রিজার্ভ চুরির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা

জাতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক :

কথা রাখলেন ড.মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন  এবং তার  নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি। নির্ধারিত ৭৫ দিনের মধ্যেই রিজার্ভ চুরির পূর্নাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট তুলে দিলেন অর্থমন্ত্রীর হাতে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট এখন অর্থমন্ত্রীর হাতে। সোমবার দুপুরে, সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেয় সাবেক গভর্নর ডক্টর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ এবং সদস্য সচিব অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব গোকুল চাঁদ দাস

তবে ২৭ পৃষ্ঠার এই রিপোর্টে কি উঠে এসেছে, সে বিষয়ে সামান্যই জানালেন তদন্ত কমিটির প্রধান ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। এর আগে ২০ এপ্রিল যে অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট জমা দিয়েছিলেন তার সাথে অনেক ফারাক এই পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের। তবে রিপোর্টে উঠে এসেছে সুইফট কর্তৃপক্ষের দায়, আর বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের ভূমিকা।

ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, এ ঘটনার দায় এড়াতে পারে না সুইফট। রিপোর্টে উঠে এসেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদেরও ভূমিকার বিশ্লেষণ।

রিপোর্টটি নিয়ে তাৎক্ষনিক মন্তব্য করেননি অর্থমন্ত্রী। আবার রিপোর্টের বিষয়টি গোপনও রাখতে চান না। আর অর্থমন্ত্রী জানালেন, শিগগিরই এটি জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন ‘এখনো প্রতিবেদনটি পড়েননি। তবে ১৫-২০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হবে’।

এর আগে, ফরাসউদ্দিন যখন তার অন্তর্বর্তীকালীন বিষয়বস্তু তুলে ধরছিলেন, তখনও তিনি সুইফট কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছিলেন। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জড়িত নন বলেও জানিয়েছিলেন।

তবে পূর্নাঙ্গ রিপোর্টে ব্যাংক কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে কিনা তা পরিষ্কার করেননি তদন্ত কমিটির প্রধান ফরাসউদ্দিন।

গত ফেব্রুয়ারিতে, হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশের রিজার্ভের ৮০০ কোটি ডলার চুরি করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮০০ কোটি টাকা চুরির ঘটনায় অর্থমন্ত্রণালয় ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে গেলো মার্চে। আর তাদের রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য ৭৫ দিন সময় দেয়া হয়। আর তদন্ত কমিটি ঠিক ৭৫ তম দিনেই তাদের রিপোর্ট দিল অর্থ মন্ত্রীর কাছে।