একটি সামান্য আইসিটি বিষয়ক সফলতার গল্পঃ

তথ্যপ্রযুক্তি

একটা সময় ছিল আমি একদমেই কপি-পেস্ট করতে পারতাম না ।
কম্পিঊটার কি তাও জানতাম না ।
প্রবল আকর্ষণ ছিল কম্পিউটা্রের প্রতি ।
তাই মাধ্যমিকে ৪র্থ বিষয় নিলাম কম্পিঊটার, দুঃখের বিষয় স্কুলে যে কম্পিউটার ছিল তা অকেজো হয়েছিল।
কম্পিঊটার শেখাতো দুরের কথা ,কম্পিঊটার ছুইতেউ পারলাম না। বড় আসফোস রয়ে গেল।
ক্লাস সেভেনে এ থাকা অবস্থায় বড় ভাই মোবাইল কিনে আনায় ইন্টারনেটের উপর বেশ নেশা হল।তখন ফেইসবুক ছিল না।এলাকায় বাবার টেলিকম দোকানে বসতাম । সেক্ষেত্রে মেগাবাইট কেনা তেমন ব্যাপার ছিল না
যাইহোক, উচ্চ-মাধ্যমিক শেষ করে ঢাকায়, প্রাইভেট-ইউনির্ভাসিটিতে কম্পিঊটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ভর্তি হলাম ।
একটু একটু কম্পিউটার জানি ।
২০০৯ সালে জিয়া বন্ধুর বড় ভাই আলীমুল রাজী,উনি একটা সফটওয়ার কোম্পানির প্রজেক্ট ডিরেক্ট্রর ছিলেন ।
বাংলাদেশে একটা জবসাইট খুলব তাই ওনার কাছে গেলাম ।
ওনি জবসাইট খুলে দিল,সেটা জুমলায় ছিল।
আমি সেটা ঘাটাঘাটি করে সব কিছু শিখলাম কিন্তু কি শিখলাম , তাও জানি না ।
৬ মাস পরে জানতে পারলাম আমি জুমলা শিখেছি ।আমি একা একা সবসময় ঘাটাঘাটি করতাম।
জব-সাইট ভালই চলছে, যে কয়েকজন র্পাটনার ছিল ,তখন তারা এমএল (ডেসটিনির) তে কাজ করা শুরু করল।
টাকার অভাবে ২ বছর পর সেটি বন্ধ হল।
আমার তখনো কোন ল্যাপটপ ছিল না।
ঢাকায় এসে প্রাইভেট ইউনিভাসিটিতে পড়ে, আব্বার কাছে অনেক টাকাই নিয়েছি ।
তাই ল্যাপটপ নিজের টাকা দিয়েই কিনব, কারন টাকা চাওয়াটা নিজের কাছে কেমন জানি লজ্জা লাগত ।
বন্ধুদের প্রোগাম ও ডিজাইন শেখাতে গিয়ে নিজেউ অনেক কিছু শেখেছি।
কিছুদিন পরে আমার কিছু ইনকাম ও আব্বার টাকায় ল্যাপটপ কিনলাম।
জুমলায় আমাদের ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটের প্রজেক্ট করলাম।তখন জুমলায় এক্সর্পাট ছিলাম ।
শুরু করলাম ছোট একটা সোসাল সাইট এলাহান ডট কম। ৬ মাসেই ৩ লক্ষ ইউজার হল ।
সেই সময় একা একা এত কিছু বুজতাম না । এত ইউজার সেজন্য ডেডিকেটেট সার্ভার লাগে ।কিন্তু এত টাকা পাব কোথায়? তাই আবারও টাকার অভাবে সাইট বন্ধ।
আবার কিছুদিন পরে ২০১১ সালে প্ল্যান করলাম,নিজেই হোস্টিং ব্যবসা শুরু করব। অনেকের কাছে গেলাম । বিজনেস পার্টনার বানানোর জন্য কিন্তু কেউ টাকা দিতে রাজি না।
তাই ২০১২ সালে আমার ছোটবেলার দোস্ত ও আমার ১০ হাজার টাকা দিয়ে এই ব্যবসা শুরু করলাম।তখন আমি ছোট একজন ছোট উদ্যোক্তা।
এটা শুরু করে সার্ভার বিষয়ে অনেক কিছু জানলাম। ব্যবসায় ৩ মাস কোন ইনকাম করতে পেলাম না। এর পরে ব্যবসায় লাভও নেই লসও নেই । এবার অনেকেই আমার বিজনেস পার্টনার হতে চাইল। একজন কে ব্যবসায় পার্টনার না নেয়ায় আমাকে হুমকিও দিয়েছিল ।প্রথম বড় প্রজেক্টে লস করেছিলাম।
