বাংলাদেশ-চীনের সহযোগিতায় কেউ হস্তক্ষেপের চেষ্টা করবে না : চীনের রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন অংশীদার এবং সত্যিকারের বন্ধু হলো চীন। সর্বোপরি এই সম্পর্ক ও বন্ধুত্বকে সারাদেশের সর্বস্তরের মানুষ ব্যাপকভাবে সমর্থন করে।

গতকাল মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) রাতে দূতাবাসে ২০২৩ সালের চীন সরকারের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বাংলাদেশিদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতায় হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টা কেউ প্রতিধ্বনিত করবে না।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইআরডির উইং চিফ অতিরিক্ত সচিব আনোয়ার হোসেন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. মো. আলম মোস্তফা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতির পাশাপাশি মাঝে মাঝে কিছু বিরক্তিকর আওয়াজ উঠে আসছে। বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা দুই দেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত বন্ধুত্ব অনেক গভীরে নিহিত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা ছাড়া এটা অসম্ভব ছিল।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এই মূল্যবান অর্জনটি আপনার মতো বিভিন্ন খাত ও অবস্থানের অবদানকারীদের দ্বারা যৌথভাবে অর্জিত হয়েছে, তাই এটি হৃদয় দিয়ে লালন করা উচিত এবং যত্নসহকারে বজায় রাখা উচিৎ।’

রাষ্ট্রদূত ইয়াও বলেন, ‘তথাকথিত চীনের ফাঁদ নিছক বানোয়াট’ বরং এই প্রকল্পগুলো চীনের উপকারে আসে। চীনের লভ্যাংশ এবং চীনের সুযোগ বাংলাদেশের জনগণের জন্য। কাজ করেই আমরা বিশ্বকে দেখাব সত্যিকারের বন্ধু এবং সেরা অংশীদার বলতে আসলে কী বোঝায়।

সম্প্রতি শেষ হওয়া তৃতীয় বেল্ট অ্যান্ড রোড ফোরাম ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা করার জন্য আটটি বড় পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও বলেন, ‘আগামী বছর চীন আরো দ্বিপক্ষীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রদান করবে, যা আরও বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি অংশগ্রহণকারীকে উপকৃত করবে।’

বর্তমানে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রতি সপ্তাহে ৫০টি ফ্লাইট চলাচল করছে এবং সাপ্তাহিক ভিত্তিতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ আমাদের দুই দেশ থেকে যাতায়াত করে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এই মুহূর্তে, আপনাদের জন্য আমার কাছে আরও একটি সুসংবাদ রয়েছে। তা হলো- ঢাকা থেকে বেইজিং পর্যন্ত আরও সরাসরি ফ্লাইট খুব শিগগিরই চালু করা হবে, যাতে আরও বৈচিত্র্যপূর্ণ ফ্লাইটের বিকল্প চালু করা যায় এবং জনগণের মধ্যে বিনিময় আরও সুবিধাজনক হয়।’

ইয়াও ওয়েন বলেন, বিআরআই বাংলাদেশের জন্য উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশংসা করেছেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এই দরজা কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মেগা প্রকল্পবহন করে না, বরং দু’দেশের জনগণের মধ্যে আদান-প্রদান এবং পারস্পরিক শিক্ষাকেও উৎসাহিত করে।’

চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলো ভালভাবে বাস্তবায়িত এবং দ্বিপক্ষীয় বিনিময়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসাবে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যার ফলে চীন-বাংলাদেশ কৌশলগত অংশীদারিত্বকে সহযোগিতার একটি নতুন স্তরে নিয়ে আসা যায়।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ শুধু ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশীই নয়, কৌশলগত অংশীদারও।

ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে আদান-প্রদান ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠ হয়েছে এবং অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সহযোগিতা ফলপ্রসূ ফলাফল বয়ে এনেছে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’

রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন টানা ১৩ বছর ধরে বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে টিকে আছে।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও  ওয়েন বলেন, ‘চীন বাংলাদেশের জন্য বৈদেশিক বিনিয়োগের একটি প্রধান উৎস। যার মধ্যে ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ স্টক এবং আরও বহুমুখী বিনিয়োগের খাত অনুসন্ধান করা হচ্ছে।’

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৭০০ চীনা কোম্পানি নিবন্ধিত রয়েছে, তারা ৭টি রেলপথ, ১২টি সড়ক, ২১টি সেতু ও ৩১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে।

বাংলাদেশে চীন সরকারের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রায় সাড়ে ৫ হাজার বাংলাদেশি কর্মকর্তা, কারিগরি বিশেষজ্ঞ, তরুণ পণ্ডিত এবং মিডিয়া প্রতিনিধিদের চীনে প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য প্রেরণ করেছে এবং সকল সেমিনার সকলের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, ২০২৩ সাল চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার বছর।

গত আগস্টে জোহানেসবার্গে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত চার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সরাসরি বৈঠক করেন।