গাজার অধিবাসীরা ভয়ঙ্কর বিপদে : ডব্লিউএইচও

দ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে প্রচণ্ড ক্ষুধা ও হতাশার প্রতি দৃষ্টিপাত করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুস বলেছেন, গাজার অধিবাসীরা ভয়ঙ্কর বিপদে রয়েছেন। খবর এএফপির।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার সংস্থাটি গাজার ৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে কেবল ১৫টিতে চিকিৎসার উপকরণ সরবরাহ করতে পেরেছে। তবে এই হাসপাতালগুলোও কোনোমতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

ডব্লিউএইচওর প্রধান তেদরোস আধানম গাজা উপত্যকার অধিবাসীরা যে ভয়ঙ্কর বিপদের মুখোমুখি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণে জরুরি পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। এ ছাড়া গুরুতর রোগের ঝুঁকিতে থাকা ক্ষুধায় কাতর মারাত্মকভাবে জখম হওয়া লোকজনকে সাহায্য করতে নিয়োজিত সাহায্যকর্মীদের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্যও ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

এক বিবৃতিতে ডব্লিউএইচও প্রধান জানান, তাদের কর্মীরা বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) চিকিৎসা সামগ্রীর বহর নিয়ে যাবার সময় ক্ষুধার্ত মানুষ সেগুলো থামিয়ে খাবার খুঁজতে থাকে। ওষুধ, চিকিৎসা সামগ্রী ও হাসপাতালের জন্য জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে যাবার পথে, এমনকি হাসপাতাল পর্যন্ত ক্ষুধার্ত ও বেপরোয়া মানুষ সেগুলোকে অনুসরণ করতে থাকে।

গাজা উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী এই যুদ্ধের শুরু হয় গত ৭ অক্টোবর যখন ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ঢুকে এক হাজার ১৪০ জনকে হত্যা করে। নিহতদের বেশিরভাগই ছিল সাধারণ মানুষ। এ ছাড়া হামাস ২৫০ জনকে অপহরণ করে, যাদের মধ্যে ১২৯ জন এখনও গাজার অভ্যন্তরে রয়েছেন।

এ ঘটনার পাল্টা জবাব দিতে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় স্থলপথে সামরিক অভিযানের পাশাপাশি বিমান থেকে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করছে। অব্যাহত হামলায় গাজায় ইতোমধ্যে ২১ হাজার ১১০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নিরীহ শিশু ও নারী।

এমন পরিস্থিতিতে সেখানে উদ্ধার তৎপরতা চালাতে ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করার বিষয়ে তেদরোস আধানম গ্রেব্রেয়াসুস বলেন, ‘আমাদের কর্মীদের নিরাপত্তা ও সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে গাজায় অতি দ্রুত আরও খাদ্য সহায়তা সামগ্রী পাঠানোর ওপর।’

গত সপ্তাহে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে গাজায় নিরাপদ ও বিঘ্নহীনভাবে মানবিক সহায়তা সামগ্রী পাঠানোর কথা বলা হয়। তবে, এতে তাৎক্ষণিক যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে তেদরোস আধানম বলেন, ‘এই প্রস্তাব মানবিক সাহায্য সামগ্রী বিতরণে আশার সঞ্চার করেছে। তবে দুঃখজনক হলো, এর বাস্তব কোনো প্রতিফলন এখনও দেখা যাচ্ছে না।’

ডব্লিউএইচও প্রধান আরও বলেন, ‘এই মুহূর্তে জরুরিভাবে আমাদের যুদ্ধবিরতি দরকার, যা বেসামরিক লোকজনকে সহিংসতা থেকে বাঁচাবে এবং পুনর্গঠন ও শান্তির পথের দীর্ঘ যাত্রাকে নিশ্চিত করবে।’