মাঝখানে বাংলাদেশী আউটর্সোসিং কোম্পানিতে ৪ মাস জব করে,কোন স্যালারিই পাই নেই ,সেই দিন কান্না করতে করতে বাসায় আসি । এর পরে Symphonysoft এ ৪ মাস জব করি , কিন্তু কোম্পানির ক্রাইসিসে কয়েকজনকে বাসায় বসে আউটসোর্সিং করাতে বলে চাকুরী থেকে বাদ দিয়ে দেয়। সেই থেকে দুঃখ ও ভারাক্রান্ত মনে সিদ্ধান্ত নেই আর কোন দিন চাকুরী করব না ।
অনলাইন র্মাকেটিং করে এখন প্রায় ২০০ এর বেশী ক্লাইন্টস। আর ডোমেইনের ক্লাইন্ট ৫০০ এর বেশী। অনেক ছাত্র ও কিছু নন-প্রফিট কোম্পানিকেউ ফ্রীতে হোস্টিং দিয়েছি ।ভালভাবেই প্রতিষ্ঠা করলাম Hostcoding Corporation .
প্রজেক্টের কাজ করে অনেক টাকাই পেতাম । ২০১২ সাল থেকেই দেশ-বিদেশে একের পর এক প্রজেক্ট করেই চলছি,আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নি । আমার অনেক ছাত্র রয়েছে তারা এখন আমার চেয়েও অনেক বেশী ইনকাম করে ।
যদি কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং না পড়ে অন্য বিষয়ে পড়তাম তাহলে এখনো আমি বেকার থাকতাম। এখনো চাকুরীর পিছনে ধর্না দিতে হত।
আমার জবের জন্য চিন্তা করা লাগে না ।
প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির সময় অনেকেই নিষেধ করেছিল । কিন্তু আমি কারও কথা না শুনে ভাইদের কথায় ঢাকায় প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছিলাম।আসলে ইউনিভার্সিটি কোন বিষয় না, কয়েকটা কোম্পানিতে চাকুরী করেছিলাম,সেখানে দক্ষতাই প্রধান বিষয় ছিল। আমি নিজে নিজেই গুগুলের কাছে সার্চ করেই ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলমেন্ট শেখেছি ।
এখন আমি একটি অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানিতে কান্ট্রি-ম্যানেজার হিসাবে কর্মরত আছি , শ্রীঘই বড় পরিসরে গুছিয়ে নামব এবং আমার ছোট আইটি প্রতিষ্ঠান Hostcoding Corporation এরও কাজ করছি।
ভার্চুয়াল শিক্ষা প্রদানের জন্য অনলাইনে বিনা-মূল্যে বিভিন্ন শিক্ষা দেয়ার জন্য এলানটিচ ডটকম চালু করি ।
গ্রামের মানুষ দেশে বসে বিদেশের ইনকামের(আউটসোর্সিংয়ের) কথা বললে হাসে ।কিন্তু বাংলাদেশে এখন আইসিটি বিষয়ে অনেক বেশী উন্নয়ন ও প্রোগাম করছে।আসলে আমাদের সময়ে গ্রামে এত কিছু উন্নয়ন থাকলে এখন আরো উপরে থাকতে পারতাম ।
এখন আমি আইসিটি , মিডিয়া ও টূরিজম নিয়ে কাজ করছি।
আমি একজন উদেক্তা হিসাবে অনেক ভালই আছি।
উদ্যোক্তা হতে হলে আপানাকে অবশ্যই রিক্স নিয়ে কাজ করতে হবে।
সময় পরিবর্তনের সাথে সাথেই প্রোগ্রাম,সফটওয়ারের ভার্সন পরিবর্তন হয় । সে সাথে নিজেকেউ আপগ্রেড করতে হয়। আগে যারা শিখেছে ,তাদেরকেঊ নতুন করে নতুন নতুন সর্বশেষ বিষয়ে শিখতে হয় ।