
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। এটি একটি আয়াতের অংশ; কেউ কেউ একে পূর্ণাঙ্গ আয়াতও বলেছেন। আয়াত হোক বা আয়াতাংশ—‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’-এর রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। কেউ ফরজ হুকুম পালনের পাশাপাশি বিসমিল্লাহর আমল করলে আল্লাহ তাআলা তাকে বরকত ও কল্যাণ দান করেন। বিসমিল্লাহ হৃদয়ে প্রশান্তি আনে, কাজে আত্মনিবেদিত হতে প্রেরণা জোগায়, আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা বাড়ায় এবং জীবনকে আলোকিত করে। এর রয়েছে অফুরন্ত বরকত ও অনন্য উপকারিতা।
বিসমিল্লাহর অন্যতম উপকারিতা হলো কোরআনের অনুসরণ। কোরআনুল কারিম আল্লাহর পক্ষ থেকে মানবজাতির প্রতি শ্রেষ্ঠ উপহার। এর প্রতিটি সুরায় রয়েছে নূর ও হিদায়াত। পবিত্র এই কিতাবের প্রতিটি সুরার শুরুতে রয়েছে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। ১১৪টি সুরার মধ্যে সুরা তওবা ছাড়া বাকি
বিসমিল্লাহর আরেকটি উপকারিতা হলো আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষিতা বৃদ্ধি। বিসমিল্লাহ বলার মাধ্যমে মানুষ প্রতিমুহূর্তে তার জীবনের গতিবিধি একমাত্র আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে রাখে এবং তাঁর আনুগত্য স্বীকার করে। প্রতিটি কাজে আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষিতাই বান্দার সফলতা বয়ে আনে। একই সঙ্গে বিসমিল্লাহ নবীদের পবিত্র অভ্যাসের অনুকরণ। পূর্ববর্তী নবীদের জীবনাদর্শেও এর উপস্থিতি লক্ষণীয়। হজরত নূহ (আ.) মহাপ্লাবনের সময় নৌকায় আরোহণকালে বিসমিল্লাহ বলে আল্লাহর সাহায্য কামনা করেছিলেন। কোরআনে এসেছে, ‘তোমরা এ নৌকায় আরোহণ কর। এর চলাও আল্লাহর নামে এবং নোঙর করাও।’ (সুরা হুদ : ৪১)। হজরত সুলায়মান (আ.)-এর চিঠিও বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু হয়েছিল। (সুরা নামল : ২৯-৩০)।
সর্বব্যাপী আল্লাহর রহমত ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ-এরও মাধ্যম বিসমিল্লাহ। ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’-এ পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নাম রয়েছে। ফলে বান্দা আল্লাহর দয়া ও রহমতের আশ্রয় গ্রহণ করে। ওজু, নামাজের প্রস্তুতি, পানাহারসহ বিভিন্ন কাজে বিসমিল্লাহ বলার মাধ্যমে আল্লাহর দয়া ও রহমত কামনার পাশাপাশি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করা হয়। এতে অন্তরে বিনয় ও নম্রতা তৈরি হয়। আল্লাহর শোকর আদায় বান্দাকে আল্লাহর প্রিয় করে এবং নিয়ামত বৃদ্ধি করে। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা কৃতজ্ঞ হলে তোমাদের অবশ্যই অধিক দেব আর অকৃতজ্ঞ হলে অবশ্যই আমার শাস্তি হবে কঠোর।’ (সুরা ইবরাহিম : ৭)।
বিসমিল্লাহর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা হলো সুসংবাদ ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। হজরত আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ‘বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, ওয়া লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বললে তাকে বলা হয়—তুমি হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছ, রক্ষা পেয়েছ ও নিরাপত্তা লাভ করেছ। ফলে শয়তান তার থেকে দূরে সরে যায়। (সুনানে আবু দাউদ : ৫০৯৫)। মহান আল্লাহ সবাইকে বিসমিল্লাহর গুরুত্ব বোঝার এবং তা জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
টি/