আজ থেকে ডকুড্রামা ‘উজান গাঙের নাইয়া সিরিজ ৩’

গ্যালারী নিউজ হাইলাইট

এটিএন বাংলায় আজ (২২ ডিসেম্বর) থেকে সম্প্রচার শুরু হচ্ছে ডকুড্রামা ‘উজান গাঙের নাইয়া’ এর তৃতীয় সিরিজ। প্রতি মঙ্গলবার রাত ৮.৪০ মিনিটে প্রচারিত হবে নাটকটি। বাশার জর্জিস ও সামির আহমেদের নির্দেশনায় নাটকটির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এমা বজার। বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন এর প্রযোজনায় নাটকটি তৈরি হচ্ছে ডিএফআইডি ও সিআইএফএফ এর অর্থায়নে। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রিয়াজ, লুৎফর রাহমান জর্জ, মৌসুমী হামিদ, নাজমুল হুদা বাচ্চু, ডলি যহুর, শতাব্দী ওয়াদুদ, জ্যোতিকা জ্যোতি, রওনক হাসান, মাজনুন মিজান, অশোক বেপারী, তউসিফ, নাদিয়া, শামিমা ইসলাম তুষ্টি, রিকিতা নন্দিনি শিমু সহ আরও অনেকে।
বছর দুয়েক আগে নিখোঁজ হয়েছিল আমজাদ। গ্রামের সবাই ধরে নিয়েছিলো সে মৃত। আর তাই দু’বছর পরে হঠাৎ করে আমজাদের আবারও গ্রামে ফিরে আসা নিয়ে সবার মাঝেই দেখা দেয় নানা অনিশ্চয়তা। আমজাদকে মৃত ভেবে তার স্ত্রী দীপা যখন আরেকজনকে বিয়ে করতে যাচ্ছিল ঠিক সে সময়ই তার সামনে যেয়ে হাজির হয় আমজাদ। দীপা আবারও নতুন করে ঘর বাঁধে আমজাদের সাথে। চেষ্টা করতে থাকে পাল্টে যাওয়া আমজাদকে চিনে নিতে, বিশ্বাস করতে। গ্রামের মানুষরাও মুখোমুখি হয় মত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা আমজাদকে রক্তমাংসে গড়া একজন মানুষ হিসেবে মেনে নেওয়ার বাস্তবতার। উজান গাঙের নাইয়া’র তৃতীয় সিরিজের চরিত্রগুলোর প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা আবর্তিত হয় সাগরের তীর ঘেঁষা কাল্পনিক জেলে গ্রাম ঈশানপুরে। আর এ গ্রামের কিছু জেলে ও তাদের পারিপার্শ্বিক মানুষের কঠোর জীবন সংগ্রাম, বাস্তবতা এবং সেই সাথে এই সমাজের জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে, বিশ্বাসঘাতকতা, হারানোর বেদনা ও নিজেকে গড়ে তোলার গল্প নিয়েই এগিয়েছে উজান গাঙের নাইয়া’র তৃতীয় সিরিজ। কৌতুক ও উদ্দীপনাপূর্ণ কাহিনী নিয়ে এটি প্রকৃতপক্ষে একটি গ্রাম্য জীবনের গল্প, যা বিনোদনের মাধ্যমে দর্শকদের মাঝে পৌঁছে দিচ্ছে স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক তথ্য।
সিরিজ তিন এর উনিশটি পর্বের মাধ্যমে দর্শকরা দেখতে পাবেন গ্রামের একটি বিশৃঙ্খল পরিবার এবং সেই পরিবারের প্রেক্ষাপটে গর্ভধারণ ও সন্তান লালন পালনের ক্ষেত্রে কী কী সমস্যার সম্মুখীন হয় এবং এসব সমস্যা মোকাবেলায় তারা কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেয় ইত্যাদি নানা বিষয়। নাটকটিতে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী ও সব প্রজন্মের মাঝে, পুরনো রীতি, কুসংস্কার ও ভুলধারণা নিয়ে বেশ প্রাণবন্তভাবে আলোচনা করা হয়েছে। আগের প্রজন্মের জ্ঞান ও তাদের সহায়তা গ্রহণ করার পাশাপাশি সঠিক সময়ে অগ্রগামী ধারণাকে কাজে লাগিয়ে কিভাবে একটি জনসমাজ ইতিবাচক ফলাফল পেতে পারে তা নাটকটিতে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।
একটি আনন্দমূলক পারিবারিক নাটক, উজান গাঙের নাইয়া’র উদ্দেশ্য দর্শকদের নতুন সামাজিক প্রথা আর সঠিক ও যথার্থ আচরণ গ্রহণ করতে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দেওয়া এবং মহিলাদের জন্য নিরাপদ গর্ভকালীন সময় ও প্রসব নিশ্চিত করা। এছাড়া গর্ভবতী নারী ও নবজাতক শিশুদের যতœ নিতে সাহায্য করাও এই নাটকের অন্যতম আরেকটি উদ্দেশ্য। নাটকের মধ্য দিয়ে উঠে আসা নাটকীয় নানা পরিস্থিতি একদিকে যেমন গল্পটিকে দর্শকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলবে ঠিক তেমনি তুলে ধরবে সঠিক গর্ভকালীন পরিচর্যা আর মা ও শিশু পুষ্টি সংক্রান্ত তথ্যের গুরুত্ব। এছাড়া নাটকের চরিত্রগুলোর বিভিন্ন পরিস্থিতির মাঝ দিয়ে উঠে আসবে গর্ভকালীন চেকআপ, প্রসব পূর্ব প্রস্তুতি, নিরাপদ প্রসব এবং নবজাতক শিশুর অবশ্যক পরিচর্যার মতো প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোও।