বাঘের খাঁচায় জিম্বাবুয়ের অসহায় আত্নসমর্পণ

গ্যালারী নিউজ স্পোর্টস

প্রস্তুতি ম্যাচে ২৭৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শক্তিশালী বিসিবি একাদশের বিপক্ষে ২০ বল বাকি থাকতেই ৭ উইকেটের বড় জয় জিম্বাবুয়ে দলের খেলোয়াড়দের মধ্য শক্তিশালী এক রসদি জুগিয়েছিল। আবাস দেখা দিয়েছিল, প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ এক ওয়ানডে সিরিজের। তবে তার ছিটেফোঁটাো পরিলক্ষিত হয়নি প্রথম ওয়ানডেতে।

বাংলাদেশের ছুড়ে দেয়া ২৭৪ রানের লক্ষ্য ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ১২৮ রানেই থেমে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস। ১৪৫ রানে বিশাল জয় পায় বাংলাদেশ। গোড়ালির চোটের কারণে জিম্বাবুয়ের শেষ ব্যাটসম্যান মুতুম্বামি আর ব্যাট করতে নামেননি।

মিরপুর মাঠে এখন সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকের নাম সাকিব আল হাসান। অন্তসত্তা স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে রেখে এসে ক্রিকেট মাঠে স্ত্রীর দেয়া অনুপ্রেরণার সাফল্যটা ভালভাবেই কাজে লাগালেন। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ৫উইকেট তুলে নিয়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপ একেবারে দুমড়ে মুচড়ে দেন।

অন্যদিকে ডেঙ্গু থেকে মাঠে ফিরেই নিয়ে বাংলাদেশ দলপতি মাশরাফি নিজের পকেটে পুরেন সিকান্দার রাজা আর এমএন ওয়ালারের উইকেট। এরই সাথে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে ব্যক্তিগত ২০০ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেন।

এছাড়া ১টি উইকেট নেন দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফেরা আল আমিন। শেষ উইকেট তুলে নিয়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ে শেষ পেরেকটি মারেন নাসির।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন এলটন চিগুম্বুরা। এছাড়া এলএম জাঙয়ে ৩৯ এবং গ্রায়েম ক্রিমার করেন ১৫ রান।

এর আগে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই শূন্য রানে ফিরে যান লিটন দাস। দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে টিনাশে পানিয়াঙ্গারার বলে বোল্ড হয়ে ব্যক্তিগত ৯ রানে আউট হন মাহমুদউল্লাহ। এরপর তামিম ইকবালের সঙ্গে জুটি গড়ে সতর্ক ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের ইনিংস টেনে নিতে থাকেন মুশফিকুর রহিম।

তামিম আউট হন ৪০ রানে। এরপর সাকিব আল হাসানও বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি। ১৬ রানে স্ট্যাম্পড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। পঞ্চম উইকেটে সাব্বির রুম্মনকে নিয়ে ১১৯ রান যোগ করে বড় স্কোরের ভিত গড়েন মুশফিক।

সাব্বির ৫৭ রানে ফিরে গেলেও ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিকুর রহিম। রান আউট হওয়ার আগে তিনি করেন ১০৭ রান।

শেষ দিকে- মাশরাফি ১৪ ও আরাফাত সানির ১৫ রানের সুবাদে ৯ উইকেটে ২৭৩ রান করে বাংলাদেশ।

শেষ পর্যন্ত অনবদ্য শত রান আর উইকেটের পেছনে দুইটি দারুণ ক্যাচের দরুণ ম্যান অফ দ্যা ম্যাচের পুরষ্কার তুলে নেন মুশফিকুর রহিম।