায় সেই বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ব্যবহৃত পানির বোতল অবশ্যই প্ল্যাটফর্ম বা কনকোর্স বা প্রবেশ ও বাহির্গমন গেটে রক্ষিত ডাস্টবিনে ফেলতে হবে অথবা সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। ইফতারের সময়সূচি প্রতিটি মেট্রো ট্রেনের কোচের ভেতরের গ্যাংওয়ে ডোরের পাশে লাগানো আছে। মেট্রো ট্রেনের কোচের অভ্যন্তরে এলসিডি স্যালুন ডিসপ্লে এবং মেট্রোরেল স্টেশনসমূহের কনকোর্স লেভেলের লিকুয়েড ক্রিস্টাল ডিসপ্লে (এলএসডি) স্ক্রিনগুলোতেও ইফতারের সময়সূচি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিটি মেট্রো ট্রেনে ইফতারের সময় ঘোষণা করা হচ্ছে। আরও বলা হয়েছে, কোনো অবস্থাতেই প্ল্যাটফর্ম, কনকোর্স ও মেট্রো ট্রেনের অভ্যন্তরে কোনো খাবার গ্রহণ করা যাবে না। মেট্রোরেলের সাপ্তাহিক বন্ধ শুক্রবার। এ ছাড়া ঈদুল ফিতরের দিন মেট্রোট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে।

