পাকিস্তানে কাটেনি অনিশ্চয়তা, নির্বাচনে জয়ের ঘোষণা সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রীর

পাকিস্তানে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণাকে ঘিরে এখনও কাটেনি অনিশ্চয়তা। সর্বশেষ পাওয়া ফলাফল থেকে দেখা যাচ্ছে সরকার গঠন করার জন্য এককভাবে কোনো দলই পরিষ্কার সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। তা না হলেও পাকিস্তান মুসলিম লীগের (পিএমএল-এন) শীর্ষ নেতা নওয়াজ শরীফ এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) শীর্ষ নেতা ইমরান খান, এই দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রীই নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। খবর আলজাজিরার।

এদিকে, গতকাল শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাত পর্যন্ত পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের ২৬৬টি আসনের মধ্যে ২৬৫টি আসনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পূর্ণ ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। এখনও ফলাফল ঘোষণা হয়নি নয়টি আসনের। এ ছাড়া একটি আসনে আগে থেকেই নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল।

সর্বশেষ ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী ইমরান খানের পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন জাতীয় পরিষদের ১০২টি আসনে। ৭৩টি আসন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে নওয়াজ শরীফের পিএমএল-এন। এরপরেই অবস্থান বিলাওয়াল ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি)। এই দলটি পেয়েছে ৫৪টি আসন।

কারাবন্দি ইমরান খানের অবর্তমানে দলের নেতৃত্বে থাকা পিটিআই চেয়ারম্যান গহর আলি খান আস্থার সঙ্গে বলেছেন তার দল জাতীয় পরিষদে এবং পাঞ্জাবের প্রাদেশিক পরিষদে নেতৃত্ব দেবে। পাশাপাশি খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশেও দলটি জয়লাভ করেছে।

তবে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে পিএমএলের নওয়াজ শরীফ বলেছেন তিনি জোট সরকার গঠনে উদ্যোগ নিচ্ছেন।

অন্যদিকে, পিপিপি’র বিলাওয়াল ভুট্টো জানিয়েছেন, তার দলকে সঙ্গী না করে কেন্দ্রীয় সরকারসহ পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানে প্রাদেশিক সরকার গঠন সম্ভব নয়।

তবে বিভক্ত জনসমর্থন নিয়ে ২৪ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার দেশটিতে গত দুই বছর ধরে যে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা চলছে তা থেকে বেরিয়ে কে সরকার গঠন করার ঘোষণা দিতে যাচ্ছে তা এখন একটি বড় প্রশ্ন।

নির্বাচন বিশ্লেষকরা সরকার গঠন নিয়ে দুটো দৃশ্যপটের আভাস দিচ্ছেন। এর একটি হলো সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি জোট সরকার যেখানে থাকবে না পিটিআিই। এই জোটে থাকতে পারে দুই বড় রাজনৈতিক দল পিএমএল-এন এবং পিপিপি যাদের সঙ্গে সমর্থক হিসেবে থাকতে পারে এমকিউএম, জামায়াতে ইসলামি ও অন্যরা।

দ্বিতীয় দৃশ্যপটটি হতে পারে সম্ভাব্য কৌশলগত সমাধানের মাধ্যমে যেখানে পিপিপি সরকার গঠনে যোগ দিবে পিটিআইয়ের সঙ্গে। কেননা পিটিআইয়ের রয়েছে স্বতন্ত্র সদস্যদের মাধ্যমে পাওয়া সবচেয়ে বেশি আসন।

এদিকে, নির্বাচনে ভোট গ্রহণের দুদিন পরেও পূর্ণ ফলাফল প্রকাশ করতে না পারায় নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে পাকিস্তান জুড়ে।