গাছ কাটার প্রতিবাদে আন্দোলন ,কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস ডিএসসিসির

গাছ কাটার প্রতিবাদে আন্দোলন ,কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস ডিএসসিসির

রাজধানীর ধানমন্ডি সাতমসজিদ সড়কের সড়ক বিভাজক সংস্কারের জন্য ‘নির্বিচারে’ কয়েকশো দেশীয় প্রজাতির গাছ কাটার প্রতিবাদে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ভবন ঘেরাও করতে গিয়ে পুলিশের বাধার পর ‘কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস’ পেয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

রবিবার (২১ মে) নগর ভবনের সামনে সমাবেশ করতে যান তারা। এসময় পুলিশের বাধার মুখে পড়েন তারা।

আন্দোলনকারীদের দাবি, মেয়র বা সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের তাদের সামনে এসে জবাবদিহি করতে হবে। একইসঙ্গে নতুন করে গাছ কাটা বন্ধসহ নতুন করে দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগাতে হবে।

সাতমসজিদ সড়ক গাছ রক্ষা আন্দোলন সংগঠনটি থেকে দাবি জানানো হয়, ধানমন্ডি সাত মসজিদ সড়কসহ ঢাকার পাবলিক পরিসরে উন্নয়নের নামে যখন-তখন গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে; সড়কের গাছ কাটা বন্ধ করে কাটা গাছের স্থানে বৈচিত্র্যময় দেশীয় প্রজাতির গাছের চারা লাগাতে হবে; জনগণের করের টাকায় একবার গাছ লাগানো এবং আরেকবার গাছ কেটে আবার গাছ লাগানোর নতুন প্রকল্প গ্রহণের নামে অর্থ আত্মসাতের গাছ-বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে এবং নগর উন্নয়নে প্রকৃতিভিত্তিক পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দিয়ে বৃক্ষ ও নগরবাসীবান্ধব সুনির্দিষ্ট নীতিমালা গ্রহণ করতে হবে।

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর থেকে গাছ কাটার প্রতিবাদে মিছিল নিয়ে নগরভবন অভিমুখী রওনা দেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের সামনে পুলিশ তাদের বাধা দিলে সেখানেই তারা অবস্থান নেন। এর পরিপেক্ষিতে প্রায় ঘণ্টাখানেক পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানসহ আরো কয়েকজন কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের দাবি শোনেন এবং এ সকল দাবি পূরণের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে কথা বলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, উন্নয়ন কাজে কিছু গাছ কাটা পড়েছে। নগরের যে কোনও উন্নয়ন কাজ সিটি করপোরেশনের প্রকোশলী, নগর পরিকল্পনাবিদসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়। যেসব গাছ কাটা হয়েছে সেখানে নতুন করে গাছ লাগানো হবে। এছাড়া আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো মেয়র মহোদয় নিকট নিয়ে যাওয়া হবে এবং পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান ডিএসসিসির এই নির্বাহী কর্মকর্তা।

আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক আমিরুল রাজিব বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের কর্মসূচি পালন করতে চেয়েছি। কিন্তু কোনও উসকানি ছাড়াই পুলিশ আমাদের বাধা দিয়েছে। যারা আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন তাদের কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করে আমরা গণমাধ্যমে জানাবো।