বিদায় জাদুকর রোনালদিনহোর

স্পোর্টস


ব্রাজিলীয় ক্লাব ফ্লুমিনেনসের হয়ে ২০১৫ সালে সর্বশেষ পেশাদারি ফুটবল মাঠে নেমেছিলেন রোনালদিনহো । অবশেষে পাকাপাকিভাবেই ফুটবলকে বিদায় জানালেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী তারকা রোনালদিনহো। তাঁর এজেন্ট রাবার্তো অ্যাসিস ইংলিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের কাছে এই খবর নিশ্চিত করেছেন। গত তিন বছর নিভৃতেই ছিলেন। গত জুলাইয়ে একটি প্রীতি ম্যাচে অংশ নিয়ে বলেছিলেন, পেশাদারি ফুটবলে ফেরার বয়স আর নেই তাঁর।রাশিয়া বিশ্বকাপের পরপরই রোনালদিনহোর বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। পেশাদারি ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার তিন বছরের মাথায় বিদায়ী সংবর্ধনা আয়োজিত হবে ব্রাজিলীয় তারকার জন্য। মেসি-রোনালদোর আবির্ভাবের আগে দিয়ে ফুটবল বিশ্ব বুঁদ হয়ে ছিল রোনালদিনহোর জাদুতে। অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে তাঁর খেলায় ছিল নানামুখী বৈচিত্র্য। ২০০২ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ছিলেন। ২০০৬ সালে ১৪ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে বার্সেলোনাকে জিতিয়েছিলেন চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। মেসির ক্যারিয়ারের শুরুতে ছিলেন তাঁর বড় ভাই, বন্ধু, পথপ্রদর্শক। গ্রেমিওর হয়ে পেশাদারি ফুটবল শুরু করা রোনালদিনহো ইউরোপে খেলেছেন মিলান ও পিএসজিতেও। ২০১১ সালে দিনি ব্রাজিলে ফেরেন। ফ্ল্যামেঙ্গো, অ্যাটলেটিকো মিনেইরো, কুয়েরেতারো ও ফ্লুমিনেনসের হয়ে ক্যারিয়ারের শেষের দিনগুলো কাটিয়েছেন। ২০১১ সালে মিলানকে সিরি ‘আ’র শিরোপা জিতিয়ে প্রমাণ করেন ফুটবলকে দেওয়ার মতো অনেক কিছুই তখনো বাকি ছিল। ২০০৬ সালে বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর ২০১০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলীয় দলে নির্বাচিত হননি। উদ্দাম জীবনে অভ্যস্ত রোনালদিনহো বিতর্কেও জড়িয়েছেন বেশ কয়েকবার মাঠের বাইরের জীবনে লাগাম পরাতে পারলে সর্বকালের সেরাদের ছোট তালিকায় সব সময়ই উচ্চারিত হতো তাঁর নাম। অনেকে বলেন, ক্যারিয়ারের শেষটা যে রাঙিয়ে যেতে পারলেন না, এর দায় তাঁরই। ফুটবলকে অনেক দিয়েছেন, তবে হয়তো আরও অনেক কিছু দিতে পারতেন। এই আক্ষেপ সঙ্গে নিয়েই বিদায় নিলেন রোনি ।