ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল। পাহাড়ি ঢল আর টানা বৃষ্টিতে মুহুরী, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্লাবিত হচ্ছে। শত শত গ্রামে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। পানির তোড়ে ভেসে গেছে ফসলী জমি, মাছের ঘের, গবাদিপশু হাস-মুরগীর খামার।
সকালে ফেনী শহরের জলবদ্ধতার কিছুটা উন্নতি হলেও ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মুহুরী ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তত ১৪টি স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। পানি বইছে বিপদসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে। এতে পানিবন্দী অন্তত ২০ গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। ফেনীতে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা জেলায় বিগত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
নোয়াখালীতে

গত ২৪ ঘন্টায় ২০৮ মিলি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে জেলা আবহওয়া অফিস। এতে ডুবে গেছে এই অঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকা। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারনে জেলায় ১ দিনে পানি বেড়েছে ১৭ সেন্টিমিটার। তবে পনি এখনো বিপদসীমার ১ সেন্টি মিটার নিচে রয়েছে।
৫ দিনের টানা বর্ষণে উপকূলীয় জেলা ভোলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপকূলের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন শত শত পরিবার। বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে গেছে লঞ্চঘাট। এদিকে নি¤œচাপের কারণে নদী উত্তাল থাকায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভোলা থেকে বরিশাল, লক্ষীপুর, মনপুরা, আলেকজেন্ডারসহ সব রুটের লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এদিকে, ভারি বর্ষণের কারণে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় পাহাড় ধসের শংকা দেখা দিয়েছে। বেশ কয়েকটি বিপজ্জনক এলাকায় বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। স্থানীয়দের সতর্ক করার জন্য করা হচ্ছে মাইকিং।
সাগরে লঘুচাপের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। প্লাবিত হয়েছে বসতঘর, ভেসে গেছে ফসলের ক্ষেত ও মৎস্যঘের। ভেঙে পড়েছে স্যানিটেশন ব্যবস্থা। এতে চরম বিপাকে বানভাসী মানুষ। সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিস জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় সাতক্ষীরায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটি আগামী ২ দিন অব্যাহত থাকতে পারে।