আজ থেকে প্রতিদিনের ধারাবাহিক ‘লাইফ ইন এ মেট্রো’

গ্যালারী নিউজ বিনোদন হাইলাইট

এটিএন বাংলা ডেস্ক: প্রথমবারের মতো সপ্তাহে ৫ দিন ধারাবাহিক নাটক প্রচার করবে এটিএন বাংলা। নতুন এ ধারাবাহিকের নাম ‘লাইফ ইন এ মেট্রো’। আজ (০১ ফেব্র“য়ারি ২০১৬) প্রচার হবে ধারাবাহিকটির প্রথম পর্ব। ধারাবাহিকটি রবি থেকে বৃহস্পতিবার, রাত ৯টা ২০মিনিটে প্রচার হবে এটিএন বাংলার পর্দায়। রুদ্র মাহফুজের রচনা এব বি ইউ শুভ’র পরিচালনায় নাটকটিতে অভিনয় করেছেন শর্মিলী আহমেদ, দিতি, শহীদুজ্জামান সেলিম, অরুণা বিশ্বাস, অপূর্ব, নীরব, নাজিরা মৌ, নেহা, নাঈম, তানভীর, ইমি, তমালিকা, হীরা, রুমাসহ আরও অনেকে।

ধারাবাহিকটি প্রচার উপলক্ষে গত ২৮ জানুয়ারি বিএফডিসির ৮ নম্বর ফ্লোরে (এটিএন বাংলা স্টুডিও) নাটকটির প্রিমিয়ার শো এর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান। এছাড়া এটিএন বাংলার উর্দ্ধতন কর্মকতা ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাটকের পরিচালক, শিল্পী এবং কলাকুশলীরা। প্রিমিয়ার শো উপলক্ষে অনুষ্ঠানে ফ্যাশন শো এবং গানে পারফর্ম করেন নাটকের অভিনয় শিল্পীরা। তানভীর-নেহা এবং নীরব-নাজিরা মৌ’র পারফরম্যান্স ছাড়াও ছিল র‌্যাম্প মডেল ইমি, হীরা, রুমাসহ অন্যান্যদের ক্যাটওয়াক।

নাটকের কাহিনী সংক্ষেপ:
জীবনের ছন্দ ও আলোয় রাঙা জোনাককে হাতের মুঠোয় বন্দী করতে নিরন্তর ছুটে চলে তারুণ্য। নাগরিক কোলাহলের ভীড়ে কেউ সহজেই সাফল্যের পালক গুঁজে দিতে পারে আপন দিনলিপিতে আবার কেউবা নষ্ট সময়ে হারতে হারতে এক সময় স্রোতের মাঝেই হারিয়ে যায়। অবশ্য পিঠটান করেও দাঁড়ায় অবাক বিস্মিত কোন কোন মানুষ। ব্যস্ত শহর এই ঢাকার জীবনাচারণে দেখা মেলে আনন্দ, দুঃখ ও ভালোবাসার মিশ্র এক মেলবন্ধন। চার’শ বছরের পুরনো এ নগরের পরতে পরতে বয়সের ভারে ন্যুজ্ব স্বপ্ন যেমন রয়েছে তেমনি আছে সৃজন উৎকর্ষতার বিস্ময়। ‘লাইফ ইন এ মেট্রো’ আধুনিক ঢাকার বেশকিছু তরুণের গল্প। যারা কখনো মেধাবী, কর্মদক্ষ, সৃজনশীল, প্রেমিক আবার কখনোবা উশৃংখল, পরিবারের জন্য দুঃস্বপ্ন, বেকার ও মাদকাসক্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া স্মার্ট তরুণ জারিফ, শার্লিন, আরিশা, এ্যানা, শামা, নীল, সৌমিক, প্রীত,রাইসা, লাবণ্য ,তুর্য এবং সারাহ ভিন্ন সমাজিক ও অর্থনৈতিক প্রার্থক্যে বেড়ে উঠলেও সবার মাঝে মিলটা হলো বন্ধুত্বের। এই তরুণদের মধ্যে জারিফ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। মেধাবী ও বেশ স্মার্ট। শার্লিন ধনী পরিবারের মেয়ে। কিছুটা উশৃংখলা জীবনযাপনে সে অভ্যস্ত। চাইলে হাতের কাছে অর্থ হাজির হয় বলেই শার্লিন সবকিছু টাকা দিয়ে মূল্যায়ন করে। আরিশার বাবা ব্যাংকার আর মা চিকিৎসক। উচ্চবিত্ত হলেও আরিশা কখনো জৌলুসপূর্ণ জীবনযাপন করে না। তার ভাষায় জীবনটা সিস্পলি দ্য বেষ্ট। এ্যানা গান পাগল, নিজের একটা ব্যান্ড রয়েছে যদিও তাদের গানের শ্রোতা ব্যান্ড সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। শামার বাবা আকবর আলী পেশায় ব্যবসায়ী আর মা শ্রীজয়া কলেজে বাংলা পড়ান। দু’জন দুই ধর্মের হলেও শামা কখনোই তা বুঝতে পারেনি বাবা-মা’র জীবনাচারণে। শামা ছবি আঁকে। জীবন নিয়ে তার দর্শন হলো-রঙিন নয় সাদাকালোর মাঝেই জীবনের অর্থ খুঁজে পাওয়া যায়। নীলকে সবাই সমীহ করে। নষ্ট ছাত্র রাজনীতির শিকার নীল। তার একটি দল রয়েছে যারা অর্থের বিনিময়ে সব সমস্যার সমাধান করে দেয়। জমি দখল থেকে শুরু করে টেন্ডারবাজিতেও নীলের নাম পুলিশের খাতায় লাল কলমে লেখা রয়েছে। সৌমিকের নেশা ফটোগ্রাফি নিয়ে। ঘুরে ফিরে ছবি নিয়েই তার বিস্তর আলাপ। প্রীত সবার থেকে একটু আলাদা। খবরের কাগজে কাজ করার পাশাপাশি গল্প-কবিতাও লেখে। প্রীতকে নিয়ে আড়ালে সবাই হাসলেও সামনাসামনি বাহবাই দেয়। অন্যদিকে আরিশা, রাইসা, সারাহ এবং লাবণ্য একসাথে একটি ফ্ল্যাটে থাকে। তাদের বাবা মা মফস্বলের বাসিন্দা।
এই তরুণদের পরস্পরের প্রতি পরস্পরের সম্পর্ক, ভালোবাসা, বিরহ, দ্বন্দ্ব, বিশ্বাস-অবিশ্বাস ও সর্বোপরি বন্ধুত্বটা স্পটভাবে উঠে আসবে ‘লাইফ ইন এ মেট্রো’ ধারাবাহিকে। নানান প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও জীবনের জয়গানই মুগ্ধ ক্যানভাসে চিত্রিত হয়ে টেলিভিশন পর্দায় আবির্ভূত হবে ‘লাইফ ইন এ মেট্রো’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে…।