মার্চ ২৬, ২০২৪
গাজায় রমজান: ধ্বংসের মাঝে অবিচল বিশ্বাস - image

গাজায় রমজান: ধ্বংসের মাঝে অবিচল বিশ্বাস

01 মার্চ 2025, বিকাল 6:00

গাজায় রমজান: ধ্বংসস্তূপের মাঝেও অবিচল বিশ্বাস পবিত্র রমজান শুরু হয়েছে। সারা বিশ্বের মুসলমানদের মতো গাজার বাসিন্দারাও রোজা রাখা শুরু করেছেন, যদিও ইসরায়েলি আগ্রাসনে বিধ্বস্ত এই ভূখণ্ডে উৎসবের আনন্দ নেই। যেখানে অন্য দেশের মানুষ রমজানের আগমন উদযাপন করছে, গাজার মানুষ সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। তবে তাদের ঈমান ও বিশ্বাস অটুট রয়েছে। গাজাবাসীর রমজান ও বিশ্বাসের গল্প তুলে ধরেছেন ফিলিস্তিনি লেখিকা ইসরা আবু ক্বামার, যা প্রকাশ করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। বিশ্বের অন্যান্য স্থানে যখন মানুষ উৎসবের আবহে রমজানের রোজা ও ইবাদতে মগ্ন, গাজাবাসী তখন শোক ও কষ্টের মধ্যে এই পবিত্র মাস পালন করছে। যুদ্ধের ক্ষত এখনো টাটকা, আর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। এই যুদ্ধবিরতি কতদিন স্থায়ী হবে, কেউ জানে না। সবার মনে আতঙ্ক—যদি আবার যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়! গত এক বছরে যে ভয়াবহতা গাজার মানুষ দেখেছে, তা মনকে ভারাক্রান্ত করে রেখেছে। তবে এটিই প্রথমবার নয় যে, গাজায় রমজান কাটছে যুদ্ধের ছায়ায়। ২০১৪ সালেও যুদ্ধের মধ্যে রোজা রাখতে হয়েছিল। তখন লেখিকার বয়স ছিল মাত্র ৯, কিন্তু আজও স্পষ্ট মনে আছে, কীভাবে বিমান হামলার মাঝে রমজানের রাতগুলো কাটতো, কীভাবে আতঙ্কে রাতের আঁধারে পালিয়ে যেতে হয়েছিল। কিন্তু গত বছরের রমজান ছিল আরও বিভীষিকাময়। চারদিকে কেবল ক্ষুধা আর অভাব। সারাদিন উপবাসের পর ইফতারে মিলতো মাত্র একটি ক্যান হামুস বা মটরশুঁটি, যা ছয়জন মিলে ভাগ করে খেতে হতো। বিদ্যুৎ না থাকায় সেই বিস্বাদ টিনজাত খাবারই ছিল একমাত্র উপায়। পরিবারের সদস্যদের মুখও পর্যন্ত দেখা যেত না অন্ধকারে। রমজানের স্বাভাবিকতা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল গাজার মানুষ। আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে একত্রিত হওয়ার পরিবর্তে সবাই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গিয়েছিল—কেউ আশ্রয়শিবিরে, কেউ অন্য কোথাও আটকে ছিল। যে মাসটি আনন্দ ও সংযোগের, তা হয়ে উঠেছিল নিঃসঙ্গতা ও বিচ্ছিন্নতার। রমজানের পরিচিত ধ্বনি—আজান, তিলাওয়াত, মসজিদের মাইকের কণ্ঠস্বর—সব হারিয়ে গিয়েছিল। মসজিদগুলো ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, মুয়াজ্জিনেরা পর্যন্ত ভয় পেতেন, কারণ তাঁদের কণ্ঠস্বর যেন বোমার নিশানা না হয়ে যায়। ইফতারের সময় লাউডস্পিকারে আজানের পরিবর্তে শোনা যেত ক্ষেপণাস্ত্রের বিকট শব্দ। যুদ্ধের আগে ইফতারের পর পরিবারের সঙ্গে মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়া, রমজানের উৎসবমুখর পরিবেশ উপভোগ করা, শেষে সুস্বাদু কাতায়েফ খাওয়ার যে আনন্দ ছিল, তা পুরোপুরি মুছে গিয়েছিল। গত বছর, গণহত্যার মধ্যে, কোথাও যাওয়ার সুযোগ ছিল না। গাজার অন্যতম ঐতিহাসিক ও সুন্দর গ্রেট ওমরি মসজিদ, যেখানে লেখিকার বাবা ও ভাইয়েরা রমজানের শেষ দশ দিন ইবাদতে কাটাতেন, যেখানে সুমধুর কণ্ঠে কোরআন তিলাওয়াত হতো—তা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। এ বছর রমজান শুরু হয়েছে আপাতত যুদ্ধবিরতির মধ্যে। এখন অন্তত ইফতারের সময় বোমার আঘাতে মাটি কাঁপে না, ফজরের সময় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় না। রঙিন বাতিগুলো অন্তত ভয় ছাড়াই জ্বলতে পারে, কারণ সেগুলোকে আর হামলার লক্ষ্যবস্তু বানানো হবে না। এর মধ্যেও গাজায় জীবন স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছে। যেসব দোকানপাট এখনো টিকে আছে, তারা আবার চালু হয়েছে, ফেরিওয়ালারা রাস্তায় ফিরেছে। নুসেইরাতের হাইপার মলও খুলেছে, যেখানে লেখিকার বাবা তাকে ও তার বোনকে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে ঢুকে মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল, যেন অতীতে ফিরে গিয়েছেন। তাকাগুলো ভরে গিয়েছে চকোলেট, বিস্কুট, চিপস, রমজানের সাজসজ্জা, ফানুস, খেজুর আর শুকনো ফল দিয়ে। কিন্তু এই দৃশ্য কেবলই একটি বিভ্রম। এই পণ্যগুলোর বেশিরভাগই এসেছে বাণিজ্যিক ট্রাকের মাধ্যমে, যা মানবিক সহায়তার পরিবর্তে গাজায় প্রবেশের অনুমতি পেয়েছে। অথচ এগুলো সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে, যারা তাদের জীবন ও জীবিকা হারিয়েছে। গাজার বেশির ভাগ মানুষ এবার ইফতারে কী খাবে? হয়তো গত বছরের তুলনায় একটু ভালো কিছু—ভাত, মোলোখিয়া বা যতটুকু সবজি কেনার সামর্থ্য হবে। লেখিকার পরিবার তাদের প্রথম ইফতারের জন্য মুসাখান—একটি ঐতিহ্যবাহী ফিলিস্তিনি খাবার তৈরি করছে। তবে তিনি জানেন, তাঁরা ভাগ্যবান। কারণ অধিকাংশ গাজাবাসীর সেই সামর্থ্যও নেই। কিন্তু শুধু খাবারের অভাবই নয়, এ বছর আরও কিছু চিরতরে হারিয়ে গেছে। ৪৮ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। বহু পরিবার সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তাদের নাম পর্যন্ত মুছে গেছে সরকারি তালিকা থেকে। তারা আর কখনো রমজান পালন করবে না। অসংখ্য ইফতার টেবিলে থাকবে শূন্য আসন—একজন বাবা, যিনি আর সন্তানদের ডাকবেন না; এক ছেলে, যে আর অধীর আগ্রহে ইফতারের অপেক্ষা করবে না; এক মা, যার হাতে তৈরি খাবারের স্বাদ আর কেউ পাবে না। লেখিকাও তার আপনজনদের হারিয়েছেন। তার খালার স্বামী, যিনি প্রতি বছর ইফতারে ডাকতেন, নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার বন্ধু শাইমা, লিনা ও রোয়া—যাদের সঙ্গে মসজিদে তারাবির নামাজ পড়তেন—তারা সবাই শহীদ হয়েছে। যদিও উৎসবের রঙ ফিকে হয়ে গেছে, তবু রমজানের প্রকৃত সত্তা রয়ে গেছে। এই মাস আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের সময়। গাজার মসজিদগুলো হয়তো ধ্বংস হয়েছে, কিন্তু বিশ্বাস অটুট রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের মাঝে, তাঁবুর নিচে হলেও, তারা তারাবির নামাজ আদায় করবে। তারা দোয়া করবে, কোরআন তিলাওয়াতে সান্ত্বনা খুঁজবে, এই বিশ্বাস নিয়ে যে, তাদের কষ্টের প্রতিদান একদিন তারা পাবেই।

মার্চ ০১, ২০২৫
footer small logo

Design & Developed by:

developed-company-